কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ভুল চিকিৎসায় সেলিনা বেগম (৪৭) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালে ভাঙচুর করেছে রোগীর স্বজনরা।
শনিবার (৮ জুলাই) সকাল আটটার দিকে ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর নিউ টাউন এলাকার গ্রামীণ হাসপাতালে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর নাম সেলিনা বেগম। তিনি পৌর শহরের জগন্নাথপুর দক্ষিণপাড়া আওয়ালকান্দা এলাকার আক্তার মিয়ার স্ত্রী।
স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌর শহরের নিউ টাউন এলাকায় গ্রামীণ হাসপাতালে জরায়ু অপারেশনের জন্য ভর্তি হন সেলিনা বেগম। ডা. ফাহিমা শারমিন হানীর তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শুক্রবার বিকাল ৪টায় জরায়ু অপারেশন করেন। সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মোটামুটি ভালো থাকার পর থেকে রাত ১১টায় সেলিনা বেগমের অবস্থা অবনতি হতে থাকে। রাত ৪টায় সময় রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হলে হাসপাতালের ডিউটি চিকিৎসক সেলিনা বেগমকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।
এ বিষয়ে রোগীর মেয়ে জামাতা শাহ আলম জানান, এ বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা কোনো পাত্তাই দেননি। রাত ৪টায় অজ্ঞান অবস্থায় আমার শাশুড়িকে ঢাকা নিয়ে যেতে বলা হলে আমরা বুঝতে পারছিলাম না কী করবো। শাশুড়ির কোনো সাড়া ছিল না। পথিমধ্যে একটি হাসপাতালে ডাক্তার দেখালে তারা বলেন, আমার তিনি মারা গেছেন। তবুও ভোরে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। সকালের দিকে আমরা আবারও হাসপাতালে ফিরে আসলে হাসপাতালের স্টাফরা গেইট খুলতে চাননি।’
রোগীর স্বামী আক্তার মিয়া জানান, তারা আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলেছেন। সামান্য জরায়ু অপারেশনে একজন নারী কিভাবে মরতে পারে। এর আগেও তাঁরা আরও দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন অচিকিৎসার মাধ্যমে। আমরা আগে জানলে এ হাসপাতালে আসতাম না।
গ্রামীণ জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক বদিউজ্জামান বদি জানান, ‘ডা. ফাহিমা শারমিন হানী ও ডা. দীপঙ্কর রায় এর তত্ত্বাবধানে সেলিনা বেগমের চিকিৎসা হয়েছিল।’
একাধিক অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. ফাহিমা শারমিন হানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে কোনো সদুত্তর মেলেনি। এমনকি ডা. ফাহিমা শারমিন হানীর মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহম্মদ ঢাকা প্রতিদিনকে বলেন, গ্রামীণ হাসপাতালের দুর্ঘটনা আমি লোকমুখে শুনেছি। অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।