কিশোরগঞ্জের ভৈরবে তাজিয়া মিছিলের মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো পবিত্র আশুরা। এই দিনকে ঘিরে আজ রবিবার (২০ আগস্ট) ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা পবিত্র কোরআন খতম, আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল, রোজা পালন, গরিবদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করেন। মসজিদে মসজিদে আলোচনা সভা, জিকির ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এবার জানা যায়, আজ থেকে শত বছর পূর্বে নবীর বংশ পুরুষ সৈয়দ নাসির উদ্দিন উদ্দীন সিপাহসালা পূর্ব পশ্চিম মাজার মুরার বন্দ রহঃ এরঅধস্তন পুরুষ জোয়ান শাহী পরগনার নয়কোষা জমিদারী ত্যাগী অষ্টগ্রাম ঐতিহাসিক হাবেলী ভাটির ওলি পরিচিত সৈয়দ আলাইমিয়া সাহেব (রহঃ) এর কর্তৃক সিলসিলায়ে হোসাইনীয়া চিশতীয়া তরিকায় কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ১০ মহরম পবিত্র আশুরা পালিত হয়।
শাহাদাতে কারবালার স্মরণে প্রায় ১২ থেকে১৪ টি ইমাম বাড়া সহ খানকা ভিত্তিক পারিবারিক ভিত্তিতে শাহাদাতে কারবালার বয়ান শোকগাঁথা জারি মার্সিয়া ফাতেহা রোজা অবস্থায় ভক্তগণ নেস্তি হালতে শোকের লেবাস ধারণ করে খালি পায়ে পতাকাবাহী তাজিয়া মিছিল অন্যান্য তরিকা পন্থী ও অন্যান্য ধর্মালম্বী হোসাইনী প্রেমিকগণ ইয়া হাসান ইয়া হোসাইন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ভৈরবে লক্ষ্মীপুরস্থ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে যা ” কারবালার মাঠ ” নামে পরিচিত কারবালা মাঠে প্রায় লক্ষাধিক লোক সমবেত হয়ে শোকের মাতম মোনাজাতে সমাপ্তি ঘটে।
পৌর শহরের লক্ষীপুর হোসাইনী মঞ্জিলের খাদেম বীর মুক্তিযোদ্ধা মোখলেছ ফকির বলেন, অষ্টগ্রামের পীর সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেব (রহঃ) ভক্তবৃন্দ প্রায় দেড়শ বছর যাবৎ দিবসটি পালন করে আসছে। পৌর এলাকার লক্ষীপুরে কারবালা মাঠ নামে খ্যাত স্থানে এ বছর তাজিয়া মিছিল করা হয়। এছাড়াও পাঠ করে সেই দিনের শোকাবহ পুঁথি, গজল। উপজেলার পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা শোকাবহ তাজিয়া মিছিলগুলো নানা প্রকার বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে ঘোড়া, মিনার, পালকি নিয়ে বিলাপ করতে করতে দীর্ঘ পথ হেঁটে মিলিত হয় আশুরার মাঠে।
তিনি আরো বলেন, পবিত্র আশুরার এ দিনে হযরত ইমাম হোসেন কারবালা প্রান্তরে শহীদ হয়েছিলেন। বেদনাবিধূর এ দিনে ধর্মপ্রাণ মুসলমারা রোজা ও নফল নামাজসহ ইবাদত বন্দেগী করে থাকেন। এদিকে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খন্দকার ফুহাদ লোহানী বলেন, এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে নির্বিঘ্ন করতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় তিনস্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা হয়েছে বলে জানান তিনি । উল্লেখ্য :-
হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এঁর কনিষ্ঠ দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) এজিদ বাহিনীর হাতে সপরিবারে শাহাদাৎ বরণ করেন। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের সুমহান আদর্শ সমুন্নত রাখতে তাঁদের এ আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে আছে। প্রতিবছরের মতো এবারও আমাদের পাঞ্জাতন মোকামে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহরম পালিত হয়েছে।