সুনামগঞ্জে জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পরিচালিত ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির (১৭ ফেব্রুয়ারি – ১১ মে ২০২৬) বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন এবং জনবান্ধব কর্মসূচির সুফল বিষয়ে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরা হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে কর্মসূচির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন জেলা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সরকারের উন্নয়ন বার্তা প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সুনামগঞ্জ জেলায় ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উপ-পরিচালক শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ জানান, গত ১৮০ দিনে জেলায় ২২টি উঠান বৈঠক ও কমিউনিটি সভা, ৩৮টি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, ২৮টি জনসচেতনতামূলক সভা, ২০টি অনলাইন সচেতনতা সভা, ৬টি উদ্বুদ্ধকরণ সংগীতানুষ্ঠান এবং একটি নারী সমাবেশ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও অতিসত্বর একটি বড় পরিসরে কৃষক সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় বক্তারা সরকারের বিভিন্ন জনবান্ধব প্রকল্পের সুফল তুলে ধরেন। বিশেষ করে খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, নারীদের জন্য বিশেষ যানবাহন সুবিধা, কৃষক কার্ড বিতরণ এবং কৃষি ঋণ মওকুফের মতো উদ্যোগগুলো সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে বলে উল্লেখ করা হয়। বক্তারা বলেন, এসব কর্মসূচি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান বলেন, বর্তমান সরকার ঘোষিত সেবাগুলো সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও সাধারণ মানুষ যাতে এই সুযোগ-সুবিধাগুলো নির্বিঘ্নে পায়, আমরা সেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করছি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মামুন হাওলাদার, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী কাজী হোসেন আর রাফি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুক। এছাড়া জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নিবাস রঞ্জন দাস, জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু, সাংবাদিক অধ্যক্ষ শেরগুল আহমদ এবং সাংবাদিক পংকজ দে সভায় উপস্থিত থেকে গঠনমূলক আলোচনা করেন।
বক্তারা সরকারের এই বিশেষ প্রচার কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ডিজিটাল ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে এ ধরনের জনসম্পৃক্ততামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।