দিনাজপুরের পার্বতীপুর উচ্চমূল্যের পেকিন জাতের হাঁস পালনে প্রতিনিয়তই আগ্রহ বাড়ছে খামারীদের। স্বল্প সময়ে মাংস উৎপাদনে উপযোগী পেকিন জাতের হাঁস পালন খামারিদের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। অন্যান্য জাতের তুলনায় বাজারে এর চাহিদা বেশি হওয়ায় আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বল্প খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে দুই মাসের ভিতর এ জাতের হাঁসের ওজন ৩ থেকে সাড়ে ৩ কেজি হয়।
সুস্বাদু মাংস ছাড়াও শক্ত ফাইবারযুক্ত হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও রয়েছে বেশ। মাংস উৎপাদনের পাশাপাশি বছরে ১৫০-২০০টিরও বেশি ডিম দেয়ায় খামারিদের বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। মাংস ও ডিমের পর এর সাদা পালকও বিক্রি হচ্ছে চড়ামূল্যে। খেলনা ও ফ্যাশন সামগ্রী তৈরিতে এর ব্যবহার বাড়তি অর্থনৈতিক সুবিধা এনে দিচ্ছে। উপজেলায় প্রথম বারের মতো এ জাতের হাঁস পালনে খামারীদের আগ্রহী করতে কাজ শুরু করেছে স্থানীয় বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থ্যা গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র (জিবিকে)।
দাতা সংস্থা পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খামারীদের নিয়ে কাজ শুরু করেন জিবিকে। সেই সাথে খামারিদের মাঝে বিনামূল্যে পেকিন হাঁস সরবরাহের পাশাপাশি এবং হাঁস পালনের আধুনিক কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সংস্থাটি। শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খামারীদের দেয়া হচ্ছে ভ্যাক্সিনেশন, বাস স্থান ব্যবস্থাপনা, খাবার সরবরাহ, হাঁসের রোগ প্রতিরোধ, ভ্যালু চেইন হাব ছাড়াও মার্কেটিং সিস্টেম সম্পর্কে খামারীদের দেয়া হচ্ছে বাস্তবমূখী ধারণা। ফলে বাণিজ্যিকভাবে এ জাত পালনে আগ্রহী হচ্ছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।
মোঃ রফিকুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক খামারি বলেন, “আমি পেকিন হাঁস পালন শুরু করার পর থেকেই ভালো আয় করছি। মাত্র দুই মাসের মধ্যেই হাঁসগুলো বিক্রির উপযোগী হয়ে যায়। বাজারে এ হাঁসের চাহিদাও প্রচুর, ফলে সহজেই বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে।” আরমিনা বানু নামে আরেক খামারি জানান, “জিবিকে আমাদের বিনামূল্যে হাঁস দিয়েছে এবং সঠিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ফলে আমরা এখন কম খরচে বেশি লাভ করতে পারছি।” এর আগে অন্যান্য জাতের হাঁস পালন করেছি। আবহাওয়া খারাপের কারণে আমার বেশ কিছু হাঁস মারা যায়। তবে, পেকিন হাঁস পালনে আবহাওয়ার খারাপের কোন ভয় থাকেনা। যে কোন আবহাওয়াতেই এ হাঁস টিকে থাকে।
পার্বতীপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের ভ্যাটেরিনারী সার্জন ডাঃ মোছাহেব আহমদ নাঈম বলেন, পেকিন জাতের হাঁস বর্তমান সময়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে খামারীদের কাছে। উপজেলায় মাংসের চাহিদা মেটাতে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি খামারীদের সার্বিক সহযোগীতার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পলন করছেন গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র। তারা এ উপজেলায় প্রথম কাজ শুরু করেছে। সেই সাথে আমরা উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরও এ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ বাড়ানো গেলে হাঁস পালন দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে জানান তিনি।