সালাহ্উদ্দিন শুভ, কমলগঞ্জ থেকে:
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে ৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে ১০৯ কোটি টাকার অধিক বৈদেশিক রেমিট্যান্স আয় এসেছে। আগত রেমিট্যান্সের অধিকাংশই শমশেরনগরের সোনালী ও পূবালী দুটি ব্যাংকের। করোনাকালীণ সময়ে এ আয় সরকারি প্রণোদনার কারণে হয়েছে বলে ব্যাংক কর্মকর্তারা মনে করেন। সোমবার কমলগঞ্জের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ঘুরে এ তথ্য জানা যায়। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাঙ্ক শাখা ব্যবস্থাপক মোজাহিদ খান জানান, গত ১১ মাসে তার শাখায় ৬ কোটি ৪ লাখ টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স আয় হয়েছে।কমলগঞ্জের ভানুগাছ শাখা অগ্রণী ব্যাংক ব্যবস্থাপক হোসনে মোবারক জানান, জানুয়ারি থেকে নভেম্বর ১১ মাসে এ শাখায় ৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স আয় হয়েছে। ডিসেম্বর মাসের হিসেব শেষে আরও আয় বাড়বে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাঙ্ক কমলগঞ্জ শাখা ব্যবস্থাপক নারায়ণ চন্দ্র রায় জানান, গত ১১ মাসে তার শাখায় ২ কোটি ১৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স আয় আসে।সোনালী ব্যাংক কমলগঞ্জ শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল কাইয়ূম মাসুম জানান,গত ১১ মাসে তার শাখায় ৮ কোটি ১৬ লাখ টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স আয় আসে। পূবারী ব্যাঙ্ক কমলগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মো. মাসুম সিদ্দিকী জানান, গত ১১ মাসে তার শাখায় ৯ কোটি ৯০ লাখ ১৫ হাজার টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স আয় আসে।রুপালী ব্যাংক কেরামতনগর শাখার ব্যবস্থাপক পারভেজ আহমেদ জানা, গত ১১ মাসে এ শাখায় ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৯২ হাজার টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স আসে।সব মিলিয়ে দেখা যায় গত ১১ মাসে কমলগঞ্জের ৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে ১০০ কোটি ১৭ লাখ ৪১ হাজার টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স আয় আসে। এর মধ্যে শমশেরনগর সোনালী ও পূবালী ব্যাংকে আসে সাড়ে ৬৮ কোটি টাকা। যাহা মোট হিসেবের অধিকাংশ আয়।শমশেরনগর সোনালী ব্যাংক ব্যবস্থাপক রিপন মজুমদার জানান, গত জানুয়ারি মাস থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত তার শাখায় ৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স আসে। তার শাখার টার্গেট ছিল ৩৩ কোটি টাকা। তিনি টার্গেট অর্জন করেছেন। তবে বর্তমান ডিসেম্বর মাসের ২০ দিনে আরও ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার রেমিট্যান্স আয় হয়েছে। পূবালী ব্যাংক শমশেরনগর শাখা ব্যবস্থাপক নুপুর বৈদ্য জানান, তার শাখার টার্গেট ছিল ৩৮ কোটি টাকার। তবে করোনার কারণে গত এপ্রিল থেকে কয়েক মাস সাপ্তাহিক ২ দিন করে এ শাখা বন্ধ ছিল। তার পর জানুয়ারি থেকে গত নভেম্বর পর্যন্ত তার শাখায় ৩৪ কোটি টাকার বৈদেশিক রেমিট্যান্স আয় হয়েছে। চলমান ডিসেম্বরের ২০ েিদন আর ২ কোটি টাকা আয় হয়েছে।ব্যাংক ব্যবস্থাপকরা আরও জানান, সরকারি উদ্যোগে বৈদেশিক রেমিট্যান্স পাটানোর জন্য প্রণোদনা ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদানে এ আয় বেড়েছে। আগামীতে বৈদেশিক রেমিট্যান্স আয় আরও বাড়বে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। আর প্রবাসীরা হুন্ডির মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে উৎসাহ হারাবে।