পাবনা বেড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার গুলোতে মাছ সংকট দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মাছ ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।
জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সিঅ্যান্ডবি বাজার, নাকালিয়া, নাটিয়াবাড়ি,বাঁধেরহাট, বাটিয়াখড়া, কৈটোলা, আওয়াল বাঁধ সহ বিভিন্ন মাছের আড়তে সব ধরনের মাছের আমদানি কমে যাওয়ায় এ উপজেলার হাটবাজার গুলোতে মাছ সম্পদ সংকট হয়ে পড়েছে।এ কারণে ছোট ছোট মাছ ব্যবসায়ীরা পড়েছে চরম দুর্দিনে। বাজারে মাছের আমদানি কমে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এসব ব্যবসায়ীরা। এদিকে হাট-বাজারে নদী-নালা,বিল-বাওরে মাছ আমদানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় ক্রেতাদের নির্ভর করতে হচ্ছে পুকুরে চাষকৃত এবং প্রজেক্টের মাছের উপর।
বর্তমান সব ধরনের মাছ পুকুরে চাষ হলেও তাঁর মধ্যে পাঙ্গাস, বাটা,রুই ,সিলভার কাপ,কাতল,ব্রিগেট,গ্লাসকাপ সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ হাট বাজারে সরবরাহ থাকলেও দাম অনেক। তাছাড়া এসব মাছ প্রতিদিন খাওয়া যায় না এবং নদীর দেশীও মাছের মতো স্বাদ লাগেনা।নদীর মাছ সংকটের কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে পুকুরের মাছ ও ব্রয়লার মুরগির উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। স্থানীয় এনজিও কর্মী আব্দুল সাত্তার বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত, চায়না দোয়ারি ও কারেন্ট জাল দিয়ে উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা সংলগ্ন যমুনা নদীতে অবাধে মাছ শিকার এবং খাল-বিল, ডোবা বাওর গুলোতে পানি সেচে মাছ ধরার কারণে ক্রমাগত দিন দিন মাছের বংশ বিস্তার কমে যাচ্ছে।
নাকালিয়া বাজারের মাছের আড়তদার ঠান্টু বলেন, আগে নদীর বড় বড় বোয়াল মাছ, আইড় মাছ, বাগাইড় মাছ জেলেদের কাছ থেকে কিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় অফিসারদের অফিসে এসব মাছ বিক্রি করতাম।কিন্তু কয়েক মাস ধরে এ ধরনের নদীর মাছ সরবরাহ না থাকায় চাহিদা মত মাছ বিক্রি করতে পারছি না, বর্তমান মাছের ব্যবসায় চরম মন্দা ভাব চলছে। স্থানীয় অনেকেই এ প্রতিবেদককে বলেন উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে হাট-বাজার গুলোতে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত এসব জাল জব্দ,জরিমানা বা সাজা দিলেও যেনো কিছুতেই থামছে না এসব জাল বিক্রি। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রায় প্রকাশ্যে স্থানীয় হাট বাজারে অবাধে এসব নিষিদ্ধ ঘোষিত জাল অহরহ বিক্রি করছে ।
পেচাকোলা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী নরেন বিশ্বাস বলেন, গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন মাছের আড়তে মাছের আকাল চলছে চাহিদা অনুযায়ী মাছ পাওয়া যায় না। মাছের সংকট সম্পর্কে সে জানায় চায়না দুয়ারি জাল ও কারেন্ট জালের সাহায্যে নদী থেকে মাছ শিকার করার কারণে সব ধরনের ছোট বড় মাছ ধরা পড়ায় নদী- নালা বিলে দিন দিন মাছের বংশ বিস্তার ও উৎপাদন কমে যাচ্ছে বলে সে মত প্রকাশ করেন। নরেন বিশ্বাসের মত পেচাকোলা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী শাহানুর,ইসরাফিল, হাতেম আলিও বলেন আগে যেখানে প্রতিদিন মাছ বিক্রি করে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা রুজি হত,এখন চাহিদা অনুযায়ী মাছ কিনতে না পারায় তাঁদের আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে তারা দুঃখ প্রকাশ করেন । এ কারণে অনেকেই এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশার দিকে ঝুকেছে বলে সরেজমিনে ঘুরে অনেক মাছ বিক্রেতা এবং ক্রেতার সাথে কথা বলে যানা যায়।