সকেল হোসেন, আক্কেলপুর থেকে:
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউপির নওদুয়ারী মাঠের রেল লাইনে গত শনিবার রাতের কোনো এক সময় ওই রেল লাইনটি ভেঙে গিয়েছিল। রোববার নওদুয়ারী গ্রামের ইউসুফ সকালে ৭টায় রেল লাইন দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল মাঠে ফলানো বীজতলা দেখতে। এসময় তার চোখে পড়ে একটি রেললাইন ভেঙে ফাঁক হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় ট্রেন চললে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত ইউসুফ তার ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে ফোন করে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানায়। এতে রক্ষা পায় চলাচলকৃত তিনটি ট্রেন।
জানা যায়, উপজেলার আক্কেলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন রেল গেট এলাকার ৩০৩ কিলোমিটার থেকে জামালগঞ্জ রেল ষ্টেশনের উত্তর আউটার অংশের ৩১০ কিলোমিটার এলাকায় রেল লাইন দেখাশোনার কাজ করেন মহিউদ্দিন নামে একজন চাবিওয়ালা (কি ম্যান)। তিনি প্রতিদিন ওই ৭ কিলোমিটার অংশের রেল লাইন দেখাশোনা করেন। গতকাল রোববার সকালে ইউসুফ আলী মাঠে বীজতলা দেখতে যাওয়ার সময় রেল লাইনের ভাঙা অংশটুকু নজরে পরে। এরপর বিষয়টি ইউসুফ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালে, রেলওয়ের লোকজন সেটিকে মেরামত করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ইউসুফ আলী বলেন, সকালে মাঠে বীজতলা দেখতে যাওয়ার সময় আমার নজরে পরে রেললাইন ভাঙা। তখন সঙ্গে সঙ্গে আমি মুঠোফোনে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানায়। এরপর সেখানে রেলওয়ের লোকজন উপস্থিত হয়ে ট্রেনগুলোকে নিরাপদে চলাচলের ব্যবস্থা করেন। রেলওয়ের চাবিওয়ালা (কি ম্যান) মহিউদ্দিন বলেন, সকাল সাতটায় এক যুবক মুঠোফোনে রেল লাইনের মাঝে ভাঙার সংবাদ দেয়। এরপর সঙ্গে সঙ্গে আমি লাল পতাকা হাতে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সীমান্ত আন্তঃনগর, মালবাহী এবং তিতুমীর আন্তঃনগর ট্রেন লালফ্লাগ উঠিয়ে ট্রেন দাঁড় করিয়ে খুব ধীরগতিতে ওই ভাঙা অংশটুকু পার করে দিয়েছি। রেলওয়ের শ্রমিকের হেড মিস্ত্রী আশরাফুল আলম বলেন, সংবাদ পেয়ে রেলওয়ের কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। ভেঙে যাওয়া অংশে একটি কাঠের কাট দিয়ে মেরামত করা হয়। সোমবার (আজ) পুরোপুরিভাবে মেরামত কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। তবে এখন সব ট্রেন দ্রুত গতিতে ও নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। আক্কেলপুর রেল ষ্টেশন মাষ্টার খাতিজা খাতুন বলেন, রেল লাইন ভেঙে যাওয়ার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছিল। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই অংশ ঠিক করে দিয়েছে। এখন সব ট্রেন নিরাপদে চলাচল করছে।