স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রত্যেকটা পরিবারের প্রধান নারীরা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন সুতরাং কেউ অধৈর্য হবেন না।
আমি এইটুকু ওয়াদা করতে পারি। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বলেছিলাম এটা আমার শেষ নির্বাচন। আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন৷ আমি আপনাদের ঋণ কখনো শোধ করতে পারবনা৷ তাই আপনাদের কিছু কাজ ও উন্নয়ন করে ঋণ পরিশোধ করতে চাই।
মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নে রহিমানপুর সম্মিলিত ঈদগাঁ আলীম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলট বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন,প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। এই কার্ড সবাই পাবেন,প্রত্যেক ঘরে ঘরে যাবে। শুধু সময়ের ব্যাপার৷ ফ্যামিলি কার্ড একটা শক্তি বা ক্ষমতা৷ যেটা নিয়ে আপনি সব জায়তায় দাড়াতে পারবেন৷ এই কার্ডের মাধ্যমে একটা ক্ষমতা তৈরী হবে আপনাদের। পুরুষেরা আপনাদের গুরুত্ব দেয়া শুরু করবে৷ সকলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। তিনি আমাদের এই এলাকা বেছে নিয়েছেন৷
মন্ত্রী বলেন, সরকারে আসার ২২ দিনের মধ্যে কার্ড দিয়েছি। ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। ১৬ তারিখে খাল-খনন শুরু হবে। বর্ষার সময় যে পানি হয় সেটা সংরক্ষণ করে খরায় কাজে লাগানো হবে৷ প্রত্যেকটা কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। তা দিয়ে ন্যাযমূল্যে সার,সেচ ও বীজ কিনতে পারবেন৷
মির্জা ফখরুল বলেন, ১৫ বছর আইনকানুন ছিলনা৷ আমাদের নানা ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। টাকা ছাড়া কার্ড পাওয়া যেতনা। এবারে কোন টাকা পয়সা লাগেনি৷হতাশ হবেননা,সবাইকে কার্ড দেওয়া হবে। নারী ডিসি, এসপিরাও কার্ড পাবেন৷ তিনি কি কাজে ব্যবহার করবেন সেটা পরের বিষয়৷ জনগণের শক্তির কাছে কোন শক্তিই বড় নয়৷
নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সরকার সারা দেশে এই পাইলট প্রকল্প শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শর্তসাপেক্ষে কার্ড বিতরণের কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৫৯০ জন নারীকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজেই ওনার আব্বা জিয়াউর রহমান সাহেবের মতোই কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়ে খাল কাটা শুরু করবেন। সারা দেশে অসংখ্য খাল কাটা হবে। এই খাল কেটে বর্ষার সময় যে পানি হয়, সেই পানি আমরা জমা করে রাখব। আর খরার দিনে যখন আবাদ হবে, তখন আমরা সেই পানি নিয়ে ব্যবহার করব।’
মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এই উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁওয়ে বেশি দরকার হয় এটা (পানি)। আমাদের তো পানি নাই। টিউবওয়েলের পানি ছাড়া আমরা কি কোনো পানি পাই? পাই না। বরেন্দ্র একটা প্রজেক্ট আছে, সেখান থেকে কিছুটা পানি পাই। সেই সঙ্গে খালগুলো যদি আমরা পানি বোঝাই করে রাখতে পারি, কৃষিকাজের সুবিধা আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাব। এ ছাড়া কৃষকদের বিশেষ কার্ড দেওয়া হবে, যা দিয়ে ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে।’
ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, আমি কাজের মাধ্যমে সেই ঋণ শোধ করতে চাই। আগামী অর্থবছর থেকেই ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজে ভর্তি শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পাস হয়েছে, দ্রুতই ভিসি (উপাচার্য) নিয়োগ ও ক্যাম্পাস চালুর কাজ শুরু হবে। বিমানবন্দর সচল করা হবে। এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে।’
বেকার যুবকদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের শিক্ষিত ছেলেদের আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং ট্রেনিং দেওয়া হবে, যাতে তারা ঘরে বসেই মাসে দুই-তিন লাখ টাকা আয় করতে পারেন। ১৫ বছরের অনিয়ম কাটিয়ে আমরা একটি সুন্দর ব্যবস্থা গড়তে চাই।’
এসময় জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের এমপি ডা. আব্দুস সামাদ, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী সহ সরকারি দপ্তরে বিভিন্ন কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ। কবিতা অর কথার মালায় অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম।