সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, তামাক একটি প্রাণঘাতী দ্রব্য। ধূমপায়ী ব্যক্তি যেমন ক্ষতির শিকার, তেমনি আশেপাশের মানুষও পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ ধূমপানের কারণে ভয়াবহ ঝুঁকিতে থাকে। তিনি বলেন, “তামাকের আগ্রাসনে বাংলাদেশে প্রতিবছর ১ লক্ষ ৬১ হাজার মানুষ অকাল মৃত্যুবরণ করে। প্রতিদিন মারা যাচ্ছে ৪৪২ জন। এত বড় মহামারীতে রাষ্ট্র উদাসীন থাকতে পারে না।”
তিনি আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে নারী মৈত্রী আয়োজিত ‘তরুণ-তরুণী, নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার গুরুত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
শারমীন এস মুরশিদ বলেন, তরুণ-তরুণী, নারী ও শিশুরাই আগামীর কান্ডারি। তাদের সুস্থ রাখতে হলে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে হবে। এ জন্য প্রস্তাবিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন অবিলম্বে পাশ করার কোনো বিকল্প নেই। সরকারের মধ্যে এ সংশোধনী নিয়ে যে দ্বিমত আছে তা খণ্ডন করে দ্রুত পাস করতে হবে, নইলে আমাদেরকেও একদিন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারী, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক মো. আখতারউজ জামান, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডা. গোলাম মহিউদ্দীন ফারুক, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক তনুশ্রী হালদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. খালেদা ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব শিবানী ভট্টাচার্য এবং ইয়ুথ ফোরামের প্রতিনিধি তাসফিয়া নওরীন ও রাইসুল ইসলাম রিফাত।
নারী মৈত্রীর টোবাকো কন্ট্রোল প্রজেক্টের কো-অর্ডিনেটর নাছরিন আকতার প্রোগ্রামের মূল উপস্থাপনা করেন।
সেমিনারে জানানো হয়, বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ বেশ কিছু সংশোধনী প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জন্য স্মোকিং জোন বাতিল করা
তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শন ও বিজ্ঞাপন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা
ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণ
বিড়ি-সিগারেটের খুচরা বিক্রি বন্ধ করা
তামাক কোম্পানির সিএসআর কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা
মোড়কে শতকরা ৯০ ভাগ সচিত্র সতর্কবার্তা দেয়া
বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো পাশ হলে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে এবং বৈশ্বিক মানদণ্ডে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।