মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
বগুড়ার শিবগঞ্জে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম মাদ্রাসার ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গাজীপুরে ইমাম গ্রেপ্তার গাজীপুরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন ফুলবাড়িয়ায় সাদাময়না’কে নিয়ে বিপাকে কৃষক পাইকগাছায় অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন: আইনগত ব্যবস্থার দাবি সালথায় হত্যা মামলায় ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক গ্রেপ্তার জৈন্তাপুরে বাংলা টিভির এক দশক পুর্তী উদযাপন সালথার গট্টিতে আর মারামারী না করার দাবী জানিয়ে জাহিদ মাতুব্বরের সংবাদ সম্মেলন প্রতিটি পশুর হাটে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে ডিএমপি কমিশনার রাজাপুরে ভেকুর ধাক্কায় প্রাণ গেল এক ব্র্যাক কর্মীর মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে: ওসি আশরাফ রাজধানীর কল্যাণপুরে চালু হলো ‘স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট লালমনিরহাটে জেলা আ.লীগ নেতা জামিনে মুক্তি মিললেও জেলগেটেই ফের আটক ক্যান্সার ও প্যারালাইসিস আক্রান্ত অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াল পজেটিভ কাপ্তাই ঈদযাত্রার চাপে বাড়ছে ভোগান্তির শঙ্কা বিদেশে কর্মসংস্থান: রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় মানবসম্পদ রপ্তানির ধারণা — সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও বাংলাদেশের জন্য কর্মপরিকল্পনা ভাণ্ডারিয়ায় পৃথক অভিযানে গাঁজা গাছ ও ৯০ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার শিশুরা শিখবে আনন্দঘন পরিবেশে হেসে খেলে : ফলাফল ও পুরস্কার বিতরণীতে ফয়সল আহমদ শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জেলা প্রশাসকের নান্দাইলে অতিদরিদ্র সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান গাজীপুরে আগুনে পুড়ল ১১ ভাড়াটিয়ার ঘর, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে এমপি বাচ্চু তুরাগে বিএনপি নেতার ঈদ শুভেচ্ছা: দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মেধাবী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনায় অংশ নিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়ার শিবগঞ্জে গ্রাম পুলিশ ও নৈশ্যপ্রহরীদের মাঝে নগদ অর্থ ও পোশাক বিতরন জাহানারা লতিফ মোল্লা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘ভালোবাসার দোকান’ প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান আইইবি সেমিনারে বক্তারা শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে যশোরের আলোচিত চিকিৎসক ডা. রাফসান আটক আদালতে খালাস পেলেও চাকরি ফেরেনি শিক্ষক মিলনের, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর হলেন সিআইপি মাহবুব আলম লোহাগাড়ায় কোরবানির জন্য চাহিদার তুলনায় ৭ হাজার অতিরিক্ত প্রস্তুত রয়েছে ৩৭ হাজার পশু

হারাতে বসেছে ঐতিহ্য

অনলাইন ডেস্ক :
মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২০, ১২:১৯ অপরাহ্ন

মিলন হোসেন, বদলগাছী থেকে:
ষড়ঋতুর দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। বছরের এক এক সময়ে প্রতিটি ঋতুতে ভিন্ন এক রুপ ধারণ করে এদেশ। কালের পরিক্রমায় প্রতি বছর হাজির হয় শীত কাল। সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের প্রকৃতিক উপাদান নিয়ে হাজির হয় এই ঋতু। কিন্তু আজ হারাতে বসেছে গ্রাম বাংলার চিরচেনা অনেক রুপ । তার মধ্যে অন্যতম খেজুর গাছের রস এবং শীতের রসের পিঠা। নিকট অতীতেও শীতের শুরুতেই গ্রামগঞ্জের একশ্রেনির মানুষ ব্যস্থ থাকতো ‘গাছ ছিলানো’ (খেজুর গাছ এক বিশেষ ভাবে কেটে রস প্রাপ্তির উপযোগী করা) নিয়ে । খেজুর গাছ কাটার কাজে নিয়োজিতদের আঞ্চলিক ভাষায় বলা হয় ‘গাছি’।কে কার আগে খেজুর গাছ কেটে প্রকৃতির সেরা উপহার খেজুরের রস সংগ্রহ করতে পারে সেটা নিয়ে ছিল এক আনন্দময় প্রতিযোগিতা। খেজুরের রসে তৈরী নানা প্রকার পিঠা-পায়েস গ্রাম বাংলার মানুষের নবান্নের সেরা উপহার। খেজুরের রস দিয়ে তৈরী করা হতো পাটালী গুঁড়, মিঠাই সহ নানা রকমের মজার মজার খাবার। সময়ের পরিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও শীতের রসের পিঠা । খেজুর গাছ বিলুপ্তি হওয়ার কারণে খেজুরের রস বিক্রেতা ও গাছি সহ আরও যারা এ ধরনের মৌসুমী পেশার সঙ্গে জড়িত ছিল তারা আজ বাধ্য হয়ে অন্য পেশা বেছে নিচ্ছে। গ্রাম বাংলার মাঠে আর মেঠোপথের ধারে কোথাও কোথাও দু’একটি খেজুর গাছ দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হিসাবে।কয়েক বছর আগেও দেখা যেত গ্রাম বাংলার আনাছে কানাছে সারি সারি খেজুর গাছ। গাছিরা দিনের শুরু থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধারাল দা, মুগির প্রভৃতি একটি লম্বা ঝুড়িতে করে বেধে নিয়ে যেত খেজুর গাছ কাটার জন্য। ঘুরে বেড়াতো এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি। খুব ভোরে রস সংগ্রহ করে খেজুরের গুঁড় তৈরীর জন্য একত্রিত করত। সকাল থেকে দিনের অর্ধবেলা পর্যন্ত মা-বোনেরা সেই রস থেকে গুঁড় তৈরী করতো। আবার অনেক গাছি কুয়াশার ভেতরেই গ্রামীন পথ ধরে কাধে রসের ভার বহন করে হেঁটে চলত রস বিক্রির আশায়।
দিনের বেলায় পাখিরা রসের চুক্সিগতে বসে মনের সুখে রস খেয়ে উড়ে যেত। মৌঁমাছিও রসের আশায় ভোঁ-ভোঁ করে উড়ে বেড়াত। কোনো কোনো সময়ে দুষ্ট ছেলে-মেয়েরা চিকন পাইপ বা পাটকাটি দিয়ে অথবা গাছে অন্য উপায়ে হাড়ির রস গুলো খেয়ে পানি ভর্তি করে রেখে দিত। সে দৃশ্য দেখে মন জুড়িয়ে যেত সবার।প্রতি বাড়িতে সকাল বেলা খেজুরের রসের পায়েস তৈরী হতো। এখন অন্য অঞ্চল থেকে খেজুরের রস বিক্রি করতে আসলেও চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেশি।ছোট একটি রসের হাড়ির দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। আগে বিভিন্ন গ্রাম হতে গাছিরা আসত খুব ভোরে রস সংগ্রহ করে খেজুরের গুঁড় তৈরীর জন্য একত্রিত করত। সকাল থেকে দিনের অর্ধবেলা পর্যন্ত সেই রস থেকে গুঁড় তৈরী করতো এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই গুঁড় সরবরাহ করা হতো। সকাল হতেই দেখা মিলত শীতের রসের পিঠা বানানোর জন্য খেজুর রস সংগ্রহের ধুম।
এ সম্পর্কে জিয়ল (বালুপাড়া) গ্রামের সোহেল বলেল, আগে এই গামে অনেক খেজুর গাছ ছিল কিন্তু বর্তমানে তা হারিয়ে যাচ্ছে।তিনি আরও বলেন, এখন শীতের সময় খেজুরের রস নেই- এই কথাটি বিশ্বাস করতে পারছি না।এখন অনেকেই নামে গাছি হয়েছে কিন্তু তারা জানে না কিভাবে খেজুর গাছের রস কেটে বের করতে হয়। এ সম্পর্কে না জানার কারণে গাছের মাথা মরে যাচ্ছে, আবার গাছও মরে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এই খেজুর গাছের অস্তিত্ব আজ সঙ্কটের সম্মুখীন। যে হারে গাছ কাটা হয় সে তুলনায় কোনো খেজুর গাছ রোপণ করা হয় না। যার ফলে হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর গাছ এবং এর সঙ্গে জড়িত গ্রাম-বাংলার নানা ঐতিহ্যবাহী লোকাচার ও সংস্কৃতি। বদলগাছী উপজেলার আবুল কালাম আজাদ বলেন খেজুর গাছ জ্বালানি হিসাবে বা ঘরের খুঁটি হিসাবে ব্যবহারের কারণে প্রায় খেজুরের গাছ কেঁটে ফেলা হচ্ছে।এছাড়াও গাছ অপেক্ষাকৃত সস্তা দামে পাওয়া যায় বলে ইট ভাটায় এর চাহিদা বেশি। কেননা, খেজুরের গাছে পোড়ানো ইটের রং গাঢ় হয়। বিভিন্ন কারণে দিন দিন খেজুর গাছ বিলুপ্তি হওয়ায় খেজুরের রস ও খেজুর গাছের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।


এই বিভাগের আরো খবর