শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ১ নম্বর কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন আয়নাপুর বাজার এলাকায় স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তবে স্কুল চলাকালীন সময়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে আয়নাপুর বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও অংশ নিতে দেখা যায়। এ সময় বক্তারা ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন আয়নাপুর বাজারে স্থাপনের দাবি জানান এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের প্রধান দায়িত্ব পাঠগ্রহণ। স্কুল চলাকালীন সময়ে তাদের মানববন্ধনের মতো কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের অবস্থান নির্ধারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়। কিন্তু এ দাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস থেকে এনে মানববন্ধনে দাঁড় করানো কতটা যৌক্তিক, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। অন্যদিকে মানববন্ধনের আয়োজকদের দাবি, ইউনিয়নবাসীর স্বার্থ বিবেচনায় আয়নাপুর বাজারে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন স্থাপন করা হলে সাধারণ মানুষের সেবা গ্রহণ সহজ হবে। এ কারণেই তারা মানববন্ধনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরেছেন।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের অবস্থান নির্ধারণে ইউনিয়নের সব ওয়ার্ডের জনগণের মতামত, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জনসেবা প্রাপ্তির সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন,মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি আমরা দেখেছি। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে, ওই এলাকায় একটি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন ছিল। সেখানে অংশ নিতে কিছু শিক্ষার্থী গিয়েছিল। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজ উদ্যোগে মানববন্ধনে অংশ নেয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন,ইউনিয়ন পরিষদের ভবনটি আয়নাপুরে হলে সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধাজনক হবে। সেই দাবিতেই এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে। তবে ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে আমি বলতে পারব না। হাজার হাজার মানুষ এখানে অংশ নিয়েছেন। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের কাউকে ডেকে আনা হয়নি। আশপাশের কিছু শিক্ষার্থী স্বেচ্ছায় এসেছে। স্কুল বন্ধ করে বা কাউকে বাধ্য করে এখানে আনা হয়নি। বিষয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে।
স্থানীয়দের মতে, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো একক পক্ষের দাবি নয়, বরং পুরো ইউনিয়নের জনগণের মতামত ও দীর্ঘমেয়াদি জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এমন কোনো কর্মসূচিতে তাদের সম্পৃক্ত না করার বিষয়েও সচেতনতা প্রয়োজন।