ঢাক প্রতিদিন অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক : ইতালির মিলান নগরীতে বুধবার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা: সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক একটি ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি সপ্তাহ’ পালনের অংশ হিসেবে এই ফোরামে বাংলাদেশ ও ইতালির উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী বিশ্লেষক, শিক্ষাবিদ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পশ্চিম), শাব্বির আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি’ হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে এবং একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হচ্ছে, তখন সারা বিশ্বে কর্মরত কূটনীতিকদেরকে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের সামনে দেশের প্রকৃত সম্ভাবনা তুলে ধরার দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিরাপত্তার মূল লক্ষ্য অর্জনের জন্য দেশের শিল্পের ভিত্তি সম্প্রসারিত করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই যার জন্য বিনিয়োগ আকর্ষণ করা অপরিহার্য।তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগামী বছরগুলোতে উদ্ভাবনী অর্থনৈতিক কূটনীতি কর্মসূচি প্রণয়ন করবে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সেলিম রায়হান ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ এবং ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার উন্নতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।তিনি বলেন, অবকাঠামো এবং সরবরাহের বিষয়ে যথাযথ মনোযোগ দিয়ে ব্যবসায় খাতে নন-ট্যারিফ বাধা দূর করতে হবে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউ’র বাণিজ্যের অফুরন্ত সুযোগ রয়েছে যা বাংলাদেশের পণ্য বৈচিত্র্যকরণে অবদান রাখতে পারে। তিনি ইতালীয়দের বিশেষ করে মিলান ভিত্তিক ফ্যাশন ইনস্টিটিউটগুলোকে বাংলাদেশে মানসম্পন্ন কাপড় উৎপাদন এবং উন্নত দেশের বাজারে ভালোমানের পোশাক রপ্তানির জন্য বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের একটি টেকসই ফ্যাশন কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার সব সম্ভাবনা রয়েছে।মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ-ইইউ পারস্পরিক বাণিজ্যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রয়েছে। তিনি মিলান ও ঢাকার মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম উল্লেখ করেন, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশকে এর উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য মনে করতে পারে।
ইইউ থেকে আসা বিনিয়োগের পরিমাণ এখনও খুবই নগণ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইইউ দেশগুলোর বিনিয়োগের জন্য একটি বিশাল অব্যবহৃত বাজার রয়েছে।তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীরা যেসব প্রাথমিক জটিলতার সম্মুখীন হয় সেগুলো কাটিয়ে উঠলে মুনাফা লাভ করা সহজ।
ড. মোয়াজ্জেম বলেন, ভারত, চীন এবং জাপানের মতো, ইইউ দেশগুলোর বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে নিবেদিত এলাকা থাকতে পারে।সম্মানিত অতিথি হিসেবে, আন্ডার সেক্রেটারি অফ রিজিয়নের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অ্যালান ক্রিশ্চিয়ান রিজি ফোরাম অনুষ্ঠানের জন্য এবং তার অফিসে সম্পৃক্ত থাকার জন্য বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রশংসা করেন।তিনি আশ্বাস দেন, ফোরামে উত্থাপিত প্রাসঙ্গিক ব্যবসায়িক বিষয়গুলো বিশেষ করে ফ্যাশন ও টেক্সটাইল সম্পর্কিত যৌথ উদ্যোগে তার অফিস খোজ-খবর নিবে এবং মিলানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মিলানের বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল এম জে এইচ জাবেদ।
ঢাক প্রতিদিন/এআর