রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ থেকে :
ঘন কুয়াশা আর তীব্র ঠান্ডার মাঝেও থেমে নেই শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার লড়াই। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ার কারণে কিশোরগঞ্জে বাড়ছে শীতের প্রকোপ। গত দুই দিন যাবৎ কুয়াশার কারণে দুপুরের পর সূর্যের মুখ দেখা যায়। ট্রেন, বাস ও নৌ চলাচল দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। শীতে কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষের। শীতবস্ত্রের অভাবে হতদরিদ্র শিশু, নারী ও বয়স্করা পড়েছেন বিপাকে। দেখা দিচ্ছে শীতজনিত নানা রোগব্যাধি।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ গ্রামের বাসিন্দা ভ্যান চালক সুরুজ মিয়া জানান, গত কয়েকদিন ধরে অত্যধিক কুয়াশা পড়ছে। সেই সঙ্গে হিমেল বাতাসে ঠাণ্ডা বেড়ে যাওয়ায় কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে। অর্থের অভাবে শীতবস্ত্রও কিনতে পারছি না। সরকারিভাবেও এখনো শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়নি। একই গ্রামের বাসিন্দা করিম মিয়া, বাবুল মিয়াসহ কয়েকজন দিনমজুর জানান, শীত উপক্ষো করে বীজতলা তৈরীসহ নানা ধরণের কৃষিকাজ করতে হচ্ছে। ঠান্ডায় কাজ করতে গিয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়। সর্দি, কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকেই।
সরেজমিন বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় হত দরিদ্র অনেক শিশু ও নারী খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের উত্তাপ নিচ্ছেন।
জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, শীত মোকাবেলার জন্য ১০৮ ইউনিয়নে প্রতিটিতে ৪৬০টি করে ৪৯ হাজার ৬৮০টি কম্বল ও ৮টি পৌরসভায় ৪৬০টি করে ৩ হাজার ৬৮০টি কম্বল বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া শীতে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের জন্য ৭৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।