দীর্ঘদিনের জনভোগান্তি ও পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ানো নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন মারিখালী নদীপাড়ে গড়ে ওঠা ময়লার ভাগাড় অবশেষে অপসারণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাতের নেতৃত্বে এ ময়লার ভাগাড় অপসারণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত থেকে কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন। অভিযানে অংশ নেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমেদ, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক বাবুল হোসেন বিজয় এবং উপজেলা যুবদল নেতা রাকিব হাসান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মারিখালী নদীর ইউ-টার্ন এলাকায় বিভিন্ন স্থান থেকে এনে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছিল। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন বলেন, “নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনা এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা এই ময়লার ভাগাড় অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছি। নদী রক্ষা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। দেশকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা শুধু প্রশাসনের নয়, প্রতিটি নাগরিকেরও দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “মারিখালী নদী ও আশপাশের পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, “মারিখালী খালের পাশে ময়লা ফেলার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। স্থায়ীভাবে সমস্যার সমাধানের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। তবে উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কিছুটা সময় লাগবে।
তিনি আরও জানান, “বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় অস্থায়ীভাবে নির্ধারিত স্থানে মাটি খননের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা ময়লার ভাগাড় অপসারণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে যাতে নদী ও খালের তীরে আর কোনো অবৈধ ময়লার স্তূপ গড়ে না ওঠে, সে বিষয়ে কার্যকর নজরদারির দাবি জানান।