কিশোরগঞ্জের ভৈরবে টানা ৩ বছর ধরে বিনামূল্যে সেহরি খাওয়ান এক বীর মুক্তিযোদ্ধা কন্যা । প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক রোজাদার ব্যক্তি এখানে সেহরি করেন। বিত্তবান ব্যক্তি না হলেও নিজের পরিবারের আত্মীয় -স্বজনদের কাছে চেয়ে যা পান সেখান থেকে প্রতিদিন কিছু টাকা সঞ্চয় করে রমজান মাসজুড়ে তিনি -সেহরি করান। রমজানের এক মাস মেহমানদারি করান। মঙ্গলবার (৩ মার্চ ) সেহরির সময় ভৈরব রেলওয়ে জংশনে গিয়ে দেখা যায়, সেহরি ও ইফতার খাওয়ার ভিড় চোখে পড়ার মত। রেলওয়ে জংশনের ভেতরে এক পাশে ঢুকে দেখা গেল সবাই হাতে হাতে প্লেট নিয়ে যে যার মত করে সারিবদ্ধভাবে বসে ইফতার করছেন। তখন মানবতা ফেরিওয়ালা জোনাকি সহ তার ভলান্টিয়ার সদস্যরা ও ব্যস্ত সময় পার করছেন। খালি নেই কারও হাত। ফ্লাটফম জুড়ে চলে জমজমাট সেহরি পর্ব। টাকা না দিয়ে সেহরি খাবেন সবাই, এটাই রোজার একমাস ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত ছিদ্দিকুর রহমান সেনের কন্যা জোনাকি’র নিয়ম। এই নিয়মটি তিনি প্রায় ৩বছর থেকে ধরে করে আসছেন।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, । পাশাপাশি রমজান মাসে সাধারণ মানুষকে টাকা ছাড়াই সেহরি খাওয়ানোর জন্য টাকা জমা করেন। প্রতিদিন সেহরিতে ১৫০ জন রোজাদার ব্যক্তিদের সেহরি- করান।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে ৩ নং সেক্টরের গ্রুপ কমান্ডার প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিদ্দিকুর রহমান সেনের কনিষ্ঠ কন্যা জোনাকি তিনি । ভৈরব পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তর পাড়া গ্রামে তার জমির উদ্দিন মুন্সি বাড়ীতে বাবার বাড়িতে বসবাস। তার একটি সামাজিক সংগঠনের পেইজ রয়েছে নাম ” মানবতার টানে ” । তিনি ২৩ সাল থেকে রমজান মাসে নিয়মিত টাকা ছাড়াই সেহরি করাচ্ছেন রোজাদারকে। দূরদুরান্ত থেকে কলেজ হাটে আসা কৃষক, ট্রেন-বাস যাত্রী, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারী, হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে আসা স্বজনরা এই রেলওয়ে জংশনে টাকা ছাড়াই নিয়মিত সেহরি ও ইফতারি খাচ্ছেন। মানবিক সাংগঠনিক ব্যাক্তি জোনাকি নিজে এবং তার ভলান্টিয়ারা মিলেও সেহরির খাবার পরিবেশন করেন।
সেহরির খাবারে গরুর মাংস, বিরিয়ানী সালাত সাথে একগ্লাস শরবত। রোজাদারেরা তৃপ্তি সহকারে সেহরি ও ইফতার করেন। জংশনের অভ্যন্তর ছাড়িয়ে বাহিরে বেষ্টনীর বাহিরের জায়গায় ডেকোরেটরের কাপড় বিছিয়ে সেহেরী করানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভৈরব পৌর সভার ৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক সফল কাউন্সিল মো: হাবিবুল্লাহ নিয়াজ বলেন, প্রতি বছর আমার এলাকার ছোট বোন জোনাকি রমজান মাসে সেহরি খাওয়ায়। রমজান মাস ছাড়াও সেই প্রতি মাসের শেষেদিকে গরীব দুঃখী সুস্থদের খাওয়ায় এতে গরীব মানুষেরা উপকৃত হয়। এটি একটি মহৎ কাজ। টাকা কম বেশি সবার ঘরেই আছে কিন্তু খাওয়ানোর মন মানসিকতা সবার নেই। জোনাকি একটা দৃষ্টান্ত, এখান থেকে মানুষকে ও বিত্তবানদের শিক্ষা নিতে হবে। সমাজে যারা অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষ তাদের পাশে দাঁড়ানো। বিত্তশালী ব্যক্তিরা এমন করে এগিয়ে আসলে সমাজ পরিবর্তন হবে। মানবসেবী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কন্যা জোনাকি দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন -কে বলেন, রমজান মাসে খাবারের হোটেলগুলো বন্ধ থাকে। এতে সেহরির সময় রোজাদারদের অনেক কষ্ট হয়। আমার আত্মীয় স্বজন ভাইবোন আমাকে যে অর্থ দেয় তার থেকে প্রতিদিন কিছু টাকা জমিয়ে রেখে রমজান মাসে সকল রোজাদারদের ইফতার ও সেহরি খাওয়ানোর চেষ্টা করি। ২০২২ সাল থেকে এই কার্যক্রম শুরু করেছি। এ কাজে আমার সহযোদ্ধা ভাইও বোনেরা তারাও এই মাসে কোনো পারিশ্রমিক নেয় না। এ কাজে সাহায্য করেন। মূলত পরকালের মুক্তি এবং মহান আল্লাহর সন্তুুষ্টির উদ্দেশ্যেই আমি এই কাজ করি। আমি যতদিন বাঁচবো এটা যেন চালু রাখতে পারি এজন্য আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা করবেন।