দেশে শ্রমিকরা যেন কাজ পায় এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়, সেটিই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন,আমরা বিশ্বাস করি, শ্রমিকরা ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে।এসময় তিনি দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল করতে বন্ধ হয়ে যাওয়া সব কল-কারখানা পর্যায়ক্রমে পুনরায় চালু করার ঘোষণা দেন।
আজ শুক্রবার (১ মে) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি দেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বন্ধ কল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। শ্রমিকরা যেন কাজ পায় এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, শ্রমিকরা ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে।
শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক নতুন উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন যে, দেশের শ্রমিকদের স্ত্রীরা এখন থেকে বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাবেন, যার মাধ্যমে তারা সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ভর্তুকিযুক্ত পণ্য গ্রহণ করতে পারবেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিগত ‘স্বৈরাচারী’ সরকারগুলো শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, কিন্তু বর্তমান সরকার তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।
সমাবেশে তারেক রহমান কৃষকদের কল্যাণে নেওয়া পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন। ইতিমধ্যে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। কৃষকদের জন্য বিশেষ ডিজিটাল কার্ড তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। গ্রামীণ কৃষিতে পানির সংকট দূর করতে দেশব্যাপী পুনরায় ‘খাল খনন’ কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দেন তিনি।
তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। কৃষক ও শ্রমিকের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারলেই বাংলাদেশের সামগ্রিক ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে যাবে।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে সরকারের সংস্কার কর্মসূচিতে শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
নয়াপল্টনের এই বিশাল সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ঘোষণাগুলো দেশের শিল্প ও কৃষি খাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে বন্ধ কারখানা চালু এবং ফ্যামিলি কার্ডের ঘোষণা শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।