সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বর্তমান কমিটি বাতিল করে নতুন করে ভোটগ্রহণের দাবিতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিক্ষোভের সময় সমিতির সম্পাদকের কক্ষে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সমিতির বর্তমান কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন ফকির ও সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আবদুন নূর দুলালের কক্ষের সামনে বিক্ষোভ করছিলেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।
জানা গেছে, এসময় আওয়ামীপন্থী তিন নারীসহ চার আইনজীবী আহত হয়েছেন। তারা হলেন, অ্যাডভোকেট সাবিনা ইয়াসমিন খান মৌলি, অ্যাডভোকেট ঊম্মে শবনম মোস্তারী (মৌসুমি), অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম ও অ্যাডেভোকেট রাজিয়া সুলতানা।

এসময় বিক্ষোভের এক এক পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদকের কক্ষের দরজা জানালাও ভাঙচুর করা হয়। সে সময় আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের উপস্থিতি ছিল হাতেগোনা।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও আওয়ামীপন্থী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আবদুন নূর দুলাল সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির আইনজীবীদের হামলায় আমাদের বেশ কয়েকজন আইনজীবী আহত হয়েছেন। এ হামলার জন্য জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামকে দায়ী করেছেন তিনি। এর জন্য আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
গত ১৫ ও ১৬ মার্চ হট্টগোল, হামলা, ভাঙচুর, মামলা, সাংবাদিক পেটানো, প্রধান বিচারপতির কাছে নালিশ ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। ১৪টি পদের সব কটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল জয়ী হয়েছে এ নির্বাচনে।
নির্বাচনে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছিলেন বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা। তারপর থেকে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আন্দোলন করে আসছেন।
তার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবারও মিছিল–সমাবেশ করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। এক পর্যায়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সম্পাদকের কক্ষের সামনের অংশ ও জানালার কাঁচ ভাঙচুর করেন। এ সময় কক্ষে অ্যাডভোকেট মো. আবদুন নূর দুলাল অবস্থান করছিলেন।
পরে অ্যাডভোকেট মো. আবদুন নূর দুলাল বলেন, আজ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের একটি প্রোগ্রাম ছিল নীচে (বার অফিসের সামনে)। আমরা এখানে (দোতলায় সম্পাদকের কক্ষে), আমরা তো নিচে যাইনি। ওরা চড়াও হয়ে এখানে এসে পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করেছে। এটা হচ্ছে একটা কাপুরুষতা। আমরা সরকারি দলে থাকার পরও সর্বোচ্চ সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছি। প্রতিদিন তারা প্রতিবাদ করে এখানে এসে ঝগড়া লাগানোর চেষ্টা করে। তারা এখানে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে আসে না। তারা আসে সহিংসতার জন্য। তারা অফিস ভাঙচুর করেছে। কয়েকজনকে আহত করেছে। আমরা এর বিরুদ্ধে আইনগত পদেক্ষপ নেব।
অন্যদিকে বিএনপির জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, তারা (আওয়ামীপন্থী) ভাঙচুর করে আজ আমাদের জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতৃবৃন্দ তথা সাধারণ আইনজীবীদের ঘাড়ে দোষ চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।
বিএনপিপন্থী ও আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিকেলে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিতে আবারও বিক্ষোভ করেন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা।