সোমবার ( ২৭ এপ্রিল) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের কনফারেন্স রুমে জেলা সিভিল সার্জন অফিসের আয়োজনে ও ল্যাম্বের সহায়তায় নারীর জনন অঙ্গের ফিস্টুলা রোগী সনাক্তকরণ ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মোঃ নুরুল আমীন।
ল্যাম্বের ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটর মোঃ শরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অ্যাডভোকেসি সভায় প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ডা.কানিজ ফাতিমা। উন্মুক্ত আলোচনা সভায় অংশ নেন সিরাজগঞ্জ ডেপুটি সিভিল সার্জন. ডা.মোঃ রিয়াজুল ইসলাম,মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কানিজ ফাতিমা, ইসলামি ফাউন্ডেশনের উপ পরিচালক মোঃ ফারুক আহমেদ, সমাজসেবা অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মোঃ হাবিবুর রহমান,সিভিল সার্জন অফিসের ডা.ফারিয়া, সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যানবিদ মোঃ হুমায়ুন কবীর ও সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ হারুন অর রশিদ খান হাসান।
এই সভার মূল লক্ষ্য ছিল ফিস্টুলা রোগীদের খুঁজে বের করে তাদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।ফিস্টুলা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিতভাবে এ ধরনের সভার আয়োজন করে থাকে। সভায় অংশগ্রহণকারীরা ফিস্টুলা রোগী সনাক্তকরণে স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী ও সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সবাই ফিস্টুলামুক্ত সমাজ গড়ে তোলার জন্য একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় জানানো হয় বিগত পাঁচ বছরে সিরাজগঞ্জ জেলায় ৪৫ জন নারীর ফেস্টুলা শনাক্ত করা হয়। এদের মধ্যে ২১জনের ফেস্টুলা নিশ্চিত হওয়ার পর তাদেরকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া বিগত চারমাসে সিরাজগঞ্জ জেলায় ২০ জন ফেস্টুলা রোগী শনাক্তর পর ১৭ জনের পরীক্ষা শেষে ১৩ জনের ফেস্টুলা নিশ্চিত হওয়ার পর পাঁচজনের অপারেশন করানো হয় এবং ছয়জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য সিরাজগঞ্জ জেলার নয়টি উপজেলার মধ্যে কামারখন্দ ও রায়গঞ্জ উপজেলাকে ফেস্টুলা মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে এবং উল্লাপাড়া ও তাড়াশ উপজেলাকে ফেস্টুলা মুক্ত করতে কাজ করা হচ্ছে।