মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বগুড়ার শিবগঞ্জে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গাজীপুরে ইমাম গ্রেপ্তার গাজীপুরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন ফুলবাড়িয়ায় সাদাময়না’কে নিয়ে বিপাকে কৃষক পাইকগাছায় অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন: আইনগত ব্যবস্থার দাবি সালথায় হত্যা মামলায় ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক গ্রেপ্তার জৈন্তাপুরে বাংলা টিভির এক দশক পুর্তী উদযাপন সালথার গট্টিতে আর মারামারী না করার দাবী জানিয়ে জাহিদ মাতুব্বরের সংবাদ সম্মেলন প্রতিটি পশুর হাটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে ডিএমপি কমিশনার রাজাপুরে ভেকুর ধাক্কায় প্রাণ গেল এক ব্র্যাক কর্মীর মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে: ওসি আশরাফ রাজধানীর কল্যাণপুরে চালু হলো ‘স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট লালমনিরহাটে জেলা আ.লীগ নেতা জামিনে মুক্তি মিললেও জেলগেটেই ফের আটক ক্যান্সার ও প্যারালাইসিস আক্রান্ত অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াল পজেটিভ কাপ্তাই ঈদযাত্রার চাপে বাড়ছে ভোগান্তির শঙ্কা বিদেশে কর্মসংস্থান: রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় মানবসম্পদ রপ্তানির ধারণা — সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও বাংলাদেশের জন্য কর্মপরিকল্পনা ভাণ্ডারিয়ায় পৃথক অভিযানে গাঁজা গাছ ও ৯০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার শিশুরা শিখবে আনন্দঘন পরিবেশে হেসে খেলে : ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণীতে ফয়সল আহমদ শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জেলা প্রশাসকের নান্দাইলে অতিদরিদ্র সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান গাজীপুরে আগুনে পুড়ল ১১ ভাড়াটিয়ার ঘর, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে এমপি বাচ্চু তুরাগে বিএনপি নেতার ঈদ শুভেচ্ছা: দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মেধাবী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনায় অংশ নিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়ার শিবগঞ্জে গ্রাম পুলিশ ও নৈশ্যপ্রহরীদের মাঝে নগদ অর্থ ও পোশাক বিতরন জাহানারা লতিফ মোল্লা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘ভালোবাসার দোকান’ প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান আইইবি সেমিনারে বক্তারা শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে যশোরের আলোচিত চিকিৎসক ডা. রাফসান আটক আদালতে খালাস পেলেও চাকরি ফেরেনি শিক্ষক মিলনের, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর হলেন সিআইপি মাহবুব আলম লোহাগাড়ায় কোরবানির জন্য চাহিদার তুলনায় ৭ হাজার অতিরিক্ত প্রস্তুত রয়েছে ৩৭ হাজার পশু

রোগীর মৃত্যুতে চিকিৎসক গ্রেপ্তার হলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়বে

খান শান্ত
রবিবার, ৯ জুলাই, ২০২৩, ৩:১০ অপরাহ্ন

অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার আগেই সেন্ট্রাল হসপিটালের দুই চিকিৎসককে গ্রেপ্তারসহ সারাদেশে চিকিৎসক নিগ্রহের প্রতিবাদে মাঠে নেমেছে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠন অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি)। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে প্রমাণ ছাড়াই চিকিৎসকের জেল-জরিমানা হলে কোনো চিকিৎসক ঝুঁকিপূর্ণ কাজে এগিয়ে আসতে চাইবে না। এতে করে উল্টো আমাদের স্বাস্থ্য সেবার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে এবং একপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার ভিত ভেঙে পড়তে পারে।

রোববার (৯ জুলাই) দুপুরে সেন্ট্রাল হসপিটালের ডা. শাহজাদী এবং ডা. মুনার মুক্তির দাবিতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এই শঙ্কার কথা জানান।

 

ওজিএসবির সাবেক মহাসচিব ও দেশের প্রখ্যাত গাইনি চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. গুলশান আরা বেগম বলেন, সেন্ট্রাল হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় ডা. শাহজাদী এবং ডা. মুনাকে অভিযোগ প্রমাণের আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা তাদের নিঃশর্ত মুক্তি চাই। এছাড়াও যে কনসালটেন্ট রোগীর প্রাণ বাঁচাতে রাতভর চেষ্টা করেছেন এবং দক্ষতার সঙ্গে চিকিৎসা দিয়েছেন, সেই চিকিৎসক ডা. মিলিকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা এই নির্দেশের প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশেই আমাদের গাইনি চিকিৎসকবৃন্দ কঠিন পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাতদিন কাজ করছেন। যার ফলেই মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। আমাদের চিকিৎসকবৃন্দ যদি এরকম পরিবেশে কাজ করে, ঝুঁকিপূর্ণ কোন কাজ করতে গেলে যদি মায়ের মৃত্যু হয় এবং চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা এবং একপর্যায়ে যদি জেল হয়, তাহলে এক সময় হয়তো চিকিৎসা পেশায় কেউ আসতে চাইবে না।

গুলশান আরা আরও বলেন, আমরা আজ সারা বাংলাদেশেই গাইনি চিকিৎসকবৃন্দরা মিলে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছি। আমরা আশা করছি আমাদের সাংবাদিক ভাইয়েরা জনগণের কাছে বিষয়টিকে সুন্দরভাবে তুলে ধরবেন। এতে করে আমরা গ্রেপ্তার হওয়া আমাদের বোনদের বাঁচাতে পারব।

এসময় দুই চিকিৎসকের গ্রেপ্তারের ঘটনায় সেন্ট্রাল হসপিটালের ভূমিকার সমালোচনা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, সেদিন সেন্ট্রাল হসপিটালের ম্যানেজমেন্টের যারা দায়িত্বে ছিল, আমি বলব সেদিনের সে বিষয়টি তারা সঠিকভাবে হ্যান্ডেল করতে পারেনি। একটা খুবই নিন্দনীয়। সেদিন রোগী কুমিল্লা থেকে ঢাকা সেন্ট্রাল হসপিটাল আসার পূর্বে রোগীর অবস্থা কী ছিল, বাচ্চার অবস্থা কী ছিল, আদৌ তার অবস্থা স্বাভাবিক ছিল কি না এটি তদন্ত করে দেখা উচিত। শুধু দাবি করলেই দুই চিকিৎসকের মুক্তি হবে না। এখানে সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে রোগীর বিষয়ে এভিডেন্স লাগবে।

তিনি বলেন, সুশীল সমাজসহ সকল পেশার পেশাজীবীদের প্রতি আমার অনুরোধ, চিকিৎসকদের পাশে আপনারা দাঁড়ান। যারা আপনার আমার স্বাস্থ্য সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করে চলেছেন, তাদের বিপদে এগিয়ে আসা আপনাদের দায়িত্ব।

কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, চিকিৎসা নেওয়ার পর কোন রোগের যদি মৃত্যু হয়, সে মৃত্যুর দায় কোনোভাবেই চিকিৎসকের ওপর আসতে পারে না। চিকিৎসকরা নিজের সর্বোচ্চটাই দিয়ে থাকেন। কোনো চিকিৎসকই চান না তার রোগীটির মৃত্যু হোক। এ বিষয়টি আমাদের বুঝতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো রোগীর মৃত্যু হলেই যদি চিকিৎসকের জেল-জরিমানা হয়, তাহলে সংকটাপন্ন কোনো রোগের চিকিৎসাতেই চিকিৎসকরা এগিয়ে আসতে চাইবেন না। এতে করে আমাদের স্বাস্থ্যসেবার ভিত নড়বড়ে হয়ে উঠতে পারে। আমি সেটি আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

এ সময় ওজিএসবির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. সালেহা বেগম চৌধুরী বলেন, প্রসব বেদনায় কাতর জটিল রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে আমাদের ডাক্তাররা আজ জেলে। পৃথিবীর কোথাও এমন নজির নেই।

তিনি বলেন, জটিল রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে যদি চিকিৎসকরা হামলা মামলার শিকার হয়, তাহলে চিকিৎসকরা আর জটিল রোগীর চিকিৎসা করতে সাহস পাবে না। এতে রোগী মৃত্যুর হার বেড়ে যাবে।

সংগঠনটির সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. সালমা রৌফ বলেন, কোনো মৃত্যুই কারো কাম্য নয়, কিন্তু জটিলতা এড়ানো যায় না। পৃথিবীর কোথাও জটিলতার জন্য ফৌজদারি মামলা হয় না। বিনা বিচারে গ্রেপ্তার চিকিৎসকদের জামিন না হওয়া দুষ্ট লোকদের সুযোগ করে দেওয়ার শামিল। তাই চিকিৎসকদের জামিন ও মামলা প্রত্যাহার করা হোক।

প্রসঙ্গত, সেন্ট্রাল হসপিটালের অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার (গাইনি) অধীনে গত ৯ জুন ভর্তি হয়েছিলেন মাহাবুবা রহমান আঁখি। কিন্তু সেদিন ডা. সংযুক্তা হাসপাতালেই ছিলেন না। পরে তার দুই সহযোগী চিকিৎসক আঁখির ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু জটিলতা দেখা দেওয়ায় নবজাতককে এনআইসিইউতে রাখা হয়। একই সঙ্গে আঁখির অবস্থার অবনতি হলে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে ১০ জুন বিকেলে আঁখির নবজাতক সন্তান মারা যায়। এ ঘটনায় আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী ধানমন্ডি থানায় ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’র একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা, ডা. মুনা সাহা, ডা. মিলি, সহকারী জমির, এহসান ও হাসপাতালের ম্যানেজার পারভেজকে আসামি করা হয়। এ ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর ১৫ জুন রাতে ডা. শাহজাদী ও ডা. মুনা সাহাকে হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


এই বিভাগের আরো খবর