খুলনার পাইকগাছায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রাপ্ত জমি বিবাদী পক্ষরা জবর দখল করতে যেয়ে বাড়ী-ঘর ও চিংড়ী ঘের লুপাট এবং অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ ঘটনায় থানায় মামলা করায় বসতিদের এলাকা ছাড়ার হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জানা যায়, উপজেলার আগড়ঘাটাস্থ কপোতাক্ষ নদের ভাঙ্গনে জেগে উঠা চরভরাটে জমি ৫৫ জন ভুমিহীনকে ৩ বিঘা করে বন্দোবস্ত দেয়া হয়। যা পার রামনাথ পুর গ্রাম নামে পরিচিত। সে অনুযায়ী উক্ত জমিতে বসতবাড়ী বানিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর যাবৎ তারা সেখানে বসবাস করছেন।
রোববার বিকেল ৫ টার দিকে হরিঢালী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফারুখ হোসেন লাকির নেতৃত্বে ভুমিহীনদের বন্দোবস্তকৃত জমি জবর দখলে যায় ৪০-৫০ জন।
এ সময় তারা ভুমিহীনদের বসত বাড়ীতে যেয়ে হামলা চালিয়ে নারী-পুরুষদের বেধড়ক মারপিট করে জখম করে। এ ঘটনায় ফাইমা বেগম (২৮) কে জখম অবস্থায় পাইকগাছা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উক্ত ঘটনায় হামিদ সরদার বাদী হয়ে রাতেই থানায় ইজহার দাখিল করেন।
আর এ খবর পেয়ে গভীর রাতে ইউপি সদস্য লাকির নেতৃত্বে আশরাফ শেখ, আজিজ শেখ, মজিদ শেখ, রহিম শেখ, ইউনুছ শেখ, হোসেন আলী শেখ, মোশাররফ চৌধুরী, শেখ রাজনসহ ৪০-৫০ জন ঘেরের বাঁধ কেটে মাছ লুপাট করে। এছাড়াও অগ্নি সংযোগ করে তপন বিশ্বাস ও সুতপ্ত গাইনের দুটি ঘর ভস্মীভূত করে দেন। এ সময় লোকজন জীবন রক্ষায় এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান বলে ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলামসহ ভুমিহীনরা ভিডিও স্বাক্ষাত কালে বলেন।
তাদের দাবী নারীদের হেনস্থা করা হয়েছে, পুড়ে গেছে সাগরে মাছ ধরার দুটি বড় ফাস জাল যার মুল্য ৫ লক্ষাধিক টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য লাকি বলেন, ঐ জমি রেকর্ডীয় জমি। আর আমি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করি। তাদের দেখভালের দায়িত্ব আমার।
পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া বলেন, একটা ইজহার দাখিল হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।