স্বাধীনতার বায়ান্ন বছর অতিবাহিত হলেও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে শুরু করে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছেন জামালপুরের দরিদ্র ও অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালেব (৮৬)। তিনি মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
তিনি এ প্রতিবেদককে এই আকুতি জানান।
নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবিকারী মো. আব্দুল মোতালেব জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মহিষকৈল বাগবাড়ী গ্রামের মৃত নইম উদ্দিন সরকারের ছেলে। তার বয়স ৮৬ বছর। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে বিয়ে করে আলাদা সংসার করতেছে। বর্তমানে তিনি তার স্ত্রী সুলেখা বেগমকে নিয়ে জামালপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মনিরাজপুর এলাকায় মনিরাজপুর এলাকায় রাস্তার পাশে ছোট একটি মনোহারি দোকানের ব্যবসা করে স্ত্রীকে নিয়ে খুবই মানবেতরভাবে জীবন যাপন করছেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন আদর্শ সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন আদর্শ কর্মী হিসেবে আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত আছি। ২০১১ সালে আমাকে জামালপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটিতে উপদেষ্টা পদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
জামালপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক প্রয়াত কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম খোকা এবং তাঁর ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুজায়াত আলী ফকিরসহ জামালপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা অনেকেই আমাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিনেন। তারা বিভিন্ন সময়ে বিশেষ করে আমার অসুস্থতার সময় আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার জন্য হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং যানবাহনে যাতায়াতের ভাড়ার সুবিধা পাওয়াসহ নানাভাবে বিভিন্ন সময় আমাকে সহযোগিতা করে থাকেন।
তিনি দাবি করেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১১ নম্বর সেক্টরে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ ও দেশের মুক্তিকামী মানুষের জন্য অবদান রাখেন। এর প্রমাণ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের অধিনায়ক কর্নেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী স্বাক্ষরিত তৎকালীন দেশ রক্ষা বিভাগ থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্রও পান।
পরবর্তীতে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য ২০১৪ সালে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ওয়েব সাইটে আবেদন করেন। ২০১৪ সালে রহস্যজনকভাবে উপজেলা যাচাই বাছাই কমিটি তার নাম বাদ দেওয়ায় ২০১৭ সালে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে আপিল করে মুক্তিযোদ্ধা সনদ পাওয়ার জন্য আকুল আবেদন জানাই। মুক্তিযোদ্ধা সনদের জন্য প্রমাণ হিসেবে সব কাগজপত্র ঠিক থাকলেও আজও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার নাম তোলা হয়নি। ফলে আজও তিনি মুক্তিযোদ্ধা সনদ না পাওয়ায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়েও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে শুরু করে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা সনদ পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন অসহায় এই মুক্তিযোদ্ধা।