নবগঠিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. মো. ইস্রাফীল শাহিন।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগ দেওয়া হয়। এ খবরে উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁও ও তার নিজ জেলা পঞ্চগড়ে আনন্দের বন্যা বইছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩’-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অধ্যাপক ড. ইস্রাফীল তার যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত (যেটি আগে ঘটবে) এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন। উপাচার্য হিসেবে তিনি তার বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা ও বিধি মোতাবেক অন্যান্য সুবিধা পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাস এলাকায় অবস্থান করতে হবে। তবে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
অধ্যাপক ড. মো. ইস্রাফীল নাট্যকলা ও শিক্ষাঙ্গনে এক অতি পরিচিত নাম। তিনি ১৯৯১ সালে ভারতের মর্যাদাপূর্ণ ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (এনএসডি) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৯৯ সালে কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশের পথনাটক বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায় নিয়োজিত এই গুণী ব্যক্তিত্ব ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে তিনি ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের প্রায় ১৬টি দেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মশালা ও গবেষণামূলক কাজে অংশ নিয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।
অধ্যাপক ইস্রাফীলের শেকড় উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায়। তবে তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে ঠাকুরগাঁও শহরেই। তার বাবা একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন। পদ্ধতিগত অভিনয় এবং স্থানীয় নাট্যরীতিকে নৃবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে উপস্থাপনের জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
স্থানীয়রা মনে করছেন, একজন যোগ্য ও শেকড়সন্ধানী মানুষ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের হাল ধরায় প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সাফল্যের মুখ দেখবে।