সাব্বির আহমেদ খান, কেন্দুয়া থেকে : মুজিব জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার হিসেবে নতুন ঠিকানায় নতুন ঘর পাচ্ছেন নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ৫০ ভূমিহীন পরিবার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভূমি ও গৃহহীন মানুষকে আধাপাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। ভূমি ও গৃহহীনদের নতুন ঠিকানার উদ্বোধন হবে শনিবার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মইন উদ্দিন খন্দকার জানান, ২০২০ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষনা দিয়েছিলেন, মুজিববর্ষে দেশে কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। সে ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে নতুন ঘর তৈরি করে দেওয়ার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুসরণ করে জেলা প্রশাসন নেত্রকোনার তত্ত্বাবধানে কেন্দুয়া উপজেলা প্রশাসন নিখুঁতভাবে সুবিধাভোগী নির্বাচন করেছেন। যাদের নিজের কোনো ভূমি ছিল না, অন্যের বাড়িতে কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতেন সেই সব ভূমিহীন, অসহায়, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের অভিভাবক, হিজড়া জনগোষ্ঠী এই প্রকল্পের আওতায় এসেছেন বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের সান্দিকোনা গ্রামে ৬টি, পাইকুড়া ইউনিয়নে ১টি, কান্দিউড়া ইউনিয়নে ১৩টি, বলাইশিমুল ইউনিয়ন ১০টি, নওপাড়া ইউনিয়নে ৪টি, দলপা ইউনিয়নে ১২টি ও আশুজিয়া ইউনিয়নে ৪টি সহ মোট ৫০টি ভ‚মিহীন পরিবার পাচ্ছেন নতুন ঠিকানায় নতুন ঘর।
প্রত্যেক ভূমিহীন পরিবারকে ২ শতাংশ জমির উপর দুটি শোবার কক্ষ, একটি বারান্দা, একটি রান্নাঘর ও একটি শৌচাগার সম্বলিত ঘর দেওয়া হচ্ছে। উপরে রঙিন টিন এবং নিচে পাকা অর্থাৎ সেমিপাকা প্রত্যেকটি ঘরের জন্য ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়, ইউএনওর নেতৃত্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের ত্রাণ শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলীর সুষ্ঠু তদারকিতে গৃহ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। ইতোমধ্যেই কাজের গুণগত মান তদারকির জন্য সরেজমিনে পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
গত ২৪ নভেম্বর সান্দিকোনা গ্রামে গৃহ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা-৩ আসনের এমপি অসীম কুমার উকিল। ৫০টি পরিবারের মধ্যে ৪০ ভূমিহীন পরিবারকে খাস জমির বন্দোবস্ত দিয়েছে সরকার। বাকি ১০ ভূমিহীন পরিবারকে তাদের কোনো আত্মীয় বা এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের দান করা জমির মধ্যে গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। ইউএনও মো. মইন উদ্দিন খন্দকার জানান, এসব পরিবারের স্বামী-স্ত্রীর নামে কবুলিয়াত দলিল এবং নামজারি সম্পাদন করে দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া উপকারভোগীদের গৃহে বিদ্যুৎ এবং সুপেয় জলের সুবিধা নিশ্চিত করতে কার্যক্রম চলছে। যেখানে ৪ বা ততোধিক ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, সেখানে উপজেলা প্রশাসনের অনুরোধে ইতোমধ্যে একটি করে ৬টি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য বরাদ্দ দিয়েছেন নেত্রকোনা- ৩ আসনের সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কেন্দুয়া জোনাল অফিস নির্মাণকৃত গৃহে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। জানতে চাইলে ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে সান্দিকোনা ইউনিয়নের বালুচর গ্রামের বিধবা রেখা আক্তার বলেন, কয়েক বছর আগে স্বামী হারিয়েছি। প্রতিবন্ধি (বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন) দুই ছেলে সন্তানকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন যাপন করছিলাম। থাকার জন্য কোনো ঘর ছিল না। ছিল না মাথাগোঁজার ঠাঁই। এক টুকরো জায়গা আর একটি ঘর কিভাবে হবে? এ নিয়ে শুধু ভাবতাম, আর ভাবতাম। যাতে সন্তানদের নিয়ে সুখে শান্তিতে ও নিরাপদে থাকতে পারি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার সেই স্বপ্ন পূরণ করে দিয়েছেন। আমি পেয়েছি নিজস্ব জমি, পেয়েছি একটি আধা পাকা সুন্দর ঘর। আমি প্রধানমন্ত্রীর সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল বলেন, সারা দেশের মত কেন্দুয়া উপজেলায়ও কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। সবার জন্য আবাসন এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন সবাই। মুজিব জন্ম শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমি ও গৃহহীনদের যে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন, এজন্য আমার নির্বাচনী এলাকার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। প্রথম ধাপে ৫০টি পরিবার পাচ্ছেন নতুন ঠিকানায় নতুন ঘর। তাদের মুখে ফুটেছে সুখের হাসি। আমিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সু-স্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।