সাংবাদিকতার স্বাধীনতায় কোনো বেআইনি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না, এবং হুমকি-ধমকি দিয়ে দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। এমনটাই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ শ্যামনগরের সাংবাদিক সমাজ। তারা জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পথে কোনো অপশক্তির বাধা এলে তা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করা হবে।
আজ মঙ্গলবার (১৮ই মার্চ) সকাল ১১টায় শ্যামনগর পৌর সদরের মাইক্রোস্ট্যান্ড চত্বরে আয়োজিত সাংবাদিক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি, সহযোগী অধ্যাপক সামিউল মনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জী।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রশাসনিক চাপ না থাকলেও কিছু রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি দুষ্কৃতকারীদের পক্ষ নিয়ে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের হুমকি প্রদান করা হচ্ছে, তাদের টার্গেট করা হচ্ছে, এমনকি স্বাধীন সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রেও নানাভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, বিদায়ী সরকারের দোসর আখ্যা দিয়ে সাংবাদিকদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে এবং পরিকল্পিত হামলার মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে, উল্টো সাংবাদিকদের দমনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। বক্তারা আরো বলেন, অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় না দিয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ সুগম করতে হবে। গণমাধ্যমকর্মীদের হয়রানি বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন তারা।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ডিবিসি টেলিভিশনের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি বেলাল হোসেন, দৈনিক ইনকিলাব প্রতিনিধি ডাঃ আবু কাওছার, মোহনা টিভির শেখ আফজালুর রহমান, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল, যায়যায়দিন প্রতিনিধি রঞ্জিত বর্মণ, সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সভাপতি বিলাল হোসেন, উপকূল প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম, রিপোর্টার্স ক্লাব আহ্বায়ক খলিল হোসেন, অনলাইন নিউজ ক্লাবের আহ্বায়ক মারুফ হোসেন মিলন, সীমান্ত প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুন্নবী ইসলাম ইমনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন রিপোর্টার্স ক্লাবের সাবেক সভাপতি গাজী আল-ইমরান ও সুন্দরবন প্রেসক্লাবের স ম ওসমান গণি সোহাগ।