ফেনী জেলার দাগনভূঞা থানার পূর্ব রামচন্দ্রপুর গ্রামের আবুল কাওসার বাবুল। ঢাকায় ছোটখাটো ব্যবসা করেন। ২০১৬ সালের আগে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ঋণ নেন ৭০ হাজার টাকা। ঋণ কিস্তিতে পরিশোধ করতে থাকেন। বিভিন্ন তারিখে কিস্তিতে ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু ব্যবসায় সফল না হওয়ায় একসময় কিস্তি দেওয়া বন্ধ হয়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কিস্তি পরিষদের পর বাকি টাকা আদায়ের জন্য ঢাকার অর্থ ঋণ আদালত-৩ এ মামলা দায়ের করেন। ২০১৭ সালে মামলার রায় হয়। মামলা সম্পর্কে আবুল কাওসার কিছুই জানেন না। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা আদায়ের জন্য ডিক্রীজারি মামলা করেন। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলা সম্পর্কে জানার পর, আবুল কাওসার আদালতে হাজির হন। মামলার নথি থেকে দেখা যায় তাকে এক লাখ তিন হাজার ৮১৬ টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আবুল কায়সার ঢাকা আইনজীবী সমিতির পূবালী ব্যাংকের শাখায় ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ ২৬ হাজার টাকা জমা দেন। তারপর তাকে আদালত জামিন দেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর আদালতের রায় অনুযায়ী ডিক্রীকৃত বাকি ৭৭ হাজার ৮১৬ টাকা জমা দেন। আবুল কাওসার মনে করেছিলেন, রায় অনুযায়ী সমস্ত টাকা পরিশোধ করায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে নেবে ব্যাংক। কিন্তু কিছুদিন পরে তিনি জানতে পারেন তার বিরুদ্ধে আবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আবুল কাওসার বাবুলের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। রায় অনুযায়ী সব টাকা পরিশোধের পরও আবার কেন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ঘুরতে হবে তাকে। এরপর হয়রানির শিকার হন তিনি। তিনি জানান, ইস্টার্ন ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন। তারা তাকে ব্যাংকে যেতে বলেন। এ বছর ২৭ এপ্রিল আবুল কাওসার ইস্টার্ন ব্যাংকের গুলশানের প্রধান কার্যালয়ে যান। সঙ্গে অতিরিক্ত সুদ মওকুফের একটি আবেদন নিয়ে যান।
ওখানে যাওয়ার পর ইস্টার্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা আবুল কায়সার বাবুলকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ তাকে আদালতে পাঠান ২৮ এপ্রিল। আদালতে নেওয়ার পর তিনি জানতে পারেন তাকে আরো ১ লাখ ১৭ হাজার ১০০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। বাধ্য হয়ে তিনি ঢাকা আইনজীবী সমিতির পূবালী ব্যাংকের শাখায় এক লাখ ৭০ হাজার ১০০ টাকা জমা দেন। টাকা জমা দেওয়ার ব্যাংক রশিদ দাখিল করার পর আদালত তাকে মুক্তি জামিন দেন। আবুল কাওসার বলেন, ‘৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ৫৫ হাজার টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করেছিলাম। বাকি টাকা পরিশোধ না করায় আদালতে মামলা হয়। আদালতের রায় ও ডিক্রী অনুযায়ী আমি ১ লাখ ৩ হাজার টাকা পরিশোধ করি। তারপর আবার ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা দিতে হল এটা অমানবিক আদেশ।’ আবুল কাওসার আরো বলেন, শুধু টাকা দেওয়া নয় এজন্য তাকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে। তার সঙ্গে চরম খারাপ আচরণ করেছে।
ঢাকার আইনজীবী সঞ্জীব কুমার দাস বলেন, আদালতের রায় অনুযায়ী একলাখ তিন হাজার টাকা পরিশোধ করার পর ব্যাংকের উচিত ছিল মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া। কিন্তু সেটা না করে আদালতে মামলা চলাকালীন ব্যাংকের খরচ ও মামলা চলাকালীন যে সুদ হয়েছে সেটা নিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এটা অতিরিক্ত নিয়েছে। ব্যাংকের ঋণের ফাঁদে পড়লে গ্রাহককে সর্বস্ব হারাতে হয় ইস্টার্ন ব্যাংক সেটা প্রমাণ করে দিয়েছে আবুল কাওসারের ঋণের টাকা আদায়ের মাধ্যমে।