গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিচারপ্রাপ্তি সহজীকরণ এবং কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রোববার (১৪ জুন) সকাল ১১টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে “গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিকল্পনা প্রণয়নে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা” শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের উদ্যোগে এবং গজারিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গজারিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা: হামিদা মুস্তফা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা গ্রাম আদালত সমন্বয়কারী মো. কামরুল হাসান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন, উপজেলা সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, উন্নয়নকর্মী এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হামিদা মুস্তফা বলেন, গ্রাম আদালতকে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় পর্যায়ে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করে তুলতে ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে সামনের দিনগুলোতে মামলা গ্রহণ ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় হতে হবে। তিনি বলেন, “ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ স্বল্প সময়ে এবং অল্প খরচে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব। এজন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালত ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা গেলে একদিকে যেমন উচ্চ আদালতের মামলার জট কমবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সহজ ও নিশ্চিত হবে।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, “স্বল্প সময়ে, অল্প খরচে—চলো যাই গ্রাম আদালতে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে গ্রাম আদালতের বিচারিক সেবা সম্পর্কে আরও ব্যাপক প্রচার ও সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সংস্কৃতি গড়ে উঠবে এবং জনগণের আদালতমুখী হওয়ার প্রবণতাও কমবে।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে গ্রাম আদালতের সেবা সম্প্রসারণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে তৃণমূল পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।