কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কিস্তির বকেয়া টাকা চাইতে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র টেঁটার বৃদ্ধ হয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পদক্ষেপ-এর এরিয়া ম্যানেজার প্রদীপ চন্দ্র দাস (৩৬) মারাত্মক আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন ঘটনায় নানা সময়ে আলোচিত -সমালোচিত ভাইরাল গ্রাম হিসাবে জনমুখে ভাইরাল গ্রাম হিসাবে পরিচিত ” গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্বকান্দা গ্রামের” রোজিনা আক্তার নামে এক গ্রাহকের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি গ্রাহক রোজিনা আক্তারের স্বামী মোঃ সেন্টু মিয়া (৪০)। মানিকদী গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মৃত বাদশা মিয়ার পুত্র কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রিজন আহমেদ মস্তোফা মুটোফোনে দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন – ভৈরব-কুলিয়ারচর প্রতিনিধি- সোহানুর রহমান সোহান – কে বলেন, শুনেছি, প্রদীপ চন্দ্র দাস কটিয়াদী, বাজিতপুর, কুলিয়ারচর ও ভৈরবসহ চারটি উপজেলার কর্তব্যরত কর্মকর্তা। ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী পূর্বকান্দা গ্রামের গ্রাহক রোজিনা আক্তার প্রদক্ষেপ এর একজন সদস্য। তিনি পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ভাবে গ্রাহক সাজিয়ে নিজেসহ ১০ লক্ষ টাকার উপর লোন নেন এ সংস্থা থেকে। কয়েকটি কিস্তি দেয়ার পর পরবর্তী বাকী কিস্তির টাকা ফেরত দিতে বার বার অনীহা প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় মাঠকর্মীরা একাধিকবার তাঁর বাড়িতে যায়।
গত দু- দিন আগে মাঠকর্মী অঙ্কর কুমার সরকার গ্রাহক রোজিনা আক্তার ও তার পরিবারের কাছে বকেয়া টাকা আদায় করতে গেলে গ্রাহকের স্বামী মোঃ সেন্টু মিয়া দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদেরকে দৌড়ানি দিয়ে ভয় ভীতি দেখান। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জানানো হয়। কিস্তির টাকা আদায় করতে আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে প্রদক্ষেপ সংস্থার সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং অফিসার প্রদীপ চন্দ্র দাসসহ দুইজন মাঠকর্মী গ্রাহকের বাড়িতে উপস্থিত হয়। কিস্তির বকেয়া পাওনার বিষয়টি আলোচনার মাঝে কথা-কাটাকাটি শুরু হলে এক পর্যায়ে গ্রাহক রোজিনা আক্তারের স্বামী মোঃ সেন্টু মিয়া দৌড়ে এসে টেঁটা দিয়ে প্রদীপ চন্দ্র দাসের বুকে আঘাত করেন। হামলায় মুহূর্তেই তাঁর শরীর থেকে রক্তপাত শুরু হয়। সাথে থাকা মাঠকর্মীরা তাৎক্ষণাত স্থানীয়দের সহায়তায় প্রদীপ চন্দ্র দাসকে উদ্ধার করে কুলিয়ারচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, কি বলবো সাংবাদিক সাহেব আপনাকে হাস্যকর কথা! ” নানা সময় আমাদের এই মানিকদী গ্রাম কিছু কিছু চমকপ্রদ কাজের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে থাকে এবং নেটিজেনদের মাঝে নানা আলোচনা -সমালোচনা জন্ম দেয়। এই ধরেন, ” মোবাইল ফোন চুরি কান্ডে মাইক ভাড়া করে এলাকায় চুর কে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ। প্রধান শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় পুলিশ আসমী ধরতে আসলে পুলিশের গায়ে কামড় দিয়ে আসামী পলায়ন। কলেজের অফিস সহকারী ‘র ভুলে পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষা দিতে না পারা সেই সাথে আজকের এ নেক্কারজনক ঘটনা। জানি না বেঁচে থাকতে আরো কত কিছু যে দেখতে হবে আমাদের এই গ্রামে সব মিলিয়ে দেখছি সামনে আমাদের গ্রামের নামটাই পাল্টে যাবে, ” ভাইরাল গ্রামে পরিণত হবে। এছাড়াও কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন,
গুরুত্বর আহত অবস্থায় প্রদীপ চন্দ্র দাস নামে ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর বুকের ডান পাশে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন। রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করছি।
এই বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ জানান, ইতিমধ্যে আমি অবগত হয়েছি । টাকা চাইতে গিয়ে আহত হওয়ার বিষয়টি খুবই নেক্কারজনক । তবে এ ব্যাপারে থানায় কোনো অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেব ।