টমটম ছিনতাইয়ে নারীর ফাঁদ

সারাবাংলা

জুয়েল চৌধুরী, হবিগঞ্জ থেকে:
ইজিবাইক (টমটম) ছিনতাইয়ের জন্য নারীর ফাঁদ ব্যবহার করা হয়। ইজিবাইক চালক আলমগীরকে নারীর প্রলোভন দেখিয়ে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে নিয়ে যান ঘাতকরা। সেখানে একটি দোকানে আলমগীরকে ঝালমুড়ি খাওয়ায়। এরপর উদ্যানের ভেতরে একটি টিলায় নিয়ে তিন ঘাতক মিলে তাকে হত্যা করে। আলমগীরের ইজিবাইকটি নিয়ে যায় বানিয়াচং উপজেলায়। সেখানে অন্য একজনের কাছে ইজিবাইকটি ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে ভাগবাটোয়ার করে নেয়।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভেতরে গহীণ অরণ্যে নিয়ে চালককে হত্যার পর ইজিবাইক (টমটম) ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে পুলিশের হাতে আটক তিনজন। জবানবন্দিতে তারা চালককে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে গত শনি ও রোববার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম ১৬৪ ধারায় আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। তারা হচ্ছে জেলার মাধবপুর উপজেলার খড়কি গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে রোকন মিয়া (৩০), একই উপজেলার বেজুড়া গ্রামের ছফন উদ্দিনের ছেলে মুসলিম মিয়া (২৭) ও বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়ার মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে সোহেল মিয়া (৪০)। নিহত ইজিবাইক চালক আলমগীর মিয়া মাধবপুর উপজেলার বনগাঁও গ্রামের রহমত আলীর ছেলে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা জানান, ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভেতরে একটি টিলা থেকে শরীরের ৯০ শতাংশ গলিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের ৬ মাস পর চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি নিহত আলমগীরের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর তার মোবাইল ফোনের কল তালিকার সূত্র ধরে গত ১৮ ডিসেম্বর চুনারুঘাট থেকে মুসলিম ও ২০ ডিসেম্বর বানিয়াচং উপজেলা থেকে রোকন এবং সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তারা প্রাথমিকভাবে দোষ স্বীকার করে। আদালতের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার দিন ঘাতকেরা ইজিবাইক চালক আলমগীরকে নারীর প্রলোভন দেখিয়ে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে নিয়ে যান। সেখানে একটি দোকানে আলমগীরকে ঝালমুড়ি খাওয়ায়। এরপর উদ্যানের ভেতরে একটি টিলায় নিয়ে তিন জন মিলে তাকে হত্যা করে। পরে তারা আলমগীরের ইজিবাইকটি নিয়ে যায় বানিয়াচং উপজেলায়। সেখানে অন্য একজনের কাছে ইজিবাইকটি ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে তারা ভাগবাটোয়ার করে নেয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *