চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সাত বছর বয়সী কন্যাশিশু ইরা ধর্ষণ ও হত্যার নৃশংস ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নারী উন্নয়ন শক্তি (NUS)। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীর রামপুরাস্থ নারী উন্নয়ন শক্তির কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় জানানো হয়, গত শনিবার সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতর থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের মতে, শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। এ ঘটনায় বাবু শেখ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং তাকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ও ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. আফরোজা পারভীন, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য ড. সুলতান মোহাম্মদ রাজ্জাক, ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের সভাপতি সাহিদা ওয়াহাব, ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট, রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেটের এক্সিকিউটিভ চেয়ারপার্সন নুসরাত সুলতানা আফরোজ, ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল নাসিমা হক, কোষাধ্যক্ষ মিতা হক, এডভাইজার আবুল হোসেন, প্রচার সম্পাদক সেলিনা খাতুনসহ অন্যান্য মানবাধিকার কর্মীরা।
বক্তারা বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য গভীর লজ্জা ও উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের নৃশংস অপরাধ প্রমাণ করে যে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তারা বলেন, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না হলে সমাজে অপরাধের প্রবণতা আরও বাড়বে।
ড. আফরোজা পারভীন বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব। যারা শিশুদের ওপর এমন জঘন্য অপরাধ করে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
প্রতিবাদ সভা থেকে বক্তারা সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন:
১. এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা।
২. ধর্ষণ ও শিশু হত্যার মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি করা।
৩. শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর আইন প্রয়োগ ও নজরদারি বৃদ্ধি করা।
৪. সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশু সুরক্ষায় কার্যকর প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা।
সভায় বক্তারা বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে একটি সভ্য সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই এ ধরনের নৃশংস ঘটনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে সোচ্চার হতে হবে।