খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় ক্রমবর্ধমান লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশে বসতি এলাকা ও কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এতে স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন, কৃষি উৎপাদন, নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার পাইকগাছায় সচেতন নাগরিক, স্থানীয় সংগঠন ও ভুক্তভোগী জনগণের উদ্যোগে একটি ক্যাম্পেইন ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। অগ্রগতি সংস্থার “সৃজন” প্রকল্পের সহযোগিতায় এবং নেটজ বাংলাদেশ ও বিএমজেড-এর অর্থায়নে আয়োজিত এ কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
র্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ শাহাবুদ্দিন (কয়রা সদর ইউনিয়ন)।
এছাড়াও ভুক্তভোগীদের পক্ষে বক্তব্য দেন মঞ্জুয়ারা বেগম, নীতিকা মণ্ডল, সাথী আক্তার মিতা, সীমা সরকার, নাসরিন খাতুন ও সুফিয়া খাতুন।
আলোচনা পর্ব সঞ্চালনা করেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক রিয়াজ আহমেদ।
এ সময় বক্তারা বলেন, অব্যবস্থাপনা, দুর্বল ও অপর্যাপ্ত বেড়িবাঁধ, নদী-খাল ভরাট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ত পানি ক্রমাগতভাবে বসতি ও কৃষিজমিতে প্রবেশ করছে। ফলে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে, সুপেয় পানির সংকট তীব্র হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
সমাবেশ থেকে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে-টেকসই ও শক্তিশালী বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার, লবণপানি অনুপ্রবেশের মানবসৃষ্ট কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ, নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ পুনঃস্থাপন, কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্রদান এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ।
পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি- ভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়।
এছাড়াও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চল বসবাস ও কৃষির জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সমন্বিত ও জরুরি উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
র্যালিতে স্থানীয় যুবসমাজের সদস্য, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি, সাধারণ জনগণ এবং বিপুল সংখ্যক নারী অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।