ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নির্মাণ করেছিল ট্রমা সেন্টার।
কিন্তু জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে চালু করা যায়নি এ প্রতিষ্ঠানটি। তাই এ ট্রমা সেন্টারটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
চট্টগ্রাম- নাজিরহাট-খাগড়াছড়ি ও হাটহাজারী -রাঙ্গামাটী আঞ্চলিক মহাসড়কে গত ৫ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত শতাধিক মানুষ নিহত ও ত শতাধিক মানুষ আহত হন। তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যেতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ট্রমা সেন্টারটি চালু হলে এই কষ্ট কমে আসবে বলে মত স্থানীয়দের। উদ্বোধনের পর থেকে এই সেন্টার করোনাকালে ভ্যাকসিন দেওয়াসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়।
জানা গেছে, ট্রমা সেন্টারে রয়েছে ২০ শয্যা। এ সেন্টারের জন্য একজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা, ৩ জন জুনিয়র কনসালট্যান্ট, ৬ জন সহকারী সার্জন, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ ৩৬টি পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। চাহিদা পাঠানো হয় পর্যাপ্ত আসবাবপত্র ও অপারেশনের যন্ত্রপাতির।
মহাসড়কের পাশে ট্রমা সেন্টার নির্মাণ করার উদ্দেশ্য দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা। এতে মৃত্যুহার কমবে এবং অনেকে পঙ্গুত্ব থেকে বাঁচবে। চট্টগ্রামের বৃহত্তর ফটিকছড়ি,হাটহাজারী রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন সড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
সিভিল সার্জন জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সেবার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বার বার সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে কাজ থেমে যায়। হাটহাজারী ট্রমা সেন্টার অতিদ্রুত জনগণের সেবার প্রত্যয়ে হাটহাজারী পৌরসভার কাচারি সড়কে অবহেলায় পড়ে থাকা প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘হাটহাজারী ট্রমা সেন্টার’ পরিদর্শন করেছে সিভিল সার্জন কার্যালয় ও চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এখানকার সড়ক গুলোতে সড়ক দূর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উত্তর চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগড়ায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এ দুটি ট্রমা সেন্টার নির্মাণ করা হয়।
সেপ্টেম্বর মাসে লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারটি বেসরকারী উদ্যোগে চালু করা হলেও হাটহাজারী ট্রমা সেন্টার চালুর পরিকল্পনা বার বার নিলেও রহস্যজনক কারণে চালু হচ্ছেনা। এ জন্য এলাকার সর্বস্থরের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।