সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড শাহ জালাল মিয়াকে পাবনা থেকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশের একটি দল। গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতার করে রাতেই শাহজাদপুর থানায় নিয়ে আসা হয়।
আজ শুক্রবার শাহজাদপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হলে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। শাহ জালাল মিয়াকে ৪ঠা আগস্ট ছাত্র জনতার উপরে হামলার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
এছাড়াও তার নামে শাহজাদপুর থানায় ৩টি মামলা রয়েছে। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকায় ছাত্র জনতার উপরে হামলায় হত্যা ঘটনায় মামলার আসামিও তিনি। এই মামলার প্রধান আসামি পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আ.লীগ নেতা শাহ জালাল মিয়া সাতবাড়িয়া ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ থাকাকালীন কলেজের বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। তৎকালীন উপাধ্যক্ষ শাহাদত হোসেন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মিলে তার কাছে হিসাব চাইলে তিনি অসদাচরণ করেন। প্রেক্ষাপটে এলাকাবাসী তাকে মারধর করে, এক পর্যায়ে কলেজের গভর্নিং বডির অন্যতম সদস্য মোঃ লুৎফুর রহমান লাল মিয়ার হাতের আঙ্গুল কামড়ে ছিঁড়ে ফেলে, পরবর্তীতে এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়।
গ্রেফতারকৃত এই আওয়ামীলীগ নেতার আপন ভাগিনা জামিল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমার নানা-নানীর সম্পত্তি সে এককভাবে জোড় করে লিখে নিয়ে তাদেরকে বাসায় আটকে রেখে নির্যাতন করতেন। তাদের সাথে আমার মা খালাদের দেখা করতে দেয়া হতো না, নানা নানি মানবেতর জীবন যাপন করা অবস্থায় মারা যায়।
এছাড়া তিনি তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক হলেও ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগ দলের সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা ছিল না। টাকার বিনিময়ে পদ কিনে সেই পদের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অন্যায় অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে সে আমাদের উপরে বিভিন্ন সময় জুলুম নির্যাতন ও অত্যাচার করে আমাদের বাড়ি ছাড়া করার উপক্রম করেছে। এবং ভূমিহীনদের কাছ থেকে সরকারি জমি লিজ দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাবনার শালগারিয়া শশুরবাড়ি থেকে আ.লীগ নেতা শাহ জালাল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। আজ তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে শাহজাদপুর আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোসলেম উদ্দিন তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।