বাড়ছে ভারতিয় পেঁয়াজের আমদানি, দাম বাড়ার সম্ভাবনা কম

অর্থ-বাণিজ্য লিড ১

ডেস্ক রিপোর্ট :দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বেড়েছে। ভারত সরকারের পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বাংলাদেশ সরকার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি (আইপি) প্রদান করায় স্থলবন্দর দিয়ে পণ্যটির আমদানি অব্যাহত আছে। ফেব্রুয়ারি ও মে মাস ব্যতীত চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুনই পর্যন্ত বন্দর দিয়ে ১ হাজার ৫৩টি ট্রাকে ২৮ হাজার ১২১ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। আমদানীকৃত এসব পেঁয়াজের বাজারমূল্য ৬৭ কোটি ৮১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৩৮ টাকা। এর মধ্যে শুধু জুনেই ৫১৭টি ট্রাকে ১৪ হাজার ১৫৩ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়।

পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজের এলসি খোলা হয়েছে। এছাড়া আসন্ন ঈদুল আজহা কেন্দ্র করে দেশের বাজারে চাহিদাও ব্যাপক। ফলে আমদানি অব্যাহত থাকবে। তবে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়বে না বলে জানিয়েছেন বন্দরের আমদানিকারকরা।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত সরকার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় সাড়ে তিন মাস বন্ধ ছিল পেঁয়াজ আমদানি। এ বছরের ২ জানুয়ারি বন্দর দিয়ে পুনরায় আমদানি শুরু হয়। কিন্তু মুনাফা অর্জন করতে না পারায় ২৭ জানুয়ারি বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দেন আমদানিকারকরা। পরে আবারো দেশের বাজারে চাহিদা বাড়লে ৪ মার্চ পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। পরে দেশীয় কৃষকের উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকার আইপি ইস্যু বন্ধ করে দেয়ায় ৩০ এপ্রিল থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় পণ্যটির দাম লাগাম ছাড়া হয়ে পড়ে। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আমদানির জন্য আইপি ইস্যু শুরু হলে ১ মাস ৪ দিন পর ৩ জুন থেকে আবারো বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। আমদানি এখনো অব্যাহত আছে।

জানুয়ারিতে বন্দর দিয়ে মাত্র ৩০টি ট্রাকে ৭৭০ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। ফেব্রুয়ারিতে বন্দর দিয়ে কোনো পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। মার্চে আমদানি কিছুটা বেড়ে ২৮৭টি ট্রাকে ৭ হাজার ৪৯৮ টনে উন্নীত হয়। এপ্রিলে আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমে ২১৯ ট্রাকে ৫ হাজার ৭০০ টনে দাঁড়ায়। মে মাসে বন্দর দিয়ে কোনো পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। জুনে আমদানি বেড়ে ৫১৭টি ট্রাকে ১৪ হাজার ১৫৩ টনে দাঁড়ায়। চলতি মাসেও বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোবারক হোসেন বলেন, সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণে পেঁয়াজের আইপি দিচ্ছে। ফলে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে পেঁয়াজের যে দাম রয়েছে, সেই দামেই ঈদের সময় কেনাবেচা হবে। বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি কিছুটা বেড়ে ৩০-৩৫ ট্রাক করে আমদানি হবে। প্রতি কেজির দাম ৩০-৩২ টাকার মধ্যেই থাকবে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ কিছুটা ওঠানামা করছে। কোনো সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন ১৫-২০ ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। আবার কোনো সপ্তাহে ৩০-৩৫ ট্রাক করে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। এভাবে বন্দর দিয়ে ফেব্রুয়ারি ও মে মাস ব্যতীত চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত চার মাসে বন্দর দিয়ে ১ হাজার ৫৩টি ট্রাকে ২৮ হাজার ১২১ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। পেঁয়াজ যেহেতু কাঁচামাল ও পচনশীল পণ্য তাই কাস্টমসের পরীক্ষণ-শুল্কায়নসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত তা খালাস করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *