শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৮:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বগুড়ার শিবগঞ্জে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবন উদ্বোধন করলেন: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ‘সিঙ্গাপুর নয়, মানুষের সুখই আমাদের লক্ষ্য’ : মীর শাহে আলম এমপি মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান মে দিবসে র‍্যালী ও আলোচনা সভা বন্দরে ছিনতাইকারীদের হামলায় দুই পুলিশ আহত, ৪ ঘন্টা পর শর্ট গান উদ্ধার প্রশাসনের নজরদারির অভাবে জলাবদ্ধতায় নাকাল চাতরী চৌমুহনী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে কয়েক কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য ধ্বংস দুর্নীতির অভিযুক্ত চিকিৎসকের পদায়ন বাতিল দাবিতে মানববন্ধন ভাণ্ডারিয়ায় মহান মে দিবস পালিত অধিকার আদায়ের অঙ্গীকারে সুনামগঞ্জে মহান মে দিবস পালিত পাইকগাছায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মে দিবস পালিত ফুলবাড়ীতে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস ও মহান মে দিবস পালিত উত্তরায় অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামি গ্রেপ্তার হোমনায় নাগরিক সংবর্ধনায় ফুলের টাকা দুস্থদের দেওয়ার আহ্বান সেলিম ভূঁইয়া এমপির দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ভেঙে প্রতারণা: শ্রীপুরে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও ভাড়াটিয়া ঝিনাইগাতী কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে পঁচে নষ্ট হচ্ছে প্রণোদনার মূল্যবান মেশিন ও বীজ আজ মহান মে দিবস আজ শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা ‘কাম না করলে খামু কী’—মে দিবসেও কাজের খোঁজে শ্রমিকেরা ফেসবুকে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে শ্রীপুরে সংবাদ সম্মেলন, থানায় অভিযোগ ষাঁড় গরু জবাইয়ের ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন হোমনার দুলালপুরে বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনার সার ও বীজ বিতরণ মুকসুদপুরে ভুয়া এসআই পরিচয়ে প্রতারণার চেষ্টা, ২০ হাজার টাকা দাবি কাপ্তাইয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টিতে প্রাণ ফিরেছে বেড়ার চরাঞ্চলের চিনাবাদামের ক্ষেতগুলোর শুষ্ক মৌসুমেই ডান তীর বাঁধ সংস্কারের দাবি জোরালো, পরিদর্শনে পাউবো প্রকৌশলী ও ইউএনও ভাণ্ডারিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক সংস্কারে জোর ​৫ দিন পর রোদের দেখা: সুনামগঞ্জে ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষাণ-কৃষাণী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মনিবন্ধনে অনিয়ম: চার ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বরখাস্ত শ্রীপুরে চার বছর ধরে নীরব মানবিক উদ্যোগ, প্রতি বুধবার অসহায়দের জন্য খাবারের আয়োজন শ্রীপুরে বৃষ্টিতে বিদ্যালয় মাঠে হাঁটু পানি, দুর্ভোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী

বিজয় দিবসের ‘শুভেচ্ছা’ ঘিরে ওরা সবাই নেতা…

অনলাইন ডেস্ক :
সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০, ২:১৮ অপরাহ্ন

এসএম দেলোয়ার হোসেন :  মহান বিজয় দিবস কিংবা ঈদসহ জাতীয় কোন উৎসব আসলেই শুরু হয় দেশজুড়ে শুভেচ্ছা পোস্টার-ব্যানার, ফেস্টুন-তোরণ লাগানোর তুমুল প্রতিযোগিতা। কে কার আগে দৃষ্টিনন্দন স্পট ও জনবহুল এলাকা এমনকি রাস্তার সংযোগ সড়কের মোড়ে এবং দেয়ালগুলোতে পোস্টার সাঁটাবে তারই চলে অসম প্রতিযোগিতা। মহান বিজয় দিবস ও ঈদসহ জাতীয় কোন উৎসব এলেই শুভেচ্ছার পোস্টার লাগানোর তৎপরতা শুরু হয়ে যায়। শুভেচ্ছা পোস্টার সাঁটানোর দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন জনপ্রতিনিধিসহ ক্ষমতাসীন দলীয় নেতাকর্মীরা। ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস আসার মাসখানেক আগেই স্থান নির্ধারণ করে নির্ঘূম রাত কাটার তাদের অনুসারীরা। অনেকেই কাগজে-কলমে পদ-পদবি না পেলেও স্বঘোষিত পদ-পদবি লাগিয়ে শীর্ষ নেতাদের ছোটাকারে ছবিসংযুক্ত নিজের ছবি ছাঁপিয়ে পরিচয় তুলে ধরতেও পিছপা হচ্ছেন না। এবারো এর কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ইতোমধ্যেই শুভেচ্ছার পোস্টার-ব্যানার, ফেস্টুন-তোরণে সয়লাব হয়ে গেছে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ। এসব পোস্টার-ব্যানারে ছাপানো ছবি দেখে যে কারোরই মনে হবে ওরা সবাই নেতা…। ২০১২ সালে নগরীর সৌন্দর্য্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতা বিধানে দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১২ পাস করা হলেও প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তায় দেশজুড়ে অবাধে চলছে দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানোর কার্যক্রম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের আইন প্রয়োগের বিধান থাকলেও সেই বিধি মানছে না কেউই। অনুমতি ছাড়া পোস্টার-ব্যানার সাঁটানো নিষিদ্ধ থাকলেও আইন প্রয়োগেও দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রশাসনও রয়েছে নির্বিকার। যত্রতত্র পোস্টার-ব্যানার, ফেস্টুন-তোরণ লাগানোয় প্রতিনিয়ত নান্দনিক সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসা-বাড়ির দেয়াল, গেইটসহ শহর-গ্রামের বিস্তীর্ণ জনপদ। পুরান ঢাকার লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, সুত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, উত্তরা ছাপিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছার পোস্টার-ব্যানার ফেস্টুন ও তোরণ লাগানোর তোড়জোড় শুরু করেছে জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিদক দলের নেতাকর্মীরা। কেউ বাধা দিলেই ঘটে বিপত্তি। অনেক স্থানে পোস্টার লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে লাঞ্ছিত করা ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় ও প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তার কারণে বিধি উপেক্ষা করেই রাতের আঁধারে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে যত্রতত্রভাবে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছার পোস্টার-ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ লাগানোর ধুম পড়েছে। পোস্টার-ব্যানার তৈরি থেকে লাগানো পর্যন্ত যে অর্থ ব্যয় হয়, করোনার এই দুঃসময়ে সেই অর্থ দুস্থ ও এতিম অসহায় মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিলে জনপ্রতিনিধিসহ দলের নেতাকর্মীরা আরো সুনাম কুড়াতে পারতেন বলে জানিয়েছেন নগর উন্নয়ন বিশ্লেষকরা। এদিকে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, কেবল মহান বিজয় দিবস বা ঈদ শুভেচ্ছার পোস্টার সাঁটানোই নয়, সব ধরনের পোস্টার-ব্যানার লাগানো ও দেয়াল লিখনের জন্য স্থান নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এর বাইরে কেউ পোস্টার-ব্যানার বা দেয়াল লিখন করলে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও বিধান রয়েছে। এরপরও জনবল সংকটের কারণে সব সময় অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না কর্তৃপক্ষের। গত কয়েকদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধুই কেবল মহান বিজয় দিবসই নয়, জাতীয় কোন উৎসব এলেই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে শুভেচ্ছা পোস্টার-ব্যানার, ফেস্টুন-তোরণ লাগানোর হিড়িক পড়ে যায়। প্রতিবছরের মতো এবারো নগর তথা দেশবাসীকে আসন্ন ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী, সজীব ওয়াজেদ জয় ও মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপিদের ছবি দিয়ে নিজেকে নেতা হিসেবে তার পরিচিতি তুলে ধরতে পোস্টার-ব্যানার ছাপিয়ে যত্রতত্র টাঙ্গিয়ে দিচ্ছে। মহান বিষয় দিবস কিংবা জাতীয় কোন উৎসব ঘিরে অনেকের বাসা-বাড়ির সৌন্দর্য্য ফুটিয়ে তুলতে বাড়ির দেয়াল ও প্রবেশ গেইটে ঘষামাজা শেষে রং করিয়েছেন। কেউ কেউ বাড়ির প্রবেশদ্বারে নান্দনিক কারুকার্য্য করিয়েছেন, মূল্যবান টাইলস্ লাগিয়েছেন। অথচ বাড়ির ধোয়া মোছা আর রং করানোর পরদিন সকালেই বাসা থেকে বেরিয়ে তারা দেখতে পাচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের ছবিযুক্ত পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে গেছে সড়ক-মহাসড়কসহ পাড়া মহল্লার অলিগলির পথগুলো। যে সৌন্দর্য্যরে জন্য বাড়ির গেইট ও দেয়াল ঘষামাজা করা হয়েছিল, সেই দেয়াল ও গেইটে পোস্টার-ব্যানারে ঢেকে গেছে নান্দনিক কারুকার্য্যরে সৌন্দর্য্য। প্রতি বছরের মতো এবারো মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছার পোস্টার লাগানোর দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন পুরান ঢাকার লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, বংশাল, কোতোয়ালি, সুত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও উত্তরা এলাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।


অতীতে দেখা গেছে, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলনের পোস্টার রাজধানী ছাপিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাঁটানো হয়েছিল। তবে এবার তার কোন শুভেচ্ছা পোস্টার তেমন একটা সাঁটানো হয়নি। জাপার এই নেতার পরই রয়েছে কামরাঙ্গীরচরের ৫৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেনের ঈদ শুভেচ্ছার পোস্টার। শুভেচ্ছা পোস্টার লাগিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, তার সহোদর ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মুকবুল হোসেন, ঢাকা দক্ষিণের নেতা আখতার হোসেন, বিএমএ মহাসচিব ও সাবেক এমপি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদিদ্দন, আ’লীগ নেতা হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন মিয়া, ঢাকা-২ আসনের সাংসদ ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ঢাকা-৭ আসনের সাংসদ হাজী সেলিম, ৫৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী সাইদুল মাদবর, আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা কামাল সরকারসহ ঢাকার দুই সিটির আরো অনেক নেতাকর্মী। এছাড়া ডিএসসিসি-ডিএনসিসি’র মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং আতিকুল ইসলামসহ উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি সম্বলিত বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা পোস্টার সাঁটিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মী এমনকি সংশ্লিষ্ট এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলররা। তাদের অনুসারিরাও নিজেদের স্বঘোষিত নেতা জাহির করতে শুভেচ্ছ জানিয়ে অলিগলিতেও পোস্টার-ব্যানার টাঙিয়েছে। পোস্টার নির্ভর এসব নেতার তৎপরতায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ঢাকার দুই সিটির বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর পাড়া-মহল্লার অলিগলি থেকে শুরু করে মূল সড়কের বাসা-বাড়ির দেয়াল-গেইট, বিভিন্ন যাত্রী ছাউনি, বৈদ্যুতিক খুঁটি, ফ্লাইওভার, দুর্নীতি দমন কমিশন ভবন, শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় প্রেসক্লাব, পল্টন মোড়, নয়াপল্টন, গুলিস্তান, জিরো পয়েন্ট, মতিঝিল, ঢাকা মেডিকেল চত্বর, ঢাবি-বুয়েট ক্যাম্পাস, পুরান ঢাকা, মালিবাগ মোড়, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, কাঁটাবন, বাটা সিগন্যাল, হাতিরপুল, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, গেন্ডারিয়া, ফার্মগেট, নিউমার্কেট, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী মোড়, মিরপুর গোলচত্বর, শাহবাগ, উত্তরা এলাকার বিভিন্ন স্থাপনার দেয়াল এখন ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা পোস্টারে ঢেকে গেছে।
লালবাগের বাসিন্দা সাইজুদ্দিন আহমেদ সাজু ও ব্যাংকার সাইফুল ইসলাম জানান, পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকার বাসা-বাড়ির দেয়াল ও গেইটে লাগানো দলীয় নেতাকর্মী এমনকি জনপ্রতিনিধিদের বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা পোস্টারগুলো দেখে মনে হচ্ছে- যারা আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন, সমাজকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, জনপ্রতিনিধিত্ব করেন, তারাই আইন অমান্য করে নগরবাসীর সাধারণ মানুষের সৌন্দর্য্যরে স্বপ্নকে বিষাদে পরিণত করছেন। আইন থাকতেও তা উপেক্ষা করে যারা ব্যানার-পোস্টার লাগিয়ে গোটা রাজধানীসহ সারাদেশের সৌন্দর্যহানি করছেন, তারা পরবর্তী সময়ে কতটুকুইবা নগরের উন্নয়ন ও সৌন্দর্য্যবর্ধনে ভূমিকা রাখবেন এমনকি নগরবাসীকে সৌন্দর্য্যবর্ধণে সম্পৃক্ত করবেন এসব পোস্টারই তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা বলেন, শুধু আইন দিয়ে এ অবস্থার পরিবর্তন করা যাবে না। জনপ্রতিনিধিসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগও থাকতে হবে। আমরা এ শহরে বসবাস করি। এ শহর সুন্দর রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার।

ব্যবসায়ী ফজলুল হক জানান, তিনি তার বাড়ির বাউন্ডারি দেয়ালে রং করিয়ে লিখে দিয়েছেন- দেয়ালে লেখা ও পোস্টার লাগানো নিষেধ। কিন্তু কে শোনে এ নিষেধাজ্ঞ। দিনের বেলায় পাহারা দিয়ে রাখলেও রাতের আঁধারে কোন একটি গ্রুপ ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় দিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে এসব শুভেচ্ছা পোস্টার লাগিয়ে দিচ্ছে। যারা পোস্টার লাগাচ্ছেন, তারা অনেকেই হয়তো পোস্টার লাগানোর আইন ভালো করে জানেন না। তবে যাদের বড় বড় ছবিসহ পোস্টার সাঁটানো হচ্ছে, তারা কি রাস্তায় চলার পথে দেখেন না, সৌন্দর্য্যহানি ঘটেছে কিনা? তারা কি এর আইন জানেন না? সবই জানেন। কেবল ক্ষমতার দাপটই তাদের শক্ত হাতিয়ার। ওই ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা কি দেখেন না। তাহলে তাদের কাজ কি? তিনি বলেন, ইচ্ছা থাকলেও জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মী এমনকি প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অসচেতনতা আর অসহযোগিতার কারণে দেয়ালের সৌন্দর্য্য ধরে রাখা যাচ্ছে না। একই অবস্থা চলছে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনপদ-হাটবাজার।

জানা গেছে, দেয়ালে পোস্টার লাগানোর জন্য রাজধানীতে অন্তত ৫০টি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। বিভিন্ন গ্রুপ টাকার বিনিময়ে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধির শুভেচ্ছা পোস্টার, কোচিং সেন্টারসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পোস্টার লাগিয়ে দেয়। প্রতিটি গ্রুপ প্রতি রাতে নগরীর দৃষ্টিনন্দন স্থানে প্রায় ৫শ’ পোস্টার দেয়ালে লাগায়। সেই হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার পোস্টার রাজধানীর দেয়ালে নতুন করে লাগানো হয়। ফার্মগেট এলাকায় পোস্টার লাগানোর কর্মী সোহেল জানান, রাতে তারা বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার লাগান। পোস্টারের সাইজ ও ধরণ অনুযায়ী টাকা নিয়ে থাকেন বলে জানান তিনি।

নগর বিশেষজ্ঞরা জানান, নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়মিত তদারকির বিষয়। নগরীতে ইচ্ছেমতো দেয়াল লিখন বা পোস্টার সাঁটালে স্থাপনার সৌন্দর্য নষ্ট হয়। অপরিচ্ছন্ন হয় শহর-গ্রামের নান্দনিক দৃশ্য। রাজধানী ঢাকা শহরেও এর আইন রয়েছে। কিন্তু যথাযথ প্রয়োগ ও প্রচারের অভাবে অনেকেই আইন সম্পর্কে সচেতন নন। শহর ঘুরে দেখলে মনে হবে- পুরোটাই যেন বিজ্ঞাপন আর শুভেচ্ছা প্রচারণার নগরী। এ বিষয়ে সচেতনতার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগ করার কোনো বিকল্প নেই। সিটি করপোরেশনের ঘোষণা দেয়া বোর্ডের বাইরে কেউ পোস্টার লাগালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা জানান, ২০১২ সালে দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো নিয়ন্ত্রণ আইন গেজেট আকারে প্রকাশ করে সরকার। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোনো দেয়াল বা স্থানে যে কোন ধরনের পোস্টার লাগানো নিষেধ। আইন ভঙ্গ করলে ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা এবং অনূর্ধ্ব ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনধিক ৩০ দিন পর্যন্ত কারাদ-ের বিধান রয়েছে। তবে এ আইনের তোয়াক্কা না করেই জাতীয় উৎসবের শুভেচ্ছা পোস্টার ও বিজ্ঞাপন পোস্টার লাগানো হচ্ছে যত্রতত্র।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নগরীর সৌন্দর্য রক্ষায় ও পরিচ্ছন্নতা বিধানে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১২’ পাস করা হয়। ২০১২ সালে এ আইনটি পাস হলেও এ অবধি কাগুজে-কলমে আইন হয়েই আছে। আইন অমান্য করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নগরীর যত্রতত্র পোস্টার-ফেস্টুন লাগাচ্ছেন তারা। এ ধরনের তৎপরতাকে দ-নীয় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে- কারো বিরুদ্ধে এ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে, মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯ অনুযায়ী বিচার করা হবে। সুবিধাভোগির ক্ষেত্রে অভিযোগ পাওয়া গেলে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার হবে। আইন লঙ্ঘনকারী কোন ব্যক্তি, কোম্পানির প্রত্যেক পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব, অংশীদার, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এ অপরাধ সংঘটন করেছে বলে ধরা হবে।

ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজধানীতে যত্রতত্র পোস্টার লাগানো থেকে বিরত রাখতে ডিএনসিসি এলাকায় অন্তত ২০টি স্থানে বোর্ড স্থাপন করে দিয়ে পোস্টার লাগাতে বলছে সংস্থা দু’টির বর্জ্য বিভাগ। গুলশান শুটিং ক্লাব, খামারবাড়ি, উত্তরা, মিরপুর, মহাখালী, ফার্মগেট, মোহাম্মদপুর এলাকায় বিলবোর্ডগুলো লাগানো হয়। রাজধানীর আসাদগেট, মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সেন্টার, মানিক মিয়া এভিনিউয়ে টিঅ্যান্ডটি মাঠের পাশে, মিরপুর টোলারবাগ আবাসিক এলাকা, মিরপুর-১ রাইনখোলা মোড়সহ ডিএনসিসির পোস্টার লাগানোর স্ট্যান্ডগুলো খালি পড়ে আছে। যত্রতত্র পোস্টার লাগানোর অপরাধে জরিমানা করেও নির্ধারিত স্থানে পোস্টার লাগানোর অভ্যাস তৈরি করা যাচ্ছে না। তবে ডিএনসিসি’র কর্মকর্তারা বলেন, মেয়র আনিসুল হক যত্রতত্র পোস্টার লাগানো বন্ধ করতে এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্ত তিনি মারা যাওয়ার পর এ বিষয়টি যথাযথভাবে তদারকি না থাকার কারণে আবার ছেঁড়া-ফাটা পোস্টার ব্যানারে দেয়াল ছেয়ে যাচ্ছে। আজ সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ডিএসসিসিতে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. বদরুল আমিন ঢাকা প্রতিদিনকে জানান, এ বিষয়টি তিনি দেখেন না। এটা দেখেন প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা। সেখানে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি। এরপর ওই বিভাগের কর্মকর্তা আরিফুল হকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকা প্রতিদিনকে জানান, তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন, এ বিষয়ে সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তবে সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা জানান, মূলত জনবল সংকটের কারণে এমনকি নগরবাসীর অসচেতনতার ফলে নগরীর সৌন্দর্য্যবর্ধনে এসব পোস্টার-ব্যানার অপসারণ ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে এর বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান চালানো জরুরি বলেও মনে করছেন সংস্থার কর্মকর্তারা।


এই বিভাগের আরো খবর