চোখের লেন্স বিক্রি নিয়ে বড় নৈরাজ্য চলছে যা দেখার কেউ নেই। বিশেয করে আমেরিকান মিরাডো , ওএসআই, সানকোস্ট ,ইউএস ভিশন, জি ম্যাক্স, ইউএসআইওএল , এমডিআর , ডিজিয়ার , আইকন , ওএসআই, ভিক্সাজু , রেইনবো লেন্স নিয়ে চলছে ভয়াবহ নৈরাজ্য। আমেরিকার এসব লেন্সের আমদানি গত ৭ বছর ধরে বন্ধ থাকলেও একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী প্রতিবেশী দেশ থেকে অন্য লেন্স আমদানি করে ঢাকায় প্যাকেজিং এর মাধ্যমে পুরো সিস্টেমকে পাল্টে দেয় এবং এই লেন্সগুলো মেইড ইন ইউএসএ বলে বিক্রি করে। সাধারণত এসব লেন্সের দাম ৬০০ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ টাকায়।
মেডিকেল তথ্য অনুযায়ি প্রতিবছর ২ লক্ষ মানুষ চোখের অপারেশন করছে আর সেখানে আই ও এল লাগছে এবং এই বিশাল লেন্সের ৭০ শতাংশই ভুয়া লেন্স বা লেবেল পরিবর্তিত। এই ভুয়া লেন্সের বাজার বাৎসরিক টাকার হিসেবে বছরে ১১২ কোটি টাকার বেশি। এই ভুয়া লেন্স ঘিরে একটি চক্র গড়ে উঠেছে রাজধানীতে। যার মধ্যে কেরানিগঞ্জের লোকমান হাজি , আদিব ট্রেডিং হাউজের সেলিম , পাবনা সার্জিক্যাল এর লিটন , গ্লোবালের হেলাল অন্যতম। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লা মহানগর হাসপাতাল ও জাতীয় অন্ধ কল্যানে এসব লেন্সে সয়লাব। সেখানকার কর্মকর্তারা দেখেও না দেখার ভান করছেন। এসব বিষয় নিয়ে ওষুধ প্রশাসনের পরিচালক শফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ২৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ১২৯ ধরনের লেন্সের দাম নির্ধারণ করে দেয় ওষুধ প্রশাসন। সেই সঙ্গে লেন্সের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত না করে বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। দেশের সব হাসপাতালে নতুন মূল্য তালিকা নোটিশ বোর্ডে প্রদর্শনেরও নির্দেশ রয়েছে। তবে, রাজধানীর বেসরকারি অনেকগুলো হাসপাতালে এই মূল্য তালিকা দৃশ্যমান পাওয়া যায়নি।
রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালেও প্যাকেজে অপারেশন ছাড়া লেন্স স্থাপন হয় না। এর জন্য হাসপাতালভেদে ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়। কিন্তু কোনো রোগীকে দেয়া বিলের মধ্যে আলাদা করে লেন্সের দাম উল্লেখ থাকছে না। অথচ ওষুধ প্রশাসনের নির্দেশনায় রোগীকে লেন্সের নাম, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এবং উৎপাদক দেশের নাম উল্লেখ করে ক্যাশমেমো দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া নিয়ম রয়েছে, ফ্যাকো সার্জারির পর রোগীকে লেন্সের প্যাকেট সরবরাহ করতে হবে।লেন্সের প্যাকেটের গায়ে উল্লেখ থাকতে হবে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, উৎপাদক দেশ এবং সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য। যাতে সার্জনরা সেটি দেখে নির্দেশনা দিতে পারেন। কিন্তু কোনো হাসপাতাল এই নির্দেশনা মানছে না।
আই ফাউন্ডেশন হাসপাতালের চিকিৎসক সাজেদুর রহমান ও ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন,
দেশের কোনো বেসরকারি হাসপাতালে প্যাকেজ ছাড়া লেন্স স্থাপন করতে পারবেন না। রোগীরা ইচ্ছা করলেও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে লেন্স কিনতে পারেন না।
মেডিটেক লাইফসায়েন্স নামে এক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘদিন চোখের লেন্স সরবরাহ করে আসছে। তবে গত ডিসেম্বরে অতিরিক্ত দামে লেন্স বিক্রির অভিযোগে তাদের নিবন্ধন সাময়িক স্থগিত করে ওষুধ প্রশাসন। তবে এখনও প্রতিষ্ঠানটি বহাল তবিয়তেই লেন্স ব্যবসা পরিচালনা করছে। গত এক সপ্তাহে ১০টির বেশি হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে এ তথ্য মিলেছে। লাইফসায়েন্সের বিপণন কর্মকর্তা হৃদয় আহমেদ লেন্স সরবরাহের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ওষুধ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে এই কাজ হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে মেডিটেক লাইফসায়েন্সের এমডি বাশির তালুকদারের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। বিপণন কর্মকর্তা হৃদয় আহমেদ বলেন, স্যার দেশের বাইরে রয়েছেন। এ বিষয়ে স্যার বলতে পারবেন।
বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, যদি কোনো হাসপাতালে অপারেশন প্যাকেজের নামে প্রতারণা করে, তাহলে সরকারের উচিত এদের শক্ত হাতে দমন করা।