আলী হোসেন ছোটবেলা থেকেই ছিলেন একজন প্রবল আত্মবিশ্বাসী ও কঠোর চিন্তাশীল মানুষ। নোয়াখালীর জেলা বেগমগঞ্জ উপজেলা রাজগঞ্জ ইউনিয়নের মফিজ উল্লার তিন পুত্র সন্ত্রানের মধ্যে তিনি বড়। ছোট থেকে তাঁর চিন্তা ভাবনা ছিল অন্যদের চেয়ে একটু ভিন্ন।
তিনি শিক্ষাজীবন শেষ হবার পর দেশে চাকরি পেতে যখন বেগ পেতে হচ্ছে, তিনি তখন ভাবলেন এখানে আর নয়, পাড়ি জমাবেন বিদেশের মাটিতে। তাই ১৯৯১ সালে একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে পাড়ি জমান মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে।
জীবন জীবিকার তাগিদে দেশটির রিয়াদে যাবার পরে একটি কোম্পানিতে ম্যানেজার হিসেবে যুক্ত হলেন। তবে, তিনি এখানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, স্বপ্ন দেখতেন বহুদুর। এই মরুভূমিতে একদিন অর্জন করবেন খ্যাতি। মনের আত্মবিশ্বাস আর বড় হওয়ার স্বপ্ন কঠোর পরিশ্রম করতে আগ্রহ জাগায় তীব্র আকারে। স্বপ্নে বিভোর গুনতে থাকে দিন, কবে আসবে তার সেই সুদিন।
যে কোনো ক্ষেত্রে সফলতার প্রথম শর্ত হল প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম। মানুষ যদি তার লক্ষ্যে অটুট থাকে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করে, তবে একদিন সে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছতে পারে। তেমনি একজন প্রতিভাবান ব্যক্তি আলী হোসেন। এই বিদেশের মাটি তিনি ম্যানেজার থেকে হয়েছে উদ্যোক্তা ও সফল ব্যবসায়ী।
শুধু তাই নয়, দেশটিতে গড়ে তুলেছেন জাসেম এম আল জাসেম নামে একটি কোম্পানি। বর্তমানে কোম্পানিতে ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার এবং মেকানিক্যাল এর কাজে নিয়োজিত রয়েছেন ১২০ কর্মকর্তা- কর্মচারী।
এদের মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশি। তারা প্রতিমাসে নিয়মিত বেতনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।
শুধু তাই নয় কোন প্রবাসী কাজ না পেলে আলী হোসেন সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সহায়তা করে যাচ্ছেন। এতে করে বিদেশের মাটিতে যেমন প্রবাসীদের নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে তেমিন করে দেশের অর্থনীতিক চালিকা শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আলী হোসেন প্রবাসীদের দক্ষতা করার পাশাপাশি নিজ কমিউনিটিদের মাঝে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডেও অবদান রাখছেন। আলী হোসেন জানান, সর্বস্তরের পেশাজীবীর উপযুক্ত দক্ষতা থাকা দেশ ও বিদেশে কাজ করার জন্য অপরিহার্য। দক্ষ কর্মিবাহিনী তৈরি করার মাধ্যমে বাংলাদেশে বর্তমানের রেমিট্যান্সের পরিমাণ কম হলেও দ্বিগুণ করতে পারে।
শুধু প্রয়োজন উদ্যোগের। একটা সিস্টেমে আসতে হবে। বর্তমানে যা আছে, তা কার্যকর নয়। উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে উদ্যোক্তা সৃষ্টির বিকল্প নাই। তাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করার চেষ্টা করছি। যাতে করে এদের হাতেই দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।