ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশায় দিন কাটছে কৃষকদের।
উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। এর ওপর সরকারি খাদ্য গুদামে ধান ক্রয়ের ধীরগতি কৃষকদের সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, এ বছর সেচ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ ধানের উৎপাদন খরচ গতবারের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অথচ স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ বোরো ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১২০০ টাকায়। যেখানে উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। অন্যদিকে, সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা অর্থাৎ প্রতি মণ ১৪৪০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও কৃষকরা সেই সুফল পাচ্ছেন না।
কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় ধান ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে সাধারণ কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতির কারণে সরকারি গুদামে ধান বিক্রির জন্য এবার অনলাইনে আবেদন করেছেন মাত্র ৩২০ জন কৃষক।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে ফুলবাড়িয়া উপজেলা খাদ্য গুদামে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০৯০ মেট্রিক টন। তবে ধীরগতির কারণে এ পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ১৪৪ মেট্রিক টন ধান। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় খুবই সামান্য ধান সংগ্রহ হওয়ায় সরকারি ক্রয় কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
ধান কেনায় কেন এই ধীরগতি—জানতে চাইলে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা জানান, মূলত চটের বস্তার (ছালা) সংকট থাকায় ধান ক্রয়ে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “বস্তা বা ছালা সরবরাহ নিশ্চিত হলে পুরোদমে ধান ক্রয় শুরু হবে। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হব বলে আশা করছি।”
এদিকে, স্থানীয় কৃষক আব্দুল কাদের বলছেন, সঠিক সময়ে সরকারি গুদামে ধান সংগ্রহ করা না হলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে সিন্ডিকেটের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হবেন। এতে প্রকৃত কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং কৃষি উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। দ্রুত সিন্ডিকেট ভাঙা এবং সরকারি ক্রয় কেন্দ্রগুলোতে কৃষকের হয়রানি কমিয়ে দ্রুত ধান সংগ্রহের দাবি জানিয়েছেন তারা।