সকেল হোসেন, আক্কেলপুর থেকে :
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় বীজ আলু রোপণে এক মাস পার হলেও আশানুরূপ আলু ধরেনি গাছে। এ নিয়ে ক্ষতি ও দুচিন্তায় দিন পার করছে কৃষক। জানা যায়, উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের আওয়ালগাড়ী গ্রামের প্রায় অর্ধ শতাধিক কৃষক, পৌর সদরের কলেজ বাজারের মেসার্স বেলাল ট্রেডাসের মালিক বেলালের থেকে বেশি দামে বীজ আলুর কিনে প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছে। কিন্তু আলু রোপণের এক মাস পার হলেও এখনও দেখা মিলেনি আলু গাছের কাঙ্খিত আলু। জমির বেশির ভাগ আলুর গাছ রোগাক্রান্ত। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষক। আওয়ালগাড়ী গ্রামের ফরিদ নামে কৃষক বলেন, বীজ ব্যবসায়ী বেলাল আমাকে বলেছিল মুন্সীগঞ্জের ভালো আলু দেবো, কিন্তু বাজারের দাম থেকে আমাকে একটু বেশি দাম দিতে হবে। আমি তার কথা বিশ্বাস করে ৩৩শ টাকা বস্তা আলু কিনে দুই বিঘা জমিতে রোপণ করি। আমার মোট খরচ পড়েছে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা। আলু রোপণের পড় অনেক দিন হলেও আমার জমির আলু গাছে শত করা দশটা গাছে ধরছে বাকি গাছে আলু ধরেনি। আমি ঋণ করে আলুর জমিতে খরচ করেছি এখন এতোগুলো টাকা কোথা থেকে পরিশোধ করবো।
আওয়ালগাড়ী গ্রামে প্রায় ৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক অভিযোগ করে বলেন, আক্কেলপুর কলেজ বাজারে বীজ ব্যবসায়ী রেজাবুল করিম বেলালের কাছ থেকে বেশি দামে আলুর বীজ কিনে প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে বপন করেছি। জমিতে বপনের এক মাস পর হলেও আলুর গাছ গজালেও অধিকাংশই রোগাক্রান্ত। আলুর গাছ গুলোতে একটিও আলুর ধরেনি। খারাপ বীজগুলো দিয়ে জেনে শুনে আমাদের প্রতারণা করেছে। আমরা এর বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।
এ ব্যাপারে বীজ ব্যবসায়ী বেলাল বলেন, আমি মুন্সীগঞ্জে সবচেয়ে ভালো আলু কৃষকদের কাছে বিক্রি করি, কয়েক বছর থেকে, কখনই এমন হয়নি বীজের। হঠাৎ এমন হওয়ায় হতবাক আমি। কৃষকদের অভিযোগে কৃষি অফিসের লোকজনকে নিয়ে জমিতে গেলে তারা বলে আলুর ভাইরাসের কারণে এমন হয়েছে। আলুর ভাইরাস হলে তো, আমার কিছু করার নেই। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, বীজ আলুতে ভাইরাস থাকার কারণে আলু ক্ষেতের এমন অবস্থায় হয়েছে। কৃষকের ক্ষতি কমাতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।