রানা আহমেদ, কেরানীগঞ্জ থেকে :
ঢাকার কেরানীগঞ্জের অলি গলিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার গ্যারেজ। এসব গ্যারেজের অধিকাংশতেই ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয় বিদ্যুৎ চুরি করে। অভিযোগ আছে এ বিদ্যুৎ চুরির সঙ্গে জড়িত বিদ্যুৎ অফিসের লাইনম্যান, রিডারম্যানসহ অনেকেই। অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্যারেজগুলোতে রাতে মিটার টেম্পারিং করে বিদ্যুৎ চুরি করা হয়। এতে সরকারের লাখ লাখ টাকা প্রতি মাসে ক্ষতি হলেও পকেট ভরে কিছু লাইনম্যান ও রিডারম্যানের। অনেক গ্যারেজ থেকেই লাইনম্যান ও রিডারম্যানদের মাসিক মাসোয়ারা দেওয়া হয়। এর বিনিময়ে তারা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ পায়।চলতি ডিসেম্বর মাসের শুভাঢ্যা উত্তর পাড়া এলাকায় অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযানে যান পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা। অভিযানে জাভেদের অটোরিক্সার গ্যারেজের তিনটি মিটার টেম্পারিং এর দায়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্যারেজের আশেপাশের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে জাভেদের তিনটি মিটারের প্রত্যেকটিতে মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল আসতো। জাভেদ পল্লী বিদ্যুতের রিডার মো. ইকবালের মাধ্যমে তার মিটারগুলো টেম্পারিং করে। এতে তার বিল কমে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকার নিচে নেমে আসে। বিনিময়ে জাভেদ ইকবালকে এককালীন ৭০ হাজার টাকা ও প্রতিমাসে কিছু মাসোয়ার দেয়। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে জাভেদ ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ইকবাল জাভেদকে পুনরায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগের নিয়ে দেয়।
জাভেদের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, মিটার টেম্পারিংয়ের কারণে পল্লী বিদ্যুৎ আমার গ্যারেজের লাইন বিচ্ছিন্ন ও জরিমানা ধার্য করলে আমি ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ইকবাল আমাকে ৪৩ হাজার টাকা দেয়, তার সঙ্গে ৭ হাজার টাকা ভরে আমি ৫০ হাজার টাকা অফিসে জমা করি।
এ বিষয়ে ইকবালের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জাভেদের সঙ্গে কথা বলেন বলে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে আর ফোন রিসিভ করেননি। শুভাঢ্যা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৪ জোনাল অফিসের ডিজিএমের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, গ্রাহক মিটার টেম্পারিং করেছিল, পরে জরিমানা দিয়ে সংযোগ নিয়েছে। ইকবালের বিরুদ্ধে প্রমাণ সহ অভিযোগ পেলে তাকে বদলী করে দেওয়া হবে।