সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের অসিত কুমার ঘোষ গংয়ের বিরুদ্ধে নলতা শরীফ এলাকার এক ব্যক্তির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
আজ সোমবার (১১ মে) সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে কালিগঞ্জের নলতা শরীফ এলাকার মৃত শেখ মকবুল হোসেনের ছেলে মাহফুজুল ইসলাম এই অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিগত ২০১২ সালে ২ আগষ্ট রেজিস্ট্রি ৩০৬৪ নং দলিল মূলে ইমদাদ হোসেনের ওয়ারেশদের নিকট থেকে ২.৫০ শতক এবং পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ৬ মার্চ ৯০১ নং পাওয়ার অব এ্যাটার্নির মাধ্যমে ১৮.৫০ শতক জমি মিলে সর্বমোট ২১ শতক জমি সরকারী খাজনা পরিশোধ পূর্বক শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখলিকার ও বসবাস করে আসছিলাম। কিন্তু উক্ত জমি জোরপূর্বক দখল করার হীন মানসিকতায় কালিগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত কিশোরী মোহন ঘোষের ৫ ছেলে যথাক্রমে অসিত কুমার ঘোষ, অজয় কুমার ঘোষ, অরুন কুমার ঘোষ, সুকুমার ঘোষ ও স্বদেশ কুমার ঘোষ, অসিত কুমার ঘোষের দুই ছেলে রাকেশ কুমার ঘোষ ও রাজেশ কুমার ঘোষ, দেবহাটার পারুলিয়া গ্রামের মোহাম্মাদ আলী গাজীর ছেলে মোঃ মোমিন গাজী, আশাশুনির বদরতলা গ্রামের নির্মল ঘোষের ছেলে সৌরভ বাইন, আশাশুনি সদর গ্রামের মন্টু সরদারের ছেলে মোঃ ফাহিম হোসেন, কালিগঞ্জের নলতা গ্রামের কেষ্টপদ দাসের ছেলে তরুন কুমার দাস সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করে। তাদের সাথে বসতবাড়ীর সম্পত্তি নিয়া দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে তারা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে প্রায় আমাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করাসহ হুমকি ধামকি প্রদান করতে থাকে।
মাহফুজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জামায়াত অফিসে উভয় পক্ষকের বসাবসির এক পর্যায়ে শুধু কালক্ষেপন করে সময় নিতে থাকে। পরবর্তীতে ৭ দিনের সময় নিয়ে আসলেও তারা কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এরই মধ্যে উক্ত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের পায়তারা করতে থাকলে উক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আমার স্ত্রী মোছাঃ রাফিজা খাতুন (৩৫) বাদী হয়ে গত ২৪ এপ্রিল সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৪৫ ধারা মোতাবেক পিটিশন মামলা (নং-৫৩৪/২৬) দায়ের করে। পরবর্তীতে আসামীরা উক্ত সম্পত্তি নিয়ে ফের হুমকি প্রদান করলে আমার স্ত্রী বাদী হয়ে আদালতে ১০৭/১১৭ ধারার মামলা দায়ের করে। এমতাবস্থায় গত ৯ মে রাত ২টার দিকে আসামীরা পূর্ব শত্রুতার জেরধরে বে-আইনীভাবে দলবদ্ধ হয়ে ধারালো দা, লোহার রড, বাঁশের লাঠি, হাঁতুড়ি, কাঠের বাটাম ইত্যাদি নিয়ে নলতা শরীফ সাকিনস্থ আমার বসতবাড়ীতে ঢুকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। আমার স্ত্রী রাফিজা খাতুন আসামীদের গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে তারা বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে আমার স্ত্রীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফোলা জখম করে। এসময় তারা আমার স্ত্রীর পরনে কাপড় টেনে ছিড়ে দিয়ে বেআবরু করে শ্লীলতাহানি ঘটায়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এসময় সন্ত্রাসীরা আমার বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালষ্কারসহ ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধান করে। একই সাথে সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা আমার বাড়ির পাঁকা প্রাচীর, বসতবাড়ীর বিভিন্ন অংশ ভাংচুর করে। এঘটনার পর থেকে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তহীনতায় ভুগছি। তারা যে কোনো সময় আমাদের খুন জখম করতে পারে। ঘটনার পর ৯ মে কালিগঞ্জ থানায় রিখিত অভিযোগ দিলে অফিসার ইনচার্জ ফোন করে অসিত কুমার ঘোষকে থানায় হাজির হতে বললে তিনি সময় নিয়ে আর থানায় হাজির হননি। এসময় পুলিশ আমাদের মামলা গ্রহণ না করে উল্টো আমাদের নামে মিথ্যে মামলা রেকড করেছে।
তিনি এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সঠিকভাবে তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি পরিবার নিয়ে যাতে নির্বিঘে চলাফেরা ও উক্ত জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারেন সেবিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনসহ পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন।