সোহানুর রহমান সোহান, ভৈরব থেকে:
চলতি ডিসেম্বর মাসে হতে যাচ্ছে পৌরসভা নির্বাচন। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় তফসিল ঘোষণার আগেই প্রচারে ব্যস্ত পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা। করোনা প্রার্দুভাবেও প্রার্থীরা জনগণের পাশে গিয়ে সাহায্য-সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে ভোটারদের মন জয় করতে চাইছেন। পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভৈরবে দুই/তিন মাস যাবৎ চলছে প্রচারণা। এদিকে গত ৮ ডিসেম্বর স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. সায়দুল্লাহ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সেন্টুর বরাবর দলীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ৯ নেতা আবেদনপত্র দাখিল করেছেন। তারা হলেন বর্তমান মেয়র অ্যাডভোকেট ফকরুল আলম আক্কাছ, ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য ও ভৈরব চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাষ্ট্রিজের সভাপতি রোটারিয়ান আলহাজ্ব মো. হুমায়ুন কবির, ভৈরব পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক আহমেদ সৌরভ, ভৈরব পৌর আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও ভৈরব উপজেলা শাখার সভাপতি এম. আর সোহেল, ভৈরব চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাষ্ট্রিজের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ আল-মামুন, ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শেফাত উল্লাহ প্রার্থী হিসাবে থাকলেও মাঠে তার তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণা নেই। ভৈরব উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি খলিলুর রহমান লিমন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ইফতেখার হোসেন বেনু ও সাবেক ছাত্র নেতা অ্যাডভোকেট ইমরান মিয়া এখন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তারা ৯ জন আওয়ামী লীগের নৌকার প্রতীক পেতে আবেদন করেন। এদিকে বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক মেয়র হাজী মো. শাহিন। ইতোমধ্যে হাট-বাজার, দোকান-পাঠে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোচনা সভা আর সমালোচনার ঝড় বইছে। সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা এদিকে যেমন এখন থেকে গ্রামে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, মসজিদে ও বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান করে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি মাধ্যমে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন।
স্থানীয় নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার ২০২১ সালের নির্বাচনে ভৈরব পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার হচ্ছে ৮৭৫১০ জন, তার মধ্যে পুরুষ ৪৩৯৫৯ এবং নারী ৪৩৫৫১ জন কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এবার ভৈরব পৌরসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভৈরবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে এক প্রকার ভোটের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক আহম্মেদ সৌরভ তার বক্তব্যে জানান, আমি ১৯৮৮ সাল থেকে ছাত্রলীগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু করি, দীর্ঘ ৩২ বছর যাবৎ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কর্মীদের নিয়ে রাজনীতি করে যাচ্ছি। পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আমি যদি দলীয় ভাবে মনোনয়ন পাই, অবশ্যই নির্বাচন করবো, কিন্তু দলের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবো না। এ ছাড়া সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও পৌর আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এম. আর সোহেল জানান, আসন্ন ভৈরব পৌরসভার নির্বাচনে আমি মেয়র পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী, সেই সঙ্গে আমি এ অঙ্গিকার করছি দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়। আমি দলের অনুগত হয়ে নিঃশর্তে তা মেনে নেবো। সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নাজমুল হাসান পাপন এমপির নির্দেশে কাজ করে যাবো ইনশাল্লাহ।