রফিকুজ্জামান, চাটখিল থেকে :
নোয়াখালীর চাটখিল পৌর শহরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ব্যবসায়ী খালেদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. খালেদ হোসেন জুয়েলকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অস্ত্র মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। মামলায় পুলিশ যে ২ জনকে সাক্ষী দেখিয়েছে, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না মর্মে আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে সাক্ষ্য দেন।
এরপরও মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। এ ব্যাপারে জুয়েল পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেও কোনো ফল পায়নি। গত শনিবার বিকেলে ব্যবসায়ী মো. খালেদ হোসেন জুয়েল চাটখিল প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের কাছে তাকে হয়রানির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তার গ্রামের বাড়ী খিলপাড়া ইউনিয়নের বৈকন্ঠপুরের প্রতিবেশী আমেরিকা প্রবাসী শাহাদাত হোসেন তুহিনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন থেকে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জের ধরে তুহিন বিভিন্ন সময় তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। গত ২০১৯ সালে তুহিন জুয়েলের বিরুদ্ধে ঢাকার কাপরুল থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। যা তদন্তে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হওয়ায় জুয়েল খালাস পায়।
বর্তমান বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি জুয়েল ঢাকার বারডেমে চিকিৎসাধীন তার শাশুড়ীকে দেখার জন্য আল বারাকা পরিবহনে রাত ৮ টায় চাটখিল থেকে রওনা হন। বাসটি সোনাইমুড়ি গেলে ডিবি পুলিশের এসআই আশিকুর রহমান জুয়েলকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে বলে তাকে বাস থেকে নামিয়ে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন তার ব্যাগে একটি দেশিয় অস্ত্র এবং ২টি কার্তুজ জব্দের নাটক সাজিয়ে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করে তাকে জেলহাজতে পাঠায়।
মামলায় সোনাইমুড়ি বাজারের ২ ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন ও ইমাম হোসেনকে সাক্ষী হিসেবে দেখানো হয়। ওই দুইজন গত ১৫ মার্চ এফিডেভিটের মাধ্যমে ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে গিয়ে এ ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানে না বলে সাক্ষ্য দেন। তারপরও মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি। জুয়েল অভিযোগ করে বলেন, তুহিন ডিবি পুলিশকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে আমাকে ফাঁসানোর জন্য এ নাটক সাজিয়েছে। ব্যবসায়ী জুয়েল এ হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন সব কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছেন।
উল্লেখ্য, জুয়েলকে অস্ত্র মামলায় হাজতে পাঠাসো সংবাদ পেয়ে ওই দিন ২৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সংসদ সদস্য এইচ এম ইব্রাহীম ঘটনা জানার পর ওই সময়ে তার ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন জুয়েলকে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে পুলিশ এই নাটক করেছে এবং তিনি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। জুয়েলকে গ্রেফতারের পরেরদিন খিলপাড়া এলাকায় কয়েক হাজার লোক তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।