জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই- এটা এখন তিস্তা পাড়ের মানুষের প্রাণের আন্দোলন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তিস্তা নদীর অববাহিকায় বসবাসরত প্রায় ২ কোটি মানুষের জীবন যাত্রায় বৈল্পবিক পরিবর্তন আসবে।
রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ড প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হতে চলেছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের শত শত একর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং স্থানীয় কৃষকরা অর্থনৈতিক ভাবে উপকৃত হবেন। উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ৫ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ তাইজুল ইসলাম।
সোমবার দুপুরে বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে চেয়ারম্যান মোঃ তাইজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিস্তা পাড়ের মানুষের প্রাণের দাবী দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হোক। চলতি অর্থবছরে বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯টি মস্জিদ সংস্কার এবং ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মনেস্বর মৌজায় নতুন মস্জিদ, মন্দির মৌজায় দৌলভ কুটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা মেরামত, পাড়া মৌলা মৌজায় অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক লাভলুর বাড়ীর সামনের মস্জিদ সংস্কার, দৌলভ কুটি মৌজায় কবরস্থানের প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।
কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ইউপি সদস্য রেয়াজুল ইসলামের বাড়ী হতে আজগারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাই করা হয়েছে। বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে কৃষকদের কৃষি কাজে সহায়তার জন্য ২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৯টি স্প্রে মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ তাইজুল ইসলাম মতবিনিময়কালে আরোও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত বাজেট থাকায় তা দিয়ে উন্নয়ন কাজ ব্যপক ভাবে করা যায় না। স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে পরিষদ গুলোতে একটা থোক বরাদ্দ দিলে পরিষদের নিজস্ব চাহিদার আলোকে প্রকল্প নিয়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ সেফারুল ইসলাম বলেন, আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে ভিজিএফ এর চাল বিতরণের লক্ষ্যে পরিষদের পক্ষ থেকে আমরা একটি সুন্দর পরিকল্পনা নিয়েছি। তা হচ্ছে- স্মার্ট কার্ড অর্থাৎ ডিজিটাল এনআইডি কার্ড দেখে দেখে ভিজিএফ এর মাল সুফল ভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হবে। কারণ একই ব্যক্তি মহিলা ইউপি সদস্যকে, পুরুষ ইউপি সদস্যকে এবং সর্বশেষ চেয়ারম্যানকে তাদের এনআইডি কার্ডের ফটোকপি দিয়ে থাকেন। এতে করে নানা রকম বির্তক তৈরি হয়। যা নিরসনে স্মার্ট এনআইডি কার্ড সরাসরি জমা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য মোছাঃ রাজিয়া বেগম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যানদের সম্মানি ভাতা সাড়ে ১০ হাজার টাকা এবং ইউপি সদস্যদের সম্মানি ভাতা সাড় ৮ হাজার টাকা দেয়া হয়। যা খুবই নগন্য, সরকারি ভাবে জনপ্রতিনিধিদের সম্মানি ভাতার পরিমাণ নূন্যতম ৫০ হাজার টাকা করা উচিত।