ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার অজুহাতে ভোজ্য তেলের দাম লিটারে ১২ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। তেলের সঙ্গে চাল, পেঁয়াজের দামও বাড়তে শুরু করেছে। গত কয়েকদিনে চালের দাম কেজিতে বেড়েছে দেড় থেকে দুই টাকা। পেঁয়াজের দামও চড়া।
বুধবার রাজধানীর একাধিক এলাকায় ঘুরে ও খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, খুচরা ব্যবসায়ীরা ভিন্ন ভিন্ন দরে ভোজ্য তেল বিক্রি করছেন। কেউ তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা শুনেই বাড়তি দামে তেল বিক্রি শুরু করেন। আবার কেউ এখনও আগের দামেই বিক্রি করছেন কারণ, তাদের কেনা কম দামে। ফলে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতিলিটার ১৪২ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
চালের দামও এখন একটু চড়া জানিয়ে এই মুদি ব্যবসায়ী বলেন, ঈদের পর মিনিকেট চাল কেজিতে ৫ টাকা কমেছিল। ৬৩ টাকার মিনিকেট চাল তখন ৫৮ টাকায় বিক্রি করেছি। গতকাল থেকে দাম আবার বাড়তির দিকে। কেজিতে দেড়-দুই টাকা বেড়েছে। এছাড়া কাজল লতা চাল ৫২ টাকা, পাইজাম ৫০ টাকা, নাজির ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দামও কেজিতে দুই-তিন টাকা বেড়েছে। তবে আদা-রসুন আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। আদা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা আর দেশি রসুন ৬০ টাকা, আমদানি রসুন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুগদা বাজারের সামনে ভ্যানে পেঁয়াজ বিক্রি করছিলেন শাহজাহান মিয়া। তিনি জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ হবে পেঁয়াজ ৪৩ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করছি। গতকাল থেকে বিক্রি করছি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। বাছাই করা ভালো বড় সাইজের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।
মুগদার সবজি বিক্রেতা মিজান বলেন, সবজির দাম বাড়া-কমার মধ্যেই থাকে। তবে এখনও আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ সবজিই ৫০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি ঝিঙে ও চিচিঙ্গা, ধুন্দল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, কচুর লতি, বরবটি ৬০ টাকা। কাকরোল ৬০ টাকা। বেগুন, পটোল, করলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। পেঁপে ও ঢ্যাঁড়স ৪০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা, আলু ২০ থেকে ২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ ও চালকুমড়া আকার ভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
লেবু হালিপ্রতি আকার ভেদে ১৫-২০ টাকা, কাঁচামরিচ কেজি ৬০ টাকা, ধনিয়া পাতা ও পুদিনা পাতা ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পুঁইশাক, লাউশাক, কলমি শাক, ডাটাশাক, লালশাক ও পাটশাক আঁটিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়।
কমলাপুর কাঁচা বাজারে সালাম নামে এক ক্রেতা বলেন, দাম বাড়ার খবর শুনলে বিক্রেতারা উৎসাহ নিয়ে দাম বাড়িয়ে দেন। কমলে নানা গড়িমসি শুরু করেন। তেলের দাম বাড়ানোর খবর শুনেই দাম বেড়ে গেছে। দেড়শ টাকার বেশি দামে সয়াবিন তেল কিনতে হবে চিন্তাও করিনি। এভাবে সব পণ্যের দামই বেড়ে একের পর এক রেকর্ড করছে। আমরাও বাধ্য হয়ে কিনছি। আমাদের কি কিছু করার আছে? সরকার ব্যবসায়ীদের পক্ষে। তারা যা বলবে তাই হবে। আমাদের কথার কোনো মূল্য নেই।
এদিকে আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে মাছ। রোববার প্রতি কেজি রুই, কাতলা ২৫০-৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০-১৬০, আইড় ৪০০-৫০০ টাকা, মেনি মাছ ৩০০-৩৫০, বাইলা মাছ প্রকার ভেধে ৩০০-৫০০ টাকা, বাইন মাছ ৩০০-৪০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৬০০-৮০০ টাকা, পুঁটি ২৮০-৩০০ টাকা, পোয়া ৩০০-৪০০ টাকা, মলা ২৮০-৩৬০ টাকা, পাবদা ২৫০-৩৫০ টাকা, বোয়াল ৪০০-৫০০ টাকা, শিং ও দেশি মাগুর ৪০০-৫০০, শোল মাছ ৪০০-৫০০ টাকা, টাকি মাছ ৩০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৪০-১৬০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়।
জানা গেছে, গত মাসে ৫ টাকা দর বাড়ানোর পর আবার ৩ টাকা কমানোর কথা জানায় তেল পরিশোধন ও বিপণনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। তখন প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৪১ টাকা মূল্য ঠিক করা হয়। এই দামেই তেল বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু বিশ্ব বাজারে দাম বাড়ার অজুহাতে বৃহস্পতিবার (২৭ মে) ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। এক লাফে লিটারপ্রতি ১২ টাকা বাড়ানো হয় তেলের দাম। প্রতিলিটার বোতলজাত তেল ১৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১২৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া পাঁচ লিটারের এক বোতল তেল পাওয়া যাবে ৭২৮ টাকায়। পাম সুপার তেল ১১২ টাকা দর নির্ধারণ করা হয়েছে।