বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
কাউন্সিলর পদে আলোচনার শীর্ষে যুবদল নেতা কিরন ব্যাপারী দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত, মোট মৃত্যু ৫৬০ জন মতলব উত্তরে এসইএল মডেল একাডেমি’ ও ছমির উদ্দিন আহমেদ মেমোরিয়াল মেধাবৃত্তির পুরস্কার বিতরণ ‎সালথায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ ছেংগারচর পৌরবাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন মেয়র পদপ্রার্থী বিএনপি নেতা উজ্জ্বল ফরাজী ভান্ডারিয়ায় জামায়াতের উদ্যোগে অসহায় দরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণ ১ কেজি গাঁজা ও প্রায় ৪ লাখ টাকা উদ্ধার, শ্রীপুরে মাদক কারবারি গ্রেপ্তার আমতলীতে রামিসা সহ সকল ধর্ষণ এর বিচার দাবিতে মানববন্ধন  বগুড়ার শিবগঞ্জে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গাজীপুরে ইমাম গ্রেপ্তার গাজীপুরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন ফুলবাড়িয়ায় সাদাময়না’কে নিয়ে বিপাকে কৃষক পাইকগাছায় অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন: আইনগত ব্যবস্থার দাবি সালথায় হত্যা মামলায় ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক গ্রেপ্তার জৈন্তাপুরে বাংলা টিভির এক দশক পুর্তী উদযাপন সালথার গট্টিতে আর মারামারী না করার দাবী জানিয়ে জাহিদ মাতুব্বরের সংবাদ সম্মেলন প্রতিটি পশুর হাটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে ডিএমপি কমিশনার রাজাপুরে ভেকুর ধাক্কায় প্রাণ গেল এক ব্র্যাক কর্মীর মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে: ওসি আশরাফ রাজধানীর কল্যাণপুরে চালু হলো ‘স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট লালমনিরহাটে জেলা আ.লীগ নেতা জামিনে মুক্তি মিললেও জেলগেটেই ফের আটক ক্যান্সার ও প্যারালাইসিস আক্রান্ত অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াল পজেটিভ কাপ্তাই ঈদযাত্রার চাপে বাড়ছে ভোগান্তির শঙ্কা বিদেশে কর্মসংস্থান: রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় মানবসম্পদ রপ্তানির ধারণা — সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও বাংলাদেশের জন্য কর্মপরিকল্পনা ভাণ্ডারিয়ায় পৃথক অভিযানে গাঁজা গাছ ও ৯০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার শিশুরা শিখবে আনন্দঘন পরিবেশে হেসে খেলে : ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণীতে ফয়সল আহমদ শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জেলা প্রশাসকের নান্দাইলে অতিদরিদ্র সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান গাজীপুরে আগুনে পুড়ল ১১ ভাড়াটিয়ার ঘর, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে এমপি বাচ্চু তুরাগে বিএনপি নেতার ঈদ শুভেচ্ছা: দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন ও বাস্তবতা

সিকদার গোলাম মোস্তফা 
শনিবার, ৪ মে, ২০২৪, ৩:৪৮ অপরাহ্ন

‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন’ এই  মহান উদ্দেশ্য নিয়ে আইন প্রনীত হয় এবং তা কার্যকর করা হয়। বাংলাদেশে যে সকল আইনে বিচার ব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে তার অধিকাংশই ব্রিটিশ আমলের আমলের প্রনীত। যেমন বাংলাদেশ দন্ডবিধি ১৮৬০ সনের। ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ সনের। দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮। সাক্ষ্য আইন ১৮৭২। তামাদি আইন ১৯০৮। ভূমি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০।  বাংলাদেশে উল্লেখিত আইনগুলোই বেশি ব্যবহৃত হয়। সেই সময়ের পরিবেশ পারিপার্শ্বিকতা অপরাধ ও বর্তমান বাস্তবতা কি এক? অবশ্যই না। তাহলে কেন ঐ আইনগুলোর আমূল সংস্কার করা হলো না? আর সংস্কার না করার ফলে বিচারের বানী আসলেই নিরবে নিভৃতে কাঁদছে।

আমি একজন পেশাদার আইনজীবি। প্রায় পয়ত্রিশ বছর এই পেশার সাথে সরাসরি জড়িত। কাজেই আমি তো বিচার প্রার্থী মানুষের আর্তনাদ ও হাহাকারের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধি। ব্রিটিশরা তখন আইন  করেছিল, তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য। প্রায় দুইশত বছর পরও আমরা সেই আইন বহাল রাখছি, কার স্বার্থ রক্ষার নিমিত্ত। অবশ্যই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যারা অধিষ্ঠিত তাদের নিজ স্বার্থ আর তাদের পদলেহন কারীদের রক্ষার্থে। যেমন ব্রিটিশ আমলের  প্রনীত আইন দণ্ডবিধির ৩২৪/ ৩২৫/৪৯৭/ ৪৯৮ ইত্যাদি। ৩২৪ ধারা হলো হালকা -পাতলা কোপ,যাতে হাড় কাটেনি। উহা জামিন যোগ্য। ৩২৫ ধারা হলো ভোতা অস্ত্র দিয়ে কোন অঙ্গপ্রত্যঙের হাড় ভেঙে  ফেলা। উহাও জামিন যোগ্য। ৪৯৭ ধারা হলো ব্যাভিচার,তাও জামিনযোগ্য।
৪৯৮ ধারা হলো একজনের বিবাহিত  স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া, উহাও জামিনযোগ্য। এই অপরাধগুলো ব্রিটিশরা ও তাদের অধস্তনরা করতো, তাই তারা জামিন যোগ্য করে গেছেন। উল্লেখিত অপরাধ করে যদি আসামিরা জামিন পেয়ে যায়, তাহলে বিচার প্রার্থীর কি অবস্থা হয় একটু ভেবে দেখুন। আর জামিন পেয়ে অপরাধীরা আরও অপরাধ করতে উৎসাহিত হয়। কেননা বিচারে শাস্তি, সেতো সুদূর পরাহত ব্যাপার। কবে বিচার হবে তার কোন নিশ্চিতয়তা নেই। তাছাড়া আইনের ফাঁকফোকর তো রয়েই গেছে। আবার বিচারপ্রার্থী সেই পর্যন্ত ধৈর্য ধরে মামলা চালাবে কিনা তাতেও সন্দেহ থেকে যায়। উপরোক্ত চারটি ধারা জামিন অযোগ্য করা উচিত বলে আমি মনে করি। নতুবা পরোক্ষভাবে অপরাধকে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে ধরে নেয়া যায়। আর এ কারনেই বাংলাদেশে প্রচুর কিশোর গ্যাং তৈরি  হচ্ছে।

বাংলাদেশের বিচার অঙ্গনে প্রচলিত দুটি কথা আছে – একটি হলো বিচারে দীর্ঘ সূত্রিতা ও ন্যায় বিচার। কতদিনে তদন্ত ও বিচার শেষ করতে হবে, সেকথা ফৌজদারি কার্যবিধি ও দেওয়ানী কার্যবিধির কোথাও নেই। ফলে অন্তহীন সমস্যায় বিচার প্রার্থীরা। দেওয়ানী মামলায় দেখা গেছে এক প্রজন্ম মামলা বসালেন, পরবর্তী প্রজন্মের আমলেও  সেই মামলার বিচার নিস্পন্ন হয়না। ফলে পক্ষ হতাশ হয়ে  মামলার কোন খোঁজ খবর নেয়না। ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এই দীর্ঘ সূত্রিতা আছে। যেমন সাগর -রুনি হত্যা মামলায় ৮/১০ বছরেও তদন্তকারী সংস্থা কোন রহস্য উদঘাটন করতে পারে নি। তবে কি তার অভিভাবকরা আদৌ বিচার দেখে যেতে পারবে? ফৌজদারি মামলায় থানা পুলিশের বিরাট ভূমিকা থাকে। তাদের অনেক দায়িত্ব কর্তব্য থাকে। কিন্তু তারা কি সেই দায়িত্ব কর্তব্য শতভাগ নিষ্ঠা ও সততার সাথে পালন করে। যদি করতো তবে সত্যিই তারা মানুষের বন্ধু হিসেবে বিবেচিত হতো। করে না বিধায় তাদের সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারনা। একজন ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি মামলা করার জন্য প্রথমে থানায় ও সি সাহেবের কাছে যান। মামলা সত্য হোক মিথ্যা হোক তিনি রেকর্ড করতে বাধ্য। অথচ তিনি মামলা রেকর্ড করতে গিয়ে কি যে তালবাহানা ও সময় ক্ষেপন করেন তা ভুক্তভোগীরাই ভালো জানেন। অতঃপর তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে মামলাটি এজাহার হলে,তদন্ত কর্মকর্তার পালা। তদন্ত কর্মকর্তার জন্য যেহেতু নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, সেই হেতু তিনি মাস-বছর ধরে তদন্ত করতে থাকেন। অবশেষে যেই পক্ষ তাকে সন্তুষ্ট করতে পারেন, সেই পক্ষে তিনি তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেন। তা না পারলে,শ্যাম রাখি না কুল রাখি কায়দায় একটা রিপোর্ট প্রদান করেন। ফলে মামলায় ত্রুটি থেকে যায়। সংক্ষুব্ধ পক্ষ নারাজী দেয়। ফলে আবার অন্য কোন এজেন্সির উপর  তদন্ত ভার অর্পিত হয়। ঐ এজেন্সি আবার এক/দেড় বছর পর রিপোর্ট দেন। মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত হলে, স্বাক্ষী দেওয়ার পালা। কত বছরে স্বাক্ষী আসবে তার কোন  নির্দিষ্ট  দিন ক্ষন নেই। বছরের পর বছর আসামি পক্ষ ঘুরতে থাকে। স্বাক্ষী আসে না, জেরা হয় না,যুক্তিতর্ক হয়না, মামলা শেষ হয় না ইত্যাদি ইত্যাদি। অভিযোগের চোখ পড়ে তখন আইনজীবীর উপর।আসামি বাদী উভয় পক্ষই বলে আমাদের আইনজীবীরা মামলা  শেষ করে না, তারা আমাদেরকে ঘুরান। কিন্তু তারা এটুকু বুঝতে চায়না বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার এই হচ্ছে ধরন। আইন অঙ্গনের একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে, বিচারের দীর্ঘ সূত্রিতা মানে ন্যায় বিচার প্রত্যাখান।

এ জন্য সময় সীমা বেধে দেয়া দরকার। এতদিনের মধ্যে তদন্ত কার্য সম্পন্ন করতে হবে এবং এই সময়ের মধ্যে বিচার কাজ শেষ করতে হবে। এরশাদ সরকারের সময় এ রকম আইন করা হয়েছিল। কিন্তু তার সরকার আবার শেষদিকে এই আইনের বিলুপ্তি করে যান। এরশাদ সরকার কিছু ভালো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। যেগুলোকে যুগান্তকারী বললে ভুল হবে না। যেমন তিনি থানাগুলোকে উপজেলায় রুপান্তরিত করে ছিলেন।প্রত্যেক উপজেলায় দেওয়ানী ও ফৌজদারি কোর্ট দিয়েছিলেন।  এমনকি বিভাগীয় শহরগুলোতে হাইকোর্টের বেঞ্চ পর্যন্ত ছিলো। ফলে  জনসাধারণকে বিচারের জন্য খুব একটা জেলা শহরে বা ঢাকা শহরে যেতে হতো না। প্রশাসন ও বিচার বিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ চিন্তাভাবনা আসলেই জন কল্যাণমুখী চিন্তা। সেই আমলে উপজেলা পরিষদ খুব শক্তিশালী ছিল। উপজেলা চেয়ারম্যান জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে উপজেলা পরিষদের প্রধান ছিলো। এখনো উপজেলা চেয়ারম্যান আছেন ঠিকই, কিন্তু আমলাতান্ত্রিক মারপ্যাচে তার খুব একটা ক্ষমতা নেই।

ফলে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে উপজেলা পরিষদ। বড় বড় অনুষ্ঠানে দেখেছি উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে একটা এবং উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে আরেকটা ফুলের তোড়া দেওয়া হয়। এর রহস্য জানতে চেয়েও আমি সন্তোষজনক জবাব পাইনি। বি এন পি সরকার ১৯৯১ সনে ক্ষমতায় এসে উপজেলা  পরিষদ ভেঙে দিলো এবং উপজেলা র দেওয়ানী ও ফৌজদারি আদালতগুলো জেলা শহরে নিয়ে গেল। উহা কি বি এন পি’র জনকল্যাণ মুখী চিন্তার প্রতিফলন। নিশ্চয়ই না। তাদের চিন্তাভাবনা জেলা ও রাজধানী কেন্দ্রীক। জেলা ও রাজধানীতে আমাদের জনসংখ্যার কতভাগ মানুষ বাস করে। ১০ থেকে ২০ ভাগ মানুষ না হয় জেলা ও রাজধানীতে বসবাস করে। তাই সরকারের উচিত ৮০ ভাগ মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করা। সত্যিকার অর্থে যদি আমাদের  দেশটাকে ক্ষমতাসীনরা কল্যাণমূলকরাষ্ট্রে পরিনত করতে চান, তবে দলীয় স্বার্থ ও গোষ্ঠী স্বার্থে র কথা না ভেবে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণের কথা ভাবতে হবে। এ ক্ষেত্রে মনে হয়, ঢাকার থেকে সমগ্রিক চাপ কমিয়ে প্রশাসনিক ও বিচারবিভাগীয় অফিসগলো বিভাগীয় শহরে স্থানান্তর করলে ভালো হয়। যাতে করে হাইকোর্টৈর কাজসহ দাপ্তরিক কাজগুলোও বিভাগীয় শহরে করা যায়। সামান্য কিছু উপজেলায় ফৌজদারি কোর্ট আছে। আবার ৪/৫ টি উপজেলায় দেওয়ানী কোর্টও আছে। এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা উঠিয়ে দিয়ে সকল উপজেলায় দেওয়ানী ও ফৌজদারি আদালত পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা উচিত। তবেই জনভোগান্তী কমবে। জনগণের অর্থও বহুলাংশে সাশ্রয় হবে।

বাংলাদেশের সরকার নানা সময়ে বিভিন্ন ধরনের আইন প্রনয়ণ করেছেন। যেমন-সন্ত্রাস দমন আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, যৌতুক নিরোধ আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন,দ্রুত বিচার আইন,  চেক ডিসঅর্নার আইন,গ্রাম্য আদালত আইন ইত্যাদি। এ ছাড়াও শত শত আইন প্রনয়ণ করেছে। কিন্তু আইন প্রনেতারা বা সরকার কখনও মনিটরিং করছেন, আইনগুলো যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে কি না? বা আইনের অপব্যবহার হচ্ছে কি না? আমি একজন আইনজীবী হয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে চাই – সন্ত্রাসদমন আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, যৌতুক নিরোধ আইন, চেক ডিসঅর্নার আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, এই আইনগুলোর যথেচ্ছ  অপব্যবহার হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সুবিধা নিচ্ছে পুলিশ। তারা প্রকৃত অপরাধী বা গডফাদারদের না ধরে সহযোগী অথবা নির্দোষ কাউকে কিছু ট্যাবলেট বা গাজা দিয়ে ধরে কোর্টে চালান করে তাদের পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। ফলে প্রকৃত অপরাধীরা ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। আর ঐ অপরাধীরা মাদকের ভয়াল থাবা শহর থেকে গ্রাম। গ্রাম থেকে প্রত্যন্ত এলাকায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। আর  এর বিষ বাষ্পে আক্রান্ত হচ্ছে গ্রামীন জনপদের হাজারো কিশোর -যুবক।

আগামী প্রজন্মকে বাঁচাতে এ অভিযান আরো জোরালো ও ন্যায় নিষ্ঠ করতে হবে। যেহেতু বিচার প্রক্রিয়ার সাথে আমি সরাসরি জড়িত, সেক্ষেত্রে আমার কাছে মনে হয়, শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইন, দ্রুত বিচার আইন, যৌতুক নিরোধ আইন, চেক ডিসঅর্নার আইনের মামলাগুলোর অধিকাংশই মিথ্যা মামলা। এ মামলাগুলো যাচাই বাছাই করে নেওয়া দরকার। নতুবা মিথ্যা মামলা র শাস্তির বিধান থাকা দরকার। ২০০৬ সনে গ্রাম আদালত আইনের মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রাম আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়। গ্রাম আদালতের বিচারকে দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় প্রকার মামলার বিচার করার ক্ষমতা দেওয়া। কিন্তু বাংলাদেশের কতটি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত কার্যকর আছে? আমার মনে হয় এর সংখ্যা ১০% ও হবে না। যদি ১০% গ্রাম আদালত কার্যকর থাকে, তবে ভিজিট করলে দেখা যাবে,উহার একটির বিচারও গ্রাম আদালত প্রসিডিওর অনুযায়ী হয়নি। সব হয়েছে চেয়ারম্যানের ইচ্ছা মর্জি মোতাবেক। তাই গ্রাম আদালত আইন নিয়ে সরকারকে ভাবার জন্য  জোর অনুরোধ করছি। যদি গ্রাম আদালত কার্যকরই থাকতো,তবে সাধারণ মানুষ ছোট খাট বিষয় নিয়ে থানায় ও কোর্টে ভিড় জমাতো না।

মানুষের শেষ ভরসার স্থল বিচার আদালত। প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার জন্য এ দেশে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে। কিন্তু কোন রাজনৈতিক সরকারই স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেনি। স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠিত করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। কিন্তু কতটা স্বাধীন বিচার বিভাগ? এ নিয়ে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনিক বিভাগের মধ্যে স্নায়ু যুদ্ধ এখনো বিদ্যমান। প্রশাসন বিভাগ তাদের ম্যাজিষ্ট্রেসী ক্ষমতা কখনো বিচার বিভাগীয় বিচারকদের হাতে ন্যাস্ত করতে সম্মত না। এ জন্যই তারা মোবাইল কোর্ট এবং ফৌজদারি কার্যবিধির মামলাগুলোর বিচারিক ক্ষমতা  তাদের হাতে রেখে দিয়েছেন। বাস্তবতার আলোকে যদি বিশ্লেষণ করি,তবে একজন এ সি ল্যান্ড/ইউ এন ও/ এ ডি সি / সহকারী  কমিশনার এদের অনেক প্রশাসনিক  ও দাপ্তরিক কাজ থাকে, মিটিং থাকে। তাহলে তারা বিচারিক কাজে  কতটুকু মনোনিবেশ করতে পারে? যদি সঠিকভাবে মনোনিবেশ করা না যায়, মানসিক দাপ্তরিক নানা প্যারা থাকে, তবে তাদের দ্বারা কতটুকু ন্যায় বিচার দেওয়া সম্ভব? আসলেই  সম্ভব না। আর তারা প্রভাবমুক্তও না। তাই বিচারিক ক্ষমতা বিচার বিভাগীয় ম্যাজিষ্ট্রেটদের কাছে দিলেই ভালো হয়।

বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট বা জজ সাহেবরা ইচ্ছা করলেই কি  ন্যায় বিচার দিতে পারে? আমি মনে করি পারে না। কারন তাদেরকে অনেক প্রসিডিওর মেইন্টেন করে একটা মামলায় রায় দিতে হয়। আদালত মামলায় দেওয়ানী কার্যবিধি এবং ফৌজদারি মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির বিধি বিধান মেনে রায় দিতে হয়। এখানে মূখ্য হলো স্বাক্ষ্য প্রমান। স্বাক্ষ্য প্রমাণ যথাযথভাবে উপস্থাপন না করা গেলে ন্যায় বিচার দেওয়াও সম্ভব না। আর এ ক্ষেত্রে ন্যায় বিচারের মূল অন্তরায় হচ্ছে বিচারে দীর্ঘ সূত্রিতা। একটা ঘটনার চার/পাঁচ বছর পর যদি স্বাক্ষী হয়। তবে বাদী মামলার ঘটনা কতটুকু মনে রাখতে পারেন?অনেকটাই মনে রাখতে পারেন না। তাই এলোমেলো স্বাক্ষী দেন। তার মানিত স্বাক্ষীরা ও সঠিকভাবে স্বাক্ষী দেন না। কারন তারা আসামি পক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হন অথবা ভাবেন আমরা বাদীর পক্ষে স্বাক্ষী দিয়ে  আসামি পক্ষের শত্রু হবো কেন? এসব কারনে ৯৫ ভাগ মামলাই প্রমাণীত হয়না। এছাড়াও নানা বিধ ত্রুটির কারণে আসামি পক্ষ খালাস পেয়ে যায়। যেমন এজাহার, চার্জশীট, মেডিকেল রিপোর্ট এর ত্রুটি। আলামত নষ্ট বা যথাযথভাবে উপস্থাপন না হওয়া। প্রসিকিউশন ল’ইয়ারের আন্তরিকতার অভাব ইত্যাদি। এ সকল কারণে বিজ্ঞ  হাকিম অনায়াসেই লিখে দিতে পারেন, বাদীপক্ষ মামলা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারে নাই, তাই আসামিদেরকে খালাস দেওয়া হলো।

যেহেতু কোন রাজনৈতিক দলই বিচার বিভাগ স্বাধীন করেন নি, তাই স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার জন্য তারা কতটা আন্তরিক তা তাদের কর্মকাণ্ড   থেকেই অনুমেয়। এ থেকেই প্রমানিত  ন্যায় বিচার দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাদের মানসিকতা প্রশ্নবিদ্ধ। রাষ্ট্রের জনগণের ন্যায় বিচার দেওয়ার দায়িত্ব শুধু বিচার বিভাগের না। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যারা অধিষ্ঠিত তাদেরও। তারা হয়তো বলবেন, আমাদের দেশের বিচার ব্যবস্থা তো স্বাধীন। কতটা স্বাধীন নিজেদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন। ন্যায় বিচার দেওয়ার জন্য কি ব্রিটিশ আমলের প্রনীত আইন বিধি বিধান যথেষ্ট? না, তাহলে কেন আপনারা আইন ও বিধি বিধান গুলো সংশোধন বা সংস্কার করছেন না? এ গুলো সংশোধন বা আমূল সংস্কার না করা পর্যন্ত বিচারের বানী  নিরবে নিভৃতেই কাঁদবে। আর ন্যায় বিচার কথাটা কথাই থেকে যাবে।

লেখক: সিনিয়র আইনজীবী ও রাজনীতিক


এই বিভাগের আরো খবর