শহর যখন বদলে যায়, তখন বদলে যায় মানুষের স্বপ্ন, জীবন ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং সামগ্রিক উন্নয়নের ধারা।
শহর যখন বদলে যায়, তখন বদলে যায় মানুষের স্বপ্ন, জীবন ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং সামগ্রিক উন্নয়নের ধারা। নগরায়ণ, পরিকল্পিত আবাসন, বাণিজ্যিক অবকাঠামো ও আধুনিক সিটি-লাইফ আজ শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি নয়; বরং এটি একটি দেশের অগ্রগতি, সুসংগঠিত চিন্তা এবং সুদূরপ্রসারী নীতি-পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। বাংলাদেশে এ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রিয়েল এস্টেট খাতের দক্ষ পেশাজীবীরা। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত নগরায়ণশীল দেশ। ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের ৫০ শতাংশেরও বেশি মানুষ শহরে বাস করবে, যা বিশাল আবাসন চাহিদা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম, কমিউনিটি প্ল্যানিং এবং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করবে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শুধু ইঞ্জিনিয়ার বা স্থপতি যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ, যারা সম্পদের মূল্যায়ন, নীতি, অর্থায়ন, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, বাজার বিশ্লেষণ এবং পরিবেশ বিবেচনাকে একত্রে কাজে লাগাতে পারেন।
এ পেশাজীবী তৈরিতে দেশের প্রথম ও একমাত্র পূর্ণাঙ্গ স্নাতক পর্যায়ের রিয়েল এস্টেট প্রোগ্রাম চালু করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)। ২০০৮ সালে যখন রিয়েল এস্টেট বিভাগ চালু করে, তখন উচ্চশিক্ষায় এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ ডিগ্রি ছিল না। রিয়েল এস্টেটকে শুধু ব্যবসার ক্ষেত্র হিসেবে না দেখে, এটিকে বিজ্ঞান, গবেষণা, প্রযুক্তি এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে গড়ে তোলার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রথমবারের মতো স্নাতক পর্যায়ে রিয়েল এস্টেট শিক্ষা চালু করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ব্যবসায় প্রশাসন, মানবিক কিংবা বিজ্ঞান—যেকোনো শাখার শিক্ষার্থীর এ বিষয়ে ডিগ্রি নেয়ার সুযোগ রয়েছে। শুরুতে অল্প কিছু শিক্ষক ও স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বিভাগটি ধীরে ধীরে দেশের উন্নয়ন ও নগরায়ণের মূল ধারায় অবস্থান তৈরি করেছে। রিয়েল এস্টেট শুধু ভবন নির্মাণ নয়—এটি অর্থনীতি, সমাজ, পরিবেশ, নগর পরিকল্পনা, প্রযুক্তি এবং সরকারি নীতিকে একত্রে ধারণ করে এমন একটি সামগ্রিক খাত। শুরু থেকেই এ খাতের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের চেষ্টা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
রিয়েল এস্টেট বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েটের শতভাগ কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বিরল অর্জন। এ বিভাগে পড়াশোনা শেষে গ্র্যাজুয়েটরা বিভিন্ন খাতে সফলভাবে কাজ করছেন। শীর্ষস্থানীয় রিয়েল এস্টেট ও কনস্ট্রাকশন কোম্পানি, ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান, হাউজিং ফাইন্যান্স কোম্পানি ও ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স ও ইনভেস্টমেন্ট প্রতিষ্ঠান, ভূমি মন্ত্রণালয়, রাজউক, পৌরসভা ও সরকারি সংস্থা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ডেভেলপমেন্ট সংস্থা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন তারা। অনেক শিক্ষার্থী নিজস্ব রিয়েল এস্টেট কনসাল্টিং, নির্মাণ ও প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে উদ্যোক্তা হিসেবেও সফল হয়েছেন।
রিয়েল এস্টেট বিভাগের বর্তমান কারিকুলামে ব্যবসায় শিক্ষার পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থী আরো অনেক বিষয় শিখতে পারেন। রিয়েল এস্টেট আইন, নীতি ও বিধিমালা, হাউজিং ফাইন্যান্স ও বিনিয়োগ বিশ্লেষণ, ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ও সম্পদের মূল্যায়ন, প্রজেক্ট প্ল্যানিং, কস্টিং, মনিটরিং ও ডেভেলপমেন্ট এবং জিআইএস, অটোক্যাড, স্কেচআপ, এমএস প্রজেক্টসহ আধুনিক ডিজিটাল টুলগুলো শেখানো হয়। এছাড়া বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য রয়েছে ইন্ডাস্ট্রি ভিজিট, মাঠ জরিপ, কেস স্টাডি এবং ক্যাপস্টোন ইন্টার্নশিপ।
রিয়েল এস্টেট বিভাগ শুধু দেশের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। ইরাসমুস+ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সেমিস্টারভিত্তিক পড়াশোনার সুযোগ পান। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগে গ্র্যাজুয়েটরা ক্রমেই আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছেন।
বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট খাতের টেকসই উন্নয়ন, ডাটা-চালিত নীতি-সংস্কার এবং অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে ডিআইইউ এবং রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এক যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নিয়েছে। এ গবেষণা রিয়েল এস্টেট খাতের জিডিপিতে অবদান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নির্মাণ শিল্প, ব্যাংকিং, ইস্পাত, সিমেন্ট, পরিবহনসহ অন্যান্য খাতে এর প্রভাব, সাশ্রয়ী আবাসন নীতি, টেকসই নগর উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও আর্থিক প্রবাহের কাঠামো—এসব বিষয়ে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ তথ্যভিত্তিক চিত্র তুলে ধরবে। গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতে সরকারি নীতি, আর্থিক সিদ্ধান্ত, কর কাঠামো ও নগর পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখবে।
শহর শুধু ইট-পাথরের নয়; এটি মানুষের জীবনমান, সুযোগ, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের প্রতীক। সেই ভবিষ্যৎ তৈরির নেতৃত্ব দেয়ার জন্য যারা প্রস্তুত হচ্ছেন, তাদের পাশে আছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রিয়েল এস্টেট বিভাগ। দেশের প্রথম পথপ্রদর্শক এবং এখনো সবচেয়ে সফল রিয়েল এস্টেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। টেকসই নগর উন্নয়ন ও আধুনিক বাংলাদেশ গঠনে এ বিভাগের ভূমিকা আগামী দিনগুলোতে আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাসুম ইকবাল
উপ-উপাচার্য
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি