বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ০৭:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কাউন্সিলর পদে আলোচনার শীর্ষে যুবদল নেতা কিরন ব্যাপারী দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত, মোট মৃত্যু ৫৬০ জন মতলব উত্তরে এসইএল মডেল একাডেমি’ ও ছমির উদ্দিন আহমেদ মেমোরিয়াল মেধাবৃত্তির পুরস্কার বিতরণ ‎সালথায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ ছেংগারচর পৌরবাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন মেয়র পদপ্রার্থী বিএনপি নেতা উজ্জ্বল ফরাজী ভান্ডারিয়ায় জামায়াতের উদ্যোগে অসহায় দরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণ ১ কেজি গাঁজা ও প্রায় ৪ লাখ টাকা উদ্ধার, শ্রীপুরে মাদক কারবারি গ্রেপ্তার আমতলীতে রামিসা সহ সকল ধর্ষণ এর বিচার দাবিতে মানববন্ধন  বগুড়ার শিবগঞ্জে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গাজীপুরে ইমাম গ্রেপ্তার গাজীপুরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন ফুলবাড়িয়ায় সাদাময়না’কে নিয়ে বিপাকে কৃষক পাইকগাছায় অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন: আইনগত ব্যবস্থার দাবি সালথায় হত্যা মামলায় ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক গ্রেপ্তার জৈন্তাপুরে বাংলা টিভির এক দশক পুর্তী উদযাপন সালথার গট্টিতে আর মারামারী না করার দাবী জানিয়ে জাহিদ মাতুব্বরের সংবাদ সম্মেলন প্রতিটি পশুর হাটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে ডিএমপি কমিশনার রাজাপুরে ভেকুর ধাক্কায় প্রাণ গেল এক ব্র্যাক কর্মীর মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে: ওসি আশরাফ রাজধানীর কল্যাণপুরে চালু হলো ‘স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট লালমনিরহাটে জেলা আ.লীগ নেতা জামিনে মুক্তি মিললেও জেলগেটেই ফের আটক ক্যান্সার ও প্যারালাইসিস আক্রান্ত অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াল পজেটিভ কাপ্তাই ঈদযাত্রার চাপে বাড়ছে ভোগান্তির শঙ্কা বিদেশে কর্মসংস্থান: রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় মানবসম্পদ রপ্তানির ধারণা — সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও বাংলাদেশের জন্য কর্মপরিকল্পনা ভাণ্ডারিয়ায় পৃথক অভিযানে গাঁজা গাছ ও ৯০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার শিশুরা শিখবে আনন্দঘন পরিবেশে হেসে খেলে : ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণীতে ফয়সল আহমদ শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জেলা প্রশাসকের নান্দাইলে অতিদরিদ্র সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান গাজীপুরে আগুনে পুড়ল ১১ ভাড়াটিয়ার ঘর, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে এমপি বাচ্চু তুরাগে বিএনপি নেতার ঈদ শুভেচ্ছা: দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

রিভিউ নিষ্পত্তি : বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে ফিরল

নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৪, ৪:১৪ অপরাহ্ন

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের বিধান সংক্রান্ত সংবিধানের বহুল আলোচিত ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা ‘রিভিউ’ আবেদন পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

সেই সাথে ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ থেকে বাতিল ২ থেকে ৮ উপ-অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল (রিস্টোর) করে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আজ আপিল বিভাগ রায় দেন।

এই রায়ের ফলে কোনো বিচারপতির বিরুদ্ধে অসমর্থতা ও পেশাগত অসদাচরণের কোনো অভিযোগ উঠলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা।

এই রায়ের ফলে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় বহাল রইলো এবং বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছ থেকে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে ফিরল বলে জানান আজ শুনানিতে অংশ নেয়া সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আদালতে রিটকারি পক্ষের শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। আদালতের অনুমতি নিয়ে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস করা হয়। ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ন্যস্ত করে সংবিধানের এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে একটি রিট করেন। সে রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। হাইকোর্টের দেয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। সে আপিলের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৩ জুলাই তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে রায় দেন। বহুল আলোচিত ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে, দেশের গণতন্ত্র, রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, সুশাসন, দুর্নীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। তবে আপিল বিভাগের দেয়া সে রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রাষ্ট্রপক্ষ ৯০৮ পৃষ্ঠার এ রিভিউ আবেদনে ষোড়শ সংশোধনীর পক্ষে ৯৪টি যুক্তি দেখিয়ে আপিল বিভাগের রায় বাতিল চাওয়া হয়েছিল।

আপিল শুনানিতে আদালতে মতামত উপস্থাপনকারী ১০ অ্যামিকাস কিউরির (আদালতের বন্ধু) মধ্যে শুধু ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর পক্ষে মত দেন। অপর ৯ অ্যামিকাস কিউরি ড. কামাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আই ফারুকী, আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, এ এফ এম হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার এম. আমিরুল ইসলাম, বিচারপতি টিএইচ খান, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ফিদা এম কামাল, এ জে মোহাম্মদ আলী সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বিপক্ষে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

২০১৬ সালের ১১ আগস্ট সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

২০১৬ সালের ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আইনসভার কাছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে। দেশের সংবিধানেও শুরুতে এই বিধান ছিল। তবে সেটি ইতিহাসের দুর্ঘটনা মাত্র।

রায়ে আরও বলা হয়, কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর ৬৩ শতাংশের অ্যাডহক ট্রাইব্যুনাল বা ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিলরের মাধ্যমে বিচারপতি অপসারণের বিধান রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদের ফলে দলের বিরুদ্ধে সাংসদরা ভোট দিতে পারেন না। তারা দলের হাইকমান্ডের কাছে জিম্মি। নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা নেই। ৭০ অনুচ্ছেদ রাখার ফলে সাংসদদের সব সময় দলের অনুগত থাকতে হয়। বিচারপতি অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তারা দলের বাইরে যেতে পারেন না। যদিও বিভিন্ন উন্নত দেশে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষমতা আছে।

রায়ে আরও বলা হয়, মানুষের ধারণা হলো, বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে। সে ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে যাবে। মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানটি তুলে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৯৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে বিচারকের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে পুনরায় ফিরিয়ে দেয়া হয়। যেটি ১৯৭২ সালের সংবিধানেও ছিল।

সংবিধানে এই সংশোধনী হওয়ায় মৌল কাঠামোতে পরিবর্তন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে; এমন যুক্তিতে ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর রুল জারি করা হয়।


এই বিভাগের আরো খবর