প্রবাসী অধ্যুষিত চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় একটি আধুনিক সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার-টিটিসি) স্থাপনের দাবি দিন দিন জোরালো হয়ে উঠছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রবাসী পরিবার, শিক্ষিত তরুণ ও সচেতন নাগরিকদের মতে, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ে একটি সরকারি টিটিসি প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।
‘ফটিকছড়ি’ চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ প্রবাসী অধ্যুষিত উপজেলা। প্রতি বছর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজারো তরুণ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান।
তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এত বিপুল সংখ্যক বিদেশগামী শ্রমিক থাকা সত্ত্বেও উপজেলায় এখনো কোনো সরকারি টিটিসি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বর্তমানে প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহীদের চট্টগ্রাম নগরী, ঢাকা, বরিশাল কিংবা পাশের রাউজান উপজেলায় যেতে হয়। দূরত্ব, অতিরিক্ত ব্যয় এবং সময়ের অভাবে অনেকেই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ থেকে বিরত থাকছেন, যার প্রভাব পড়ছে বৈদেশিক শ্রমবাজারে।
সৌদি আরব প্রবাসী ইমরান হোসেন জানান, পাশের রাউজান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিএমইটির অধীনে ভাষা প্রশিক্ষণ, দক্ষতা মূল্যায়ন, রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা কর্মশালা ও আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। অথচ একই সুবিধা পেতে ফটিকছড়ির শিক্ষার্থী ও বিদেশগামীদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, ফটিকছড়িতে দ্রুত একটি আধুনিক সরকারি টিটিসি স্থাপন করা হোক। পাশাপাশি আরবি ও ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ, ইলেকট্রিক্যাল, ওয়েল্ডিং, ড্রাইভিং ও কেয়ারগিভারসহ বিভিন্ন কারিগরি কোর্স চালু, নারীদের জন্য বিশেষ দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ এবং নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের জন্য একটি কাউন্সেলিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেন, “প্রবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাদের কল্যাণ ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। প্রবাসী ভাইদের উন্নয়ন ও নিরাপদ কর্মসংস্থানের জন্য যা করা প্রয়োজন, তা করতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব (অব.) ও চট্টগ্রাম ওয়াসার সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম হোসেন বলেন, কারিগরি দক্ষতা ও ভাষাজ্ঞানের অভাবে অনেক শ্রমিক বিদেশে গিয়ে কম মজুরির কাজে নিয়োজিত হচ্ছেন। তিনি মনে করেন, ফটিকছড়িতে একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা গেলে বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা ও আয় বৃদ্ধি পাবে, পাশাপাশি প্রতারণার ঝুঁকিও কমবে।