বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলী কার্ড বিতরণ শুরু করা হয়েছে: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ফটিকছড়ি আসনে জামায়াতের পরাজিত প্রার্থীর আপিল খারিজ, রিট নিষ্পত্তির নির্দেশ ফটিকছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় কলেজ ছাত্র নিহত কাউখালীতে অবাধে ‘চাই’ দিয়ে মাছ শিকার: হুমকির মুখে দেশীয় মৎস্য সম্পদ বন্দরে গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার নির্মিত ড্রেনের নোংরা পানি ও ময়লা আবর্জনায় নষ্ট হচ্ছে পাইকগাছা পানি উন্নয়ণ বোর্ডের পুকুরের পানি ও পরিবেশ ঠাকুরগাঁওয়ে জিংকসমৃদ্ধ ব্রি ধান-১০২ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত কর্ণফুলীর চরলক্ষ্যায় ত্রি-বিগ্রহের প্রাণপ্রতিষ্ঠা উৎসবে ফ্রি চিকিৎসা কিশোরগঞ্জ হাওরে ট্রলারে ডাকাতি, গ্রেপ্তার তিনজন নালিতাবাড়ীতে ভারতীয় ইয়াবা জব্দ, গ্রেপ্তার দুই মাদক ব্যবসায়ী কুড়িগ্রামে চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পৃথক বাজেটের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি ঝালকাঠিতে‌ মাদকাসক্তিমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে করনীয় কর্মশালা ত্রিশালে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত ঘিওরে একই পরিবারের তিনজন আটক , ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিলো বিক্ষুব্ধ জনতা প্যাডেলে প্যাডেলে পুরো বাংলাদেশ,অসাধারণ কীর্তি সানাউল্লাহ চৌধুরী জুয়েল সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব নান্দাইলে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে হয়রানির অভিযোগ লালমোহনে ভ্রম্যমান গাজা ব্যবসায়ীর দুই মাসের কারাদন্ড শ্রীপুরে ৬৮০পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ সাংবাদিক তানভীরের মায়ের মৃত্যুতে বন্দর প্রেসক্লাবের শোক প্রকাশ চাকরির প্রলোভনে ডেকে এনে মুক্তিপণ দাবি, চক্রের গ্রেপ্তার- ১ আমতলীতে জীবন দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষা সেশনে ১,২২০ শিক্ষার্থীর মাঝে খাতা বিতরণ আমতলীতে ৪০৮০ শিশুর অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য জন্মদিন উদযাপন জৈন্তাপুরে পূর্ব দরবস্ত ইউনিয়ন বাস্তবায়নের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট থেকে মানুষকে রক্ষায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সচেতনতামূলক সাংবাদিক সম্মেলন আত্রাইয়ে রেললাইনের পাশে হজ এজেন্সির প্রতিনিধির মরদেহ উদ্ধার,পরিবারের দাবী হত্যা চুনারুঘাটে খোয়াই নদী থেকে লাশ উদ্ধার জামালপুরে স্ত্রীকে হত্যা মামলার রায়ে স্বামীকে মৃত্যুদন্ডাদেশ ও আরেকটি ধর্ষণ মামলায় অপরজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত নগরকান্দায় গ্রাম আদালত বিষয়ক দিনব্যাপী  কর্মশালা অনুষ্ঠিত

যারা অগ্রযাত্রায় সহায়তা করে বাংলাদেশ তাদের সঙ্গেই কাজ করবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ২ জুন, ২০২৪, ৮:৪৮ অপরাহ্ন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কে কার সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত তা বিবেচনা না করে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে যে দেশগুলো বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে তাদের সঙ্গেই কাজ করবে। তিনি বলেন,‘আমার নিজের দেশের উন্নয়নটা আমার আগে দরকার। আমার দেশের উন্নয়নে যারা সহযোগিতা করবে আমি তাদেরকে নিয়ে চলবো। সেভাবেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’ সেক্ষেত্রে কে কার সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত সেটা দেখার দরকার নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে ‘আমার চোখে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক এক মিনিটব্যাপী ভিডিও চিত্র তৈরী প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচিতদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে একথা বলেন।

শান্তির স্বপক্ষে তাঁর বলিষ্ট অবস্থানের পুনরুল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সবসময় শান্তি চাই। আমরা যুদ্ধ চাইনা। সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই। আর সেই বন্ধুত্ব রেখেই আমি এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি বলেন, কার দেশের সঙ্গে কার দেশের ঝগড়া সেটা আমার দেখার দরকার নেই। আমার নিজের দেশের উন্নয়নটা আমার আগে দরকার। আমার দেশের উন্নয়নে যারা সহযোগিতা করবে আমি তাদেরকে নিয়ে চলবো। সেভাবেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, সামনে কিন্তু অনেক কাজ। আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়বো। আর তোমরাই হবে সেই স্মার্ট বাংলাদেশের মূল সৈনিক এবং তোমরাই এদেশকে গড়বে। কারণ তোমরা ইতিহাসটাকে যেভাবে তুলে ধরেছ তাতে সত্যিই আমি চোখের পানি রাখতে পারিনি। তিনি অংশগ্রহণকারিদেরকে অনেক দোয়া ও অভিনন্দন জানিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদেরকেও ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, আমি মনে করি আর এই বাংলাদেশকে কেউই পেছনে টানতে পারবেনা। ১৫ আগষ্টের পর যেভাবে আমাদের ভিক্ষুক জাতিতে পরিণত করা হয়েছিল, আর যেন কেউ এটা করতে না পারে সেজন্য আমাদের সবসময় সজাগ থাকতে হবে। দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী স্কুল থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারকারিদের মধ্যে সনদপত্র, ক্রেস্ট ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ এর পর ইতিহাস বিকৃতির যে প্রচেষ্টা হয়েছিল তার থেকে বাংলাদেশ আজকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে। সঠিক তথ্যটা সকলের সামনে চলে আসছে।

তিনি ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জাতির পিতাকে নিয়ে ভিডিও চিত্র নির্মাণ প্রসঙ্গে আনন্দানুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘আজকের নতুন প্রজন্ম -তোমরাই একদিন এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু সেটা করতে হলে একটা আদর্শ লাগে। ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। কিন্তু আগামী দিনের পথচলা আমাদের নিজেদেরকেই খ্্ুঁজে বের করে আমরা যেন সুন্দরভাবে বিশে^র সাথে তাল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি সেভাবেই নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষা ছাড়া কখনো এটা সম্ভব নয়। শিক্ষা ছাড়া কোন জাতিকে দারিদ্র মুক্ত করা যায়না। শিক্ষাই হচ্ছে সব থেকে বড় অর্জন। নিজের এবং ছোট বোন শেখ রেহানার সন্তানদের দেওয়া উপদেশের উল্লেখ করে জাতির পিতার কন্যা বলেন, তাদের জন্য তাঁরা কোন সম্পদ রেখে যেতে না পারলেও তাদের শিক্ষায় শিক্ষিত করে যাবেন, যে সম্পদ কোনদিন কেউ তাদের কাছ থেকে চুরি করতে পারবে না বা কেড়ে নিতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন যুগ হচ্ছে প্রযুক্তির যুগ। জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুগ। কাজেই ছেলে- মেয়েদের এটাই বলবো লেখাপড়া ও জ্ঞানার্জন ছাড়া নিজেদের যেমন তেরী করতে পারবেনা, দেশকেও তৈরী করতে পারবেনা।
’৯৬ সালে প্রথমবার সরকার গঠনের পর কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দিয়ে মোবাইল ফোন ও তথ্য প্রযুক্তিকে জনগণের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার উদ্যোগের উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, সেখান থেকে আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ।

এখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। দ্বিতীয়টার জন্য প্রস্তুতি চলছে কেননা একটি স্যাটেলাইটের মেয়াদ থাকে ১৫ বছর। তিনি বলেন,‘যদিও আমি শুনি অনেকে বলে এই স্যাটেলাইটের কি দরকার ছিল! আমাদের বাংলাদেশের কিছু মানুষ রয়েছে যাদের সবকিছুতেই ‘কিছু ভাল লাগে না’। এই কিছু ভাল লাগেরা গ্রুপের আরও বক্তব্য হচ্ছে মেট্রোরেল,এটার কি দরকার ছিল? এক্সপ্রেসওয়ে করা শুধু শুধু পয়সা নষ্ট-এরকম লোকজন নেতিবাচক মনভাব নিয়ে সবময় চললেও এসবের সুবিধাগুলো আবার ঠিকমতই নিজেরা ভোগ করে।’

তিনি কোমলমতিদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদেরকে তৈরী হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটা যাতে নষ্ট না হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশ যে ক্ষুধা মুক্ত এবং উন্নত সমৃদ্ধ হয়ে গড়ে উঠবে সেটা তোমাদেরকেই গড়ে তুলতে হবে। আমরা কারো কাছে হাত পেতে চলবো না। নিজেরা নিজেদের আত্মমর্যাদা বোধ নিয়ে চলবো। এটাই আমাদের মাথায় সবসময় রাখতে হবে।

তিনি এ সময় জাতির পিতা যে বলেছিলেন-‘ভিক্ষুক জাতির কোন ইজ্জত থাকেনা’ সেই উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, ’৭৫ এর পর আমরা একটি ভিক্ষুক জাতিতে পরিণত হয়েছিলাম। বিদেশে বাংলাদেশের নাম শুনলেই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা হোত।

তিনি বলেন, তাঁরা সরকারে আসার পর খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সহ সবধরণের ব্যবস্থা যেমন করেছে তেমনি করো কাছে যেন হাত পাততে না হয় সেটাও নিশ্চিত করেছে।

‘নিজেরা উৎপাদন করবো, নিজেরা খাব প্রয়োজনে অপরকেও খাওয়াবো’ উল্লেখ করে দেশের প্রতি ইঞ্চি অনাবাদি জমিকে চাষাবাদের আওতায় নিয়ে আসায় তাঁর প্রচেষ্টারও উল্লেখ করেন এবং বলেন, আমাদের জমি উর্বর ও বিরাট জনসংখ্যা রয়েছে এবং বর্তমান যুগ হচ্ছে যান্ত্রিক যুগ যেই যান্ত্রিকীকরণের দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আর কোন কাজেই কোন লজ্জা নেই। এ প্রসঙ্গে তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে কোভিড-১৯ চলকালিন ছাত্রলীগের সদস্যদের ধানকাটায় অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন।

করোনাকালীন প্রয়োজন পড়ায় প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা নিজেরাও নিজেদের গৃহস্থলী কাজ সামলেছেন উল্লেখ করে বলেন, আমরা কিন্তু নিজেরাই নিজেদের কাজ করেছি এবং কাজ করতে আমরা কখনই লজ্জারোধ করিনা। নিজের কাজটা নিজে করাটাই সবথেকে সম্মানের এবং অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা আমাদের কমাতে হবে।

তিনি ভিডিও চিত্র নির্মাণ ’আমার চোখে বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক প্রতিযোগিতার আয়োজনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সহ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,এটা আমি মনে করি আমাদের ছোট্ট শিশুদের ভেতরে একটি আদর্শ (জাতির পিতার) এবং স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনাটাই গড়ে উঠবে। যাতে তারা লেখাপড়া শিখে এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।


এই বিভাগের আরো খবর