একটির পর একটি হাতুড়িপেটার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ফরিদপুরের সালথায় হিরু মোল্লা (৬০) নামের কৃষক দলের এক কর্মীকে হাতুড়িপেটার ঘটনা ঘটেছে।
আজ সোমবার (০৩ ফেব্রুয়ারী) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার বালিয়াগট্টি বাজারে এ হাতুড়িপেটার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, কৃষক দলের কর্মী হিরু মোল্লাকে কুকুরে কামড় দিলে সে ভ্যাক্সিন নিতে বালিয়াগট্টি বাজারে যান। ভ্যাক্সিন নেওয়া শেষে সে ভ্যানে বাড়ি ফেরার পথে ১০-১২ জন যুবক তাকে পিঠে,পায়ে ও হাতে হাতুড়ি পেটা করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন সে হাসপাতালের বিছানায় ব্যথায় কাতরাচ্ছে।
এব্যাপারে ভুক্তভোগী হিরু মোল্লা বলেন, আমার গায়ে, হাত-পায়ে অন্তত ১০-১২ টি হাতুড় দিয়ে পেটানো হয়েছে। আমি এ হাতুড়িপেটার বিচার চাই।
এব্যাপারে সালথা উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসাইন বলেন, এই হাতুড়িপেটার ঘটনা বড় দুঃখজনক। কিছুদিন ধরেই ওই এলাকায় একের পর এক হাতুড়িপেটার ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। আজ আমার চাচা হিরু মোল্যাকে পিঠে, হাতে ও পায়ে হাতুড়ি পেটা করা হয়েছে। হিরু মোল্যা কৃষক দলের সমর্থক।
তিনি আরও বলেন, কিছু দুষ্কৃতকারী ও আ’লীগের নেতাকর্মী বিএনপির নাম ধারণ করে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। এদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনকে অনুরোধ করছি।
এব্যাপারে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা পক্রিয়াধীন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের পাটপাশা বালিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইসহাক মাতুব্বরের ছেলে ইকরাম মাতুব্বরকে হাতুড়ি পেটা, গত ৭ জানুয়ারী বালিয়াগট্টি বাজারের সাইফুর রহমান শাওনকে হাতুড়িপেটা, গত ৩১ জানুয়ারী আতিক শেখকে হাতুড়ি পেটা করা হয়। এছাড়াও আজ সকালে সুজন নামে আরেক যুবককে হাতুরী পেটা করা হয়।
এভাবে প্রতিনিয়ত হাতুড়িপেটার ঘটনায় ওই এলাকায় হাতুড়িপেটা আতঙ্কে দিনকাটাচ্ছে মানুষ। তবে, অদৃশ্য কারণে কেউ থানায় মামলা কিংবা অভিযোগ দিতে সাহস পাচ্ছেন না।